শিরোনাম

হরমুজ নিয়ে চুক্তির পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, দাবি পাকিস্তানের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
 হরমুজ নিয়ে চুক্তির পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, দাবি পাকিস্তানের
ইরান,পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ও কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দিয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলের এ আশার আলোর পাশাপাশি দুই দেশের পাল্টাপাল্টি কঠিন শর্তের কারণে বাস্তবিক অগ্রগতি নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি তেহরানের কাছে বড় অংকের ক্ষতিপূরণের দাবি তুলে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। অন্যদিকে ইরানও পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য আমেরিকার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে এবং তাদের অবরুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কে আগে শর্ত পূরণ করবে- এই মানসিক লড়াই পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াটিকে আবার আগের মতো একটি জটিল চক্রে আটকে ফেলার ঝুঁকি তৈরি করছে। এর ফলে কৌশলগত জলপথটি অবিলম্বে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে নাকি কোনো নতুন শর্ত চাপানো হবে, তা এখনো অস্পষ্ট।

কূটনৈতিক এ টানাপোড়েনের প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৩ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। দরকষাকষির পাশাপাশি সমুদ্রসীমায় সামরিক সংঘাতের উত্তাপও কমেনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী একটি পণ্যবাহী জাহাজে সম্প্রতি হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।

একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরেও নতুন করে হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে। আঞ্চলিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অঞ্চল অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধ বা শান্তির ঝুলন্ত অবস্থায় থাকতে পারে না। জলপথটি নিরাপদে চালু রাখতে এখন প্রয়োজন উভয় পক্ষের দূরদর্শিতা ও বাস্তবিক সমঝোতা।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/