যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক প্রকাশ, কে কী পেলো

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক প্রকাশ, কে কী পেলো
সিজেডএন ডেস্ক

অবশেষে দীর্ঘ তিন মাসের অধিক সময় ধরে চলতে থাকা সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উভয় দেশ। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে এই চুক্তিতে সই করেছেন দেশ দুটির প্রতিনিধিরা।
বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চুক্তিটির খসড়া প্রকাশ করেছেন। এর আগে চুক্তির বিষয় প্রকাশ না করায় অনেকেই সমালোচনা করেছিল।
এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করবে। এছাড়া সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা (ইরান) যে এতে রাজি হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিশাল বিজয়।’
এটাকে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নাম দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে নিচের বিষয়গুলোতে সম্মত হয়েছে-
১. যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ ঘোষণা করতে এই এমওইউতে স্বাক্ষর করছে। এখন থেকে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান শুরু করবে না। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা হুমকি দেওয়া থেকেও বিরত থাকবে। একইসঙ্গে তারা লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানও সেখানে নিশ্চিত করা হবে।
২. যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভোগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানাবে। তারা একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
৩. উভয় দেশ সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার করছে। তবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
৪. এই এমওইউ সই হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র তার নৌ অবরোধ তুলে নিতে শুরু করবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে থাকা যেকোনো বাধা দূর করবে। ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেবে। আলোচনা চলাকালীন ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করবে। চূড়ান্ত চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের নিকটবর্তী এলাকা থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে।
৫. এমওইউ সই হওয়ার পর আলোচনা চলাকালীন (৬০ দিন) ইরান বিনা শুল্কে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করবে। অবিলম্বে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে। এছাড়া কারিগরি ও সামরিক বাধা অপসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ৩০ দিনের মধ্যে ইরান হরমুজে পুতে রাখা মাইন অপসারণ করবে। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং হরমুজ উপকূলীয় দেশগুলোর সার্বভৌম অধিকার বজায় রেখে ভবিষ্যতে প্রণালিটি কীভাবে পরিচালনা করা হবে বা সেখানে কীভাবে নৌ পরিষেবা দেওয়া হবে, তা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করবে ইরান। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করবে তারা।
৬. যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার ব্যয়ে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ৬০ দিনের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের লাইসেন্স, ছাড় ও অনুমতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
৭. চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও আইএইএ বোর্ড অব গভর্নরসের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে দেওয়া সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হবে। উভয় দেশ এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত গুরুত্ব স্বীকার করে এসব বিষয়ে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করবে।
৮. ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরি করবে না এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্পরিক সম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিষ্পত্তির বিষয়ে একমত হয়েছে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে ৬০ দিনের মধ্যে এটা করা হবে। আইএইএর তত্ত্বাবধানে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নির্ধারিত স্থানেই নিষ্ক্রিয় (ডাউন ব্লেন্ড) করা হবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে সম্মত হওয়া একটি সন্তোষজনক কাঠামোর ভিত্তিতে দুই পক্ষ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা করবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে এই অনুচ্ছেদের বিধানগুলো নিশ্চিত করা হবে। পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাতে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে অবিলম্বে এসব ইস্যু সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
৯. চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমান অবস্থান বজায় রাখবে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থানও ধরে রাখবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং এই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করবে না।
১০. এমওইউ সই হওয়ার পরপরই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানিতে ছাড় দেবে। এই ছাড়পত্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর আওতায় ব্যাংকিং লেনদেন, বিমা, পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক সব সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
১১. এমওইউ বাস্তবায়ন সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ থাকা বা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তহবিল ও সম্পদ ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেবে। চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে সমঝোতা আলোচনার সময় তারা এই তহবিল ছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্তে আসবে। এই তহবিলগুলো মূল অ্যাকাউন্টে ফিরিয়ে দেওয়া বা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর যেটাই করা হোক না কেন, সেগুলো ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে কোনো সুবিধাভোগীকে দিতে পারবে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স ও অনুমোদন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
১২. এমওইউর সফল বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত চুক্তির ভবিষ্যৎ শর্তাবলী মানার বিষয়টি তদারকির জন্য একটি নির্বাহী ব্যবস্থা গঠন করতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।
১৩. এই এমওইউ সই হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সমঝোতা স্মারকের ১, ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর অনুচ্ছেদের বাস্তবায়ন শুরু করা এবং তা অব্যাহত রাখতে বাধ্য থাকবে। সেই সঙ্গে দুই পক্ষ চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করবে, যা এই এমওইউর অন্য অনুচ্ছেদগুলোর ওপর ভিত্তি করেই হবে।
১৪. চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে।
সূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা, রয়টার্স

অবশেষে দীর্ঘ তিন মাসের অধিক সময় ধরে চলতে থাকা সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উভয় দেশ। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে এই চুক্তিতে সই করেছেন দেশ দুটির প্রতিনিধিরা।
বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চুক্তিটির খসড়া প্রকাশ করেছেন। এর আগে চুক্তির বিষয় প্রকাশ না করায় অনেকেই সমালোচনা করেছিল।
এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করবে। এছাড়া সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা (ইরান) যে এতে রাজি হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিশাল বিজয়।’
এটাকে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নাম দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে নিচের বিষয়গুলোতে সম্মত হয়েছে-
১. যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ ঘোষণা করতে এই এমওইউতে স্বাক্ষর করছে। এখন থেকে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান শুরু করবে না। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা হুমকি দেওয়া থেকেও বিরত থাকবে। একইসঙ্গে তারা লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানও সেখানে নিশ্চিত করা হবে।
২. যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভোগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানাবে। তারা একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
৩. উভয় দেশ সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার করছে। তবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
৪. এই এমওইউ সই হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র তার নৌ অবরোধ তুলে নিতে শুরু করবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে থাকা যেকোনো বাধা দূর করবে। ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেবে। আলোচনা চলাকালীন ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করবে। চূড়ান্ত চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের নিকটবর্তী এলাকা থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে।
৫. এমওইউ সই হওয়ার পর আলোচনা চলাকালীন (৬০ দিন) ইরান বিনা শুল্কে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করবে। অবিলম্বে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে। এছাড়া কারিগরি ও সামরিক বাধা অপসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ৩০ দিনের মধ্যে ইরান হরমুজে পুতে রাখা মাইন অপসারণ করবে। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং হরমুজ উপকূলীয় দেশগুলোর সার্বভৌম অধিকার বজায় রেখে ভবিষ্যতে প্রণালিটি কীভাবে পরিচালনা করা হবে বা সেখানে কীভাবে নৌ পরিষেবা দেওয়া হবে, তা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করবে ইরান। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করবে তারা।
৬. যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার ব্যয়ে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ৬০ দিনের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের লাইসেন্স, ছাড় ও অনুমতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
৭. চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও আইএইএ বোর্ড অব গভর্নরসের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে দেওয়া সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হবে। উভয় দেশ এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত গুরুত্ব স্বীকার করে এসব বিষয়ে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করবে।
৮. ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরি করবে না এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্পরিক সম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিষ্পত্তির বিষয়ে একমত হয়েছে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে ৬০ দিনের মধ্যে এটা করা হবে। আইএইএর তত্ত্বাবধানে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নির্ধারিত স্থানেই নিষ্ক্রিয় (ডাউন ব্লেন্ড) করা হবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে সম্মত হওয়া একটি সন্তোষজনক কাঠামোর ভিত্তিতে দুই পক্ষ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা করবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে এই অনুচ্ছেদের বিধানগুলো নিশ্চিত করা হবে। পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাতে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে অবিলম্বে এসব ইস্যু সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
৯. চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমান অবস্থান বজায় রাখবে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থানও ধরে রাখবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং এই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করবে না।
১০. এমওইউ সই হওয়ার পরপরই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানিতে ছাড় দেবে। এই ছাড়পত্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর আওতায় ব্যাংকিং লেনদেন, বিমা, পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক সব সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
১১. এমওইউ বাস্তবায়ন সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ থাকা বা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তহবিল ও সম্পদ ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেবে। চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে সমঝোতা আলোচনার সময় তারা এই তহবিল ছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্তে আসবে। এই তহবিলগুলো মূল অ্যাকাউন্টে ফিরিয়ে দেওয়া বা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর যেটাই করা হোক না কেন, সেগুলো ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে কোনো সুবিধাভোগীকে দিতে পারবে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স ও অনুমোদন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
১২. এমওইউর সফল বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত চুক্তির ভবিষ্যৎ শর্তাবলী মানার বিষয়টি তদারকির জন্য একটি নির্বাহী ব্যবস্থা গঠন করতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।
১৩. এই এমওইউ সই হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সমঝোতা স্মারকের ১, ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর অনুচ্ছেদের বাস্তবায়ন শুরু করা এবং তা অব্যাহত রাখতে বাধ্য থাকবে। সেই সঙ্গে দুই পক্ষ চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করবে, যা এই এমওইউর অন্য অনুচ্ছেদগুলোর ওপর ভিত্তি করেই হবে।
১৪. চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে।
সূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা, রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক প্রকাশ, কে কী পেলো
সিজেডএন ডেস্ক

অবশেষে দীর্ঘ তিন মাসের অধিক সময় ধরে চলতে থাকা সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উভয় দেশ। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে এই চুক্তিতে সই করেছেন দেশ দুটির প্রতিনিধিরা।
বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চুক্তিটির খসড়া প্রকাশ করেছেন। এর আগে চুক্তির বিষয় প্রকাশ না করায় অনেকেই সমালোচনা করেছিল।
এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করবে। এছাড়া সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা (ইরান) যে এতে রাজি হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিশাল বিজয়।’
এটাকে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নাম দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে নিচের বিষয়গুলোতে সম্মত হয়েছে-
১. যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ ঘোষণা করতে এই এমওইউতে স্বাক্ষর করছে। এখন থেকে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান শুরু করবে না। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা হুমকি দেওয়া থেকেও বিরত থাকবে। একইসঙ্গে তারা লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানও সেখানে নিশ্চিত করা হবে।
২. যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভোগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানাবে। তারা একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
৩. উভয় দেশ সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার করছে। তবে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
৪. এই এমওইউ সই হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র তার নৌ অবরোধ তুলে নিতে শুরু করবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে থাকা যেকোনো বাধা দূর করবে। ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেবে। আলোচনা চলাকালীন ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করবে। চূড়ান্ত চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের নিকটবর্তী এলাকা থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে।
৫. এমওইউ সই হওয়ার পর আলোচনা চলাকালীন (৬০ দিন) ইরান বিনা শুল্কে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করবে। অবিলম্বে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে। এছাড়া কারিগরি ও সামরিক বাধা অপসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ৩০ দিনের মধ্যে ইরান হরমুজে পুতে রাখা মাইন অপসারণ করবে। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং হরমুজ উপকূলীয় দেশগুলোর সার্বভৌম অধিকার বজায় রেখে ভবিষ্যতে প্রণালিটি কীভাবে পরিচালনা করা হবে বা সেখানে কীভাবে নৌ পরিষেবা দেওয়া হবে, তা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করবে ইরান। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করবে তারা।
৬. যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার ব্যয়ে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ৬০ দিনের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের লাইসেন্স, ছাড় ও অনুমতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
৭. চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও আইএইএ বোর্ড অব গভর্নরসের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে দেওয়া সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হবে। উভয় দেশ এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত গুরুত্ব স্বীকার করে এসব বিষয়ে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করবে।
৮. ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরি করবে না এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্পরিক সম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিষ্পত্তির বিষয়ে একমত হয়েছে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে ৬০ দিনের মধ্যে এটা করা হবে। আইএইএর তত্ত্বাবধানে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নির্ধারিত স্থানেই নিষ্ক্রিয় (ডাউন ব্লেন্ড) করা হবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে সম্মত হওয়া একটি সন্তোষজনক কাঠামোর ভিত্তিতে দুই পক্ষ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা করবে। চূড়ান্ত চুক্তিতে এই অনুচ্ছেদের বিধানগুলো নিশ্চিত করা হবে। পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাতে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে অবিলম্বে এসব ইস্যু সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
৯. চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমান অবস্থান বজায় রাখবে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থানও ধরে রাখবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং এই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করবে না।
১০. এমওইউ সই হওয়ার পরপরই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানিতে ছাড় দেবে। এই ছাড়পত্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর আওতায় ব্যাংকিং লেনদেন, বিমা, পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক সব সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
১১. এমওইউ বাস্তবায়ন সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ থাকা বা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তহবিল ও সম্পদ ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেবে। চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে সমঝোতা আলোচনার সময় তারা এই তহবিল ছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্তে আসবে। এই তহবিলগুলো মূল অ্যাকাউন্টে ফিরিয়ে দেওয়া বা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর যেটাই করা হোক না কেন, সেগুলো ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে কোনো সুবিধাভোগীকে দিতে পারবে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স ও অনুমোদন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
১২. এমওইউর সফল বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত চুক্তির ভবিষ্যৎ শর্তাবলী মানার বিষয়টি তদারকির জন্য একটি নির্বাহী ব্যবস্থা গঠন করতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।
১৩. এই এমওইউ সই হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সমঝোতা স্মারকের ১, ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর অনুচ্ছেদের বাস্তবায়ন শুরু করা এবং তা অব্যাহত রাখতে বাধ্য থাকবে। সেই সঙ্গে দুই পক্ষ চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করবে, যা এই এমওইউর অন্য অনুচ্ছেদগুলোর ওপর ভিত্তি করেই হবে।
১৪. চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে।
সূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা, রয়টার্স

যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের বিজয়ই আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে: গালিবাফ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে উভয় সংকটে নেতানিয়াহু
ট্রাম্পের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ভিডিও প্রকাশ করলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক কোথায়, কারা স্বাক্ষর করবেন
