শিরোনাম
বিপাকে পূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী

চাকরিচ্যুত কর্মীকে ১৯ লক্ষ টাকা বেতন পরিশোধ

চাকরিচ্যুত কর্মীকে ১৯ লক্ষ টাকা বেতন পরিশোধ
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

এক চাকরিচ্যুত উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় বিপাকে পড়েছেন পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। পরে টাকা ফেরত চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চিঠির ভিত্তিতে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে চিঠি দেন অর্থ ছাড় করা নির্বাহী প্রকৌশলী।

দপ্তরসংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, পাবনা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. শাহীন উদ্দিন ও মো. ফজলে হক অসদাচরণের অভিযোগে দীর্ঘদিন সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পৃথক আদেশে তাদের বাধ্যতামূলক অবসর দেয়।

এরপর শাহীন উদ্দিন বকেয়া বেতন-ভাতার আবেদন করলে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবির তা সুপারিশসহ জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসে পাঠান। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর শাহীন উদ্দিনকে ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৪২ টাকা পরিশোধ করা হয়।

পরে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে গণপূর্ত অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের (সিএএফও) মতামত চায়। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দেওয়া মতামতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্তকালীন পূর্ণ বেতন বা ছুটি নগদায়নের সুবিধা পাওয়ার অধিকারী নন। এরপর প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নির্দেশে নির্বাহী প্রকৌশলী শাহীন উদ্দিনকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা দিতে নোটিশ দেন।

সরকারি আদেশ না মেনে অপর এক চিঠিতে শাহীন উদ্দিন দাবি করেন, তিনি গোপনে টাকা উত্তোলন করেননি। নির্বাহী প্রকৌশলীর সুপারিশেই জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিস থেকে অর্থ পেয়েছেন। সাত বছর সাময়িক বরখাস্ত থাকায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং প্রাপ্ত অর্থ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে। বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলাও করেছেন।

এই সার্বিক বিষয়টি সমন্বয় করছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) স্বপন চাকমা। শনিবার (১১ জুলাই) রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘এ ধরনের বিষয় আগে থেকে বোঝার সুযোগ থাকে না। বিভিন্ন ডিডিওর (ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার) অনুকূলে আগে থেকেই বাজেট বরাদ্দ থাকে। সেই বরাদ্দকৃত অর্থ থেকেই পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ওই দুই কর্মকর্তার বেতন পরিশোধ করেছেন। পরে মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়ার পর তাকে ওই টাকা সংশ্লিষ্ট দুই প্রকৌশলীর কাছ থেকে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি টাকা আদায় সম্ভব না হয়, তাহলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবিরের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত জানতে চেয়ে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

/এসএ/