শিরোনাম

ইরানের বন্দর অবরোধ করে জুয়া খেলছে যুক্তরাষ্ট্র

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানের বন্দর অবরোধ করে জুয়া খেলছে যুক্তরাষ্ট্র
এআই দিয়ে তৈরি। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অবরোধ এখন এক নিশ্ছিদ্র ও কঠোর রূপ ধারণ করেছে। ফলে একটি পণ্যবাহী জাহাজও তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না বলে দাবি করেছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এর আগে একটি জাহাজ অবরোধের বেষ্টনী গলিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও সেন্টকমের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, জাহাজটি মূলত কেবল প্রণালির ভৌগোলিক সীমানায় প্রবেশ করতে পেরেছে এবং বর্তমানে অবরোধের ঠিক সামনে সমুদ্রের মাঝপথে আটকা পড়ে আছে।

সেন্টকমের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, মার্কিন রণতরীগুলোর নির্দেশ পাওয়ার পর ইতোমধ্যে অন্তত ৬টি বিশাল জাহাজ তাদের পথ পরিবর্তন করে পূর্বের অবস্থানে ফিরে গেছে। এ কঠোর অবরোধ কার্যক্রম সফল করতে পেন্টাগন ওই এলাকায় এক বিশাল নৌবহর ও জনবল মোতায়েন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে এক ডজনেরও বেশি অত্যাধুনিক রণতরী, কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান এবং প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি সামরিক সদস্য। এই বিশাল বাহিনীতে নৌসেনা ও বিমানসেনাদের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে দুর্ধর্ষ মেরিন সদস্যদেরও, যারা অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে অবরোধের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করছেন।

বিশাল সামরিক আয়োজন যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাও বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে, কারণ বেইজিংয়ের মোট অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মেটানো হয় ইরান থেকে আমদানি করা তেল দিয়ে। দীর্ঘমেয়াদী এ অবরোধের ফলে চীন কি শেষ পর্যন্ত ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসতে চাপ দেবে, নাকি ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে কূটনৈতিক পাল্টা ব্যবস্থা নেবে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি একটি বিশাল ভূ-রাজনৈতিক জুয়ায় পরিণত হয়েছে। অবরোধ যত দীর্ঘ হবে, বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব ততটাই গভীর ও ভয়াবহ হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/