শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক কোথায়, কারা স্বাক্ষর করবেন

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক কোথায়, কারা স্বাক্ষর করবেন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা

দীর্ঘ তিন মাসের অধিক সময় ধরে চলা সংঘাত ও উত্তেজনার পর অবশেষে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত সোমবার (১৬ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেন। এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এর খুঁটিনাটি

স্বাক্ষরের তারিখ: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থান: সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুসারে, অনুষ্ঠানটি লুসার্নের নিকটবর্তী বার্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হবে।

স্বাক্ষর করবেন যারা: মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প, ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইতিমধ্যেই ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, ভ্যান্স লিখিত দলিলে স্বাক্ষর করবেন, অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যম বলছে, গালিবাফ ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

যা আছে দলিলে: কোনো পক্ষই এর আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। কিন্তু মার্কিন ও সৌদি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে এটি একটি ১৪-দফা স্মারকলিপি। যেখানে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ চুক্তিতে কী কী শর্ত থাকছে সে বিষয় ফাঁস করে দিয়েছে। তারা ১২টি শর্ত প্রকাশ করেছে। শর্তগুলো হলো:

  • লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই যুদ্ধ বা শত্রুতামূলক আচরণ বন্ধ করবে।
  • ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা তা সংগ্রহ করবে না বলে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
  • ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত সরিয়ে ফেলার বিষয়ে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
  • ওয়াশিংটন ও তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক চাহিদার বিষয়ে আলোচনা করবে।
  • আলোচনা চলাকালীন ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে বর্তমান পরিস্থিতি (স্ট্যাটাস কু) বজায় রাখবে।
  • চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে যতদিন আলোচনা চলবে, ততদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না। পাশাপাশি এই অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি আর বাড়াবে না।
  • আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর বিনামূল্যে ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ইরান।
  • সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়িত হওয়ার পরপরই আটকে রাখা ইরানি অর্থ বা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
  • চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করবে এবং ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করবে।
  • যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির মধ্যে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
  • আলোচনা চলাকালীন ইরানের তেল বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে তেহরানকে নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখবে।
  • নৌ-চলাচল এবং সামুদ্রিক সেবার নিয়মকানুন ঠিক করতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর উপস্থিতিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র: চ্যানেল-১২, টাইমস অব ইসরায়েল, ইরান ইন্টারন্যাশনাল

সূত্র: আল জাজিরা

/জেএইচ/