শিরোনাম

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিদেশ ভ্রমণের হিড়িক

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিদেশ ভ্রমণের হিড়িক
আয়নাল

ইনিয়ে-বিনিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ চলছেই। নানান ফন্দি বের করে একের পর এক বিদেশ সফরে যাচ্ছেন তারা। এবার সামনে এলো স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২৫ কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণের তথ্য। প্রশিক্ষণের নামে এই কর্মকর্তাদের ১০ জন বর্তমানে নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও তুরস্ক সফরে আছেন। এর আগে ৮ জন অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এবং বাকি ৭ জন দক্ষিণ কোরিয়া ঘুরে এসেছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। যদিও ইতোমধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে কঠোর অবস্থানে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে।

জলবায়ু বিষয়ক অভিজ্ঞতা অর্জনে তিন দেশ সফরে ১০ কর্মকর্তা

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই স্থানীয় অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিষয়ক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও তুরস্ক সফর করছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ১০ কর্মকর্তা। ‘জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো মূলধারাকরণ প্রকল্প (সিআরআইএমপি)’-এর আওতায় আয়োজিত এই সফরে গেছেন তারা। গত ২৮ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন প্রধান এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।

সফরের মূল লক্ষ্য জলবায়ু সহনশীলতা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। সফরটি জার্মানির কেএফডব্লিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের ১০ সদস্যের দলে নাম আছে পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্মসচিব মোছা. আনার কলি, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসন বিভাগের উপসচিব জিয়াউর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন প্রধান, এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম, এলজিইডির সিআরআইএমপির প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল খালেক, এলজিইডির সিআরডিপি-২ উপ-প্রকল্প পরিচালক মীর তানভীর হোসেন, এলজিইডির সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম তারিকুল হাসান খান, এলজিইডির সিআরইএলআইসির নির্বাহী প্রকৌশলী ফাতেমা ইসমাত আরা, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের স্টাফ অফিসার আফিফা সুলতানা প্রিতুল এবং এলজিইডির সিআরআইএমপি সহকারী প্রকৌশলী তন্ময় চক্রবর্তীর।

সফরটি মূলত হওয়ার কথা ছিল এ বছরের ২০ থেকে ২৭ জুলাই। কিন্তু বিশেষ কারণে প্রোগ্রামটির সঙ্গে বাংলাদেশের ১০ জনের প্রতিনিধি দলের সফরও পিছিয়ে গেছে। সফরটি এখন চলমান আছে।

৭ কর্মকর্তার দক্ষিণ কোরিয়া ভ্রমণ

গত ১৮ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা ওয়াসা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদের ৭ জনের প্রতিনিধি দলকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সেমিনার ও নীতি অনুশীলনকারীদের কর্মশালা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সরকারি আদেশ (জিও) দেওয়া হয়। তারই প্রেক্ষিতে ৫ থেকে ১১ জুলাই তারা দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঢাকা ওয়াসার সচিব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব পরিকল্পনা-১ (প্রজ্ঞাপনে উপসচিব) মোস্তাফিজুর রহমান, একই বিভাগের প্রশাসন-২ এর উপসচিব জিয়াউর রহমান, ঢাকা স্যানিটেশন ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম মিয়া, উপ-পরিচালক গাজী হাবিবুল হায়দার, ঢাকা ওয়াসা নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম তৌফিকুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমা খাতুন। বর্তমানে নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও তুরস্ক সফরে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব প্রশাসন–২ মো. জিয়াউর রহমান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেছেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাননি।

এই সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, কোরিয়া সফরে তারা অনেক ভালো কিছু শিখতে পেরেছেন। সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কীভাবে কাজ করে তা সরেজমিন দেখে এসেছেন। যাবতীয় খরচ এক্সিম ব্যাংক কোরিয়া বহন করেছে। তাদের কোনো সম্মানী পর্যন্তও দেওয়া হয়নি।

সফরকারী দলের সদস্য ঢাকা স্যানিটেশন ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, বাংলাদেশ সরকারের টাকায় বর্তমানে বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ বন্ধ। তবে নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি সরকারের অর্থায়নে সফরটি সম্পন্ন হয়েছে।

এলজিডির ৮ জনের অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ভ্রমণ

গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ১০ দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে এসেছেন একই মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ৮ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন-১ শাখার জারিকৃত জিও থেকে জানা যায়, নগর শাসনব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ‘নগর অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা’শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা হলেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন–১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন প্রধান, একই বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রশাসন–১) তাহমিদা আক্তার, প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, আরএনসিডিপির প্রকল্প পরিচালক মো. নাছির উদ্দিন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসানউজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী, মো. শফিকুল ইসলাম ও সহকারী প্রকৌশলী মো. আশফাকুল হক।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ভ্রমণ নিয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুজ্জামান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, সরকারের পলিসি অনুযায়ী বিদেশে পাঠানো হয়েছে। বাজেট সম্পর্কে তিনি জানান, যাবতীয় খরচ প্রকল্প থেকে দেওয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো টাকা খরচ হয়নি।

/আরএ/