শিরোনাম

মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ
তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসায় যান। বিষয়টি জানতে পেরে চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন জুলাই যোদ্ধা বলে পরিচয় দেওয়া একদল লোক। হাসনাত ওই বাসা থেকে বের হলে তাকে ঘিরে এক ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন লোকেরা।

জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া লোকেরা হাসনাতের কাছে চান, কেন তিনি স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করতে এসেছেন। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন, আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ কথা বলেন উপস্থিত লোকদের সঙ্গে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন এই সংসদ সদস্য।

এম মনজুর আলমের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় আওয়ামী লীগের মাধ্যমে। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন এবং টানা চারবার চসিকের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তৎকালীন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হলে এম মনজুর আলম প্রায় দুই বছর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১০ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন মনজুর আলম। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।

তবে ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনের দিনই কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন এবং রাজনীতি থেকে স্থায়ী অবসরের ঘোষণা দেন।

যদিও পরবর্তীতে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা যায়। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন। সবশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর কখনো বিএনপি কখনো এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন মনজুর আলম।

/টিই/