ইউজিসির নিয়ম অমান্য করেই চলছে বেরোবিতে নিয়োগ-পদোন্নতি

ইউজিসির নিয়ম অমান্য করেই চলছে বেরোবিতে নিয়োগ-পদোন্নতি
বেরোবি সংবাদদাতা

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা ও অনুমোদন উপেক্ষা করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শিক্ষক নিয়োগ এবং কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসি।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ, বাংলা বিভাগে একটি স্থায়ী পদের বিপরীতে দুইজন প্রভাষক নিয়োগ, রসায়ন বিভাগে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে দুইজনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ এবং ২৫ কর্মচারীকে পদোন্নতি ও ১৫ জনকে প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদায় আপগ্রেডেশন দেওয়াকে নিয়মের ব্যত্যয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট সংক্রান্ত নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একদিকে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অনুমোদন না থাকা একটি নীতিমালার ভিত্তিতে কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ছুটির পদে নিয়োগে ইউজিসির আপত্তি
ইউজিসির ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখের বাজেট অ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর বেরোবিতে শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের নিয়োগের আগে ইউজিসির অনুমোদন নেওয়া হয়নি। কমিশনের বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দল অনুমোদন নিয়ে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে অনুমোদন ছাড়া প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করা হয়।
তবে, ইউজিসির এ পর্যবেক্ষণের পরও রসায়ন বিভাগে শিক্ষা ছুটির শূন্য পদের বিপরীতে দুইজন প্রভাষককে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া বাংলা বিভাগে একটি স্থায়ী পদের বিপরীতে দুইজন প্রভাষক নিয়োগের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে ইউজিসি। কমিশনের পর্যবেক্ষণে এ নিয়োগকে অনুমোদিত পদের কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
২৫ কর্মচারীর পদোন্নতি নিয়ে আপত্তি
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১৬ ও ১৭ নভেম্বর বেরোবির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট পর্যালোচনা করে ইউজিসির অ্যাসেসমেন্ট দল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে মোট ২৯টি পর্যবেক্ষণ চিহ্নিত করা হয়।
এর মধ্যে কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানানো হয়েছে। ইউজিসির নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি কমিশনের দেওয়া নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে ২৫ কর্মচারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে তাদের মধ্য থেকে ১৫ জনকে প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদায় আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে।
ইউজিসির দাবি, ‘৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদোন্নতি/আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৩’ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত নয়। ফলে ওই নীতিমালার ভিত্তিতে দেওয়া পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনকে নিয়মবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন।
অ্যাসেসমেন্ট দল ১৫ কর্মচারীর আপগ্রেডেশন বাতিলের পাশাপাশি অতিরিক্ত দেওয়া অর্থ ফেরত বা আদায় করে কমিশনকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতে বাজেট বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যাখ্যা
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, নিজস্ব আইন ও বিধি অনুসরণ করেই কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কিছু আইন ও ইউজিসির নীতিমালার মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশন পাওয়া কর্মচারীদের অধিকাংশই ৮, ১০ বা ১২ বছর পর পদোন্নতি পেয়েছেন। বাজেট কাটছাঁটের বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু খাতে বাজেট কমানো হলেও এসব অর্থ অন্য খাতে ইউজিসির মাধ্যমে পাওয়া যাবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো নিয়ে ইউজিসির সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আর যে সব কর্মচারীকে কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তাদের গ্রেড বাড়লেও বেতন আগের মতই থাকবে। সেটা তো আর ইউজিসি জানে না।
ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, এসব ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা ও অনুমোদন উপেক্ষা করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শিক্ষক নিয়োগ এবং কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসি।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ, বাংলা বিভাগে একটি স্থায়ী পদের বিপরীতে দুইজন প্রভাষক নিয়োগ, রসায়ন বিভাগে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে দুইজনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ এবং ২৫ কর্মচারীকে পদোন্নতি ও ১৫ জনকে প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদায় আপগ্রেডেশন দেওয়াকে নিয়মের ব্যত্যয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট সংক্রান্ত নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একদিকে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অনুমোদন না থাকা একটি নীতিমালার ভিত্তিতে কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ছুটির পদে নিয়োগে ইউজিসির আপত্তি
ইউজিসির ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখের বাজেট অ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর বেরোবিতে শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের নিয়োগের আগে ইউজিসির অনুমোদন নেওয়া হয়নি। কমিশনের বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দল অনুমোদন নিয়ে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে অনুমোদন ছাড়া প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করা হয়।
তবে, ইউজিসির এ পর্যবেক্ষণের পরও রসায়ন বিভাগে শিক্ষা ছুটির শূন্য পদের বিপরীতে দুইজন প্রভাষককে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া বাংলা বিভাগে একটি স্থায়ী পদের বিপরীতে দুইজন প্রভাষক নিয়োগের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে ইউজিসি। কমিশনের পর্যবেক্ষণে এ নিয়োগকে অনুমোদিত পদের কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
২৫ কর্মচারীর পদোন্নতি নিয়ে আপত্তি
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১৬ ও ১৭ নভেম্বর বেরোবির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট পর্যালোচনা করে ইউজিসির অ্যাসেসমেন্ট দল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে মোট ২৯টি পর্যবেক্ষণ চিহ্নিত করা হয়।
এর মধ্যে কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানানো হয়েছে। ইউজিসির নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি কমিশনের দেওয়া নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে ২৫ কর্মচারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে তাদের মধ্য থেকে ১৫ জনকে প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদায় আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে।
ইউজিসির দাবি, ‘৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদোন্নতি/আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৩’ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত নয়। ফলে ওই নীতিমালার ভিত্তিতে দেওয়া পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনকে নিয়মবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন।
অ্যাসেসমেন্ট দল ১৫ কর্মচারীর আপগ্রেডেশন বাতিলের পাশাপাশি অতিরিক্ত দেওয়া অর্থ ফেরত বা আদায় করে কমিশনকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতে বাজেট বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যাখ্যা
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, নিজস্ব আইন ও বিধি অনুসরণ করেই কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কিছু আইন ও ইউজিসির নীতিমালার মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশন পাওয়া কর্মচারীদের অধিকাংশই ৮, ১০ বা ১২ বছর পর পদোন্নতি পেয়েছেন। বাজেট কাটছাঁটের বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু খাতে বাজেট কমানো হলেও এসব অর্থ অন্য খাতে ইউজিসির মাধ্যমে পাওয়া যাবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো নিয়ে ইউজিসির সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আর যে সব কর্মচারীকে কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তাদের গ্রেড বাড়লেও বেতন আগের মতই থাকবে। সেটা তো আর ইউজিসি জানে না।
ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, এসব ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউজিসির নিয়ম অমান্য করেই চলছে বেরোবিতে নিয়োগ-পদোন্নতি
বেরোবি সংবাদদাতা

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা ও অনুমোদন উপেক্ষা করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শিক্ষক নিয়োগ এবং কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসি।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ, বাংলা বিভাগে একটি স্থায়ী পদের বিপরীতে দুইজন প্রভাষক নিয়োগ, রসায়ন বিভাগে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে দুইজনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ এবং ২৫ কর্মচারীকে পদোন্নতি ও ১৫ জনকে প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদায় আপগ্রেডেশন দেওয়াকে নিয়মের ব্যত্যয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট সংক্রান্ত নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একদিকে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, অনুমোদন না থাকা একটি নীতিমালার ভিত্তিতে কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ছুটির পদে নিয়োগে ইউজিসির আপত্তি
ইউজিসির ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখের বাজেট অ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর বেরোবিতে শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের নিয়োগের আগে ইউজিসির অনুমোদন নেওয়া হয়নি। কমিশনের বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দল অনুমোদন নিয়ে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে অনুমোদন ছাড়া প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করা হয়।
তবে, ইউজিসির এ পর্যবেক্ষণের পরও রসায়ন বিভাগে শিক্ষা ছুটির শূন্য পদের বিপরীতে দুইজন প্রভাষককে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া বাংলা বিভাগে একটি স্থায়ী পদের বিপরীতে দুইজন প্রভাষক নিয়োগের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে ইউজিসি। কমিশনের পর্যবেক্ষণে এ নিয়োগকে অনুমোদিত পদের কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
২৫ কর্মচারীর পদোন্নতি নিয়ে আপত্তি
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১৬ ও ১৭ নভেম্বর বেরোবির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট পর্যালোচনা করে ইউজিসির অ্যাসেসমেন্ট দল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে মোট ২৯টি পর্যবেক্ষণ চিহ্নিত করা হয়।
এর মধ্যে কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানানো হয়েছে। ইউজিসির নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি কমিশনের দেওয়া নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে ২৫ কর্মচারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে তাদের মধ্য থেকে ১৫ জনকে প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদায় আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে।
ইউজিসির দাবি, ‘৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদোন্নতি/আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৩’ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত নয়। ফলে ওই নীতিমালার ভিত্তিতে দেওয়া পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনকে নিয়মবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন।
অ্যাসেসমেন্ট দল ১৫ কর্মচারীর আপগ্রেডেশন বাতিলের পাশাপাশি অতিরিক্ত দেওয়া অর্থ ফেরত বা আদায় করে কমিশনকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতে বাজেট বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যাখ্যা
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, নিজস্ব আইন ও বিধি অনুসরণ করেই কর্মচারীদের পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কিছু আইন ও ইউজিসির নীতিমালার মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশন পাওয়া কর্মচারীদের অধিকাংশই ৮, ১০ বা ১২ বছর পর পদোন্নতি পেয়েছেন। বাজেট কাটছাঁটের বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু খাতে বাজেট কমানো হলেও এসব অর্থ অন্য খাতে ইউজিসির মাধ্যমে পাওয়া যাবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো নিয়ে ইউজিসির সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আর যে সব কর্মচারীকে কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তাদের গ্রেড বাড়লেও বেতন আগের মতই থাকবে। সেটা তো আর ইউজিসি জানে না।
ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, এসব ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









