ইরানে সমন্বিত হামলায় আরব দেশগুলোকে উসকানি দেয় আমিরাত
সিটিজেন ডেস্ক

ইরানে সমন্বিত হামলায় আরব দেশগুলোকে উসকানি দেয় আমিরাত
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ২১: ৫৮

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সামরিক তৎপরতা রুখতে প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে একটি সমন্বিত সামরিক ফ্রন্ট গঠনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সৌদি আরব ও কাতারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আঞ্চলিক দেশগুলো আবুধাবির এ প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ও বিভেদ তৈরি হয়েছে বলে ব্লুমবার্গ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ অঞ্চলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করেন। জায়েদ আল নাহিয়ানের যুক্তি ছিল, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান যখন পুরো অঞ্চলের বন্দর ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তখন জিসিসি দেশগুলোর উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে পাল্টা আঘাত করা।
তবে রিয়াদ ও দোহার আবুধাবিকে জানিয়ে দেয়, এটি তাদের যুদ্ধ নয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর এমন নেতিবাচক অবস্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার ভঙ্গুর সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। ক্ষুব্ধ আমিরাত ১৯৮১ সালে ইরানের হুমকি মোকাবিলায় জিসিসি গঠনের মূল উদ্দেশ্য মনে করিয়ে দিলেও অন্যদের টলাতে পারেনি। এ কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জের ধরেই এপ্রিলের শেষে ওপেক ত্যাগ করার মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয় আমিরাত। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পর্ক আরও জোরদার করে তারা। এমনকি আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থন ছাড়াই মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত পরিসরে নিজস্ব সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আবুধাবি। বর্তমানে তারা জিসিসি-সহ আঞ্চলিক সংস্থাগুলোতে নিজেদের সদস্যপদ বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করায় এ যুদ্ধে আমিরাত ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। যুদ্ধবিরতির আগে দেশটিতে প্রায় ৩,০০০ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর সিংহভাগ প্রতিহত করেছে, তবে ফুজিরাহ বন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল আমিরাতকে রক্ষায় আয়রন ডোম ব্যবস্থা ও সেনাদল পাঠিয়েছে। এদিকে সৌদি আরব শুরুতে কিছু হামলা চালালেও পরে সুর নরম করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ বেছে নেয়। এ প্রক্রিয়ায় আমিরাতকে যথাযথ মূল্যায়ন না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পাকিস্তানের ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সুবিধা স্থগিত করে দেয়, যা পরে সৌদি আরব পূরণ করে। অন্যদিকে কাতারের এলএনজি প্ল্যান্টে বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হলেও দোহা আঞ্চলিক অস্থিরতা এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপরই জোর দিয়েছে। বাহরাইন ও কুয়েত সৌদি নীতি অনুসরণ করেছে এবং ওমান শুরু থেকেই নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আমিরাতের এ সামরিক জোটের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিলেও আঞ্চলিক দেশগুলোর অনাগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত আবুধাবিকে একাই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ

ইরানের সামরিক তৎপরতা রুখতে প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে একটি সমন্বিত সামরিক ফ্রন্ট গঠনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সৌদি আরব ও কাতারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আঞ্চলিক দেশগুলো আবুধাবির এ প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ও বিভেদ তৈরি হয়েছে বলে ব্লুমবার্গ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ অঞ্চলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করেন। জায়েদ আল নাহিয়ানের যুক্তি ছিল, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান যখন পুরো অঞ্চলের বন্দর ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তখন জিসিসি দেশগুলোর উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে পাল্টা আঘাত করা।
তবে রিয়াদ ও দোহার আবুধাবিকে জানিয়ে দেয়, এটি তাদের যুদ্ধ নয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর এমন নেতিবাচক অবস্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার ভঙ্গুর সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। ক্ষুব্ধ আমিরাত ১৯৮১ সালে ইরানের হুমকি মোকাবিলায় জিসিসি গঠনের মূল উদ্দেশ্য মনে করিয়ে দিলেও অন্যদের টলাতে পারেনি। এ কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জের ধরেই এপ্রিলের শেষে ওপেক ত্যাগ করার মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয় আমিরাত। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পর্ক আরও জোরদার করে তারা। এমনকি আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থন ছাড়াই মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত পরিসরে নিজস্ব সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আবুধাবি। বর্তমানে তারা জিসিসি-সহ আঞ্চলিক সংস্থাগুলোতে নিজেদের সদস্যপদ বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করায় এ যুদ্ধে আমিরাত ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। যুদ্ধবিরতির আগে দেশটিতে প্রায় ৩,০০০ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর সিংহভাগ প্রতিহত করেছে, তবে ফুজিরাহ বন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল আমিরাতকে রক্ষায় আয়রন ডোম ব্যবস্থা ও সেনাদল পাঠিয়েছে। এদিকে সৌদি আরব শুরুতে কিছু হামলা চালালেও পরে সুর নরম করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ বেছে নেয়। এ প্রক্রিয়ায় আমিরাতকে যথাযথ মূল্যায়ন না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পাকিস্তানের ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সুবিধা স্থগিত করে দেয়, যা পরে সৌদি আরব পূরণ করে। অন্যদিকে কাতারের এলএনজি প্ল্যান্টে বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হলেও দোহা আঞ্চলিক অস্থিরতা এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপরই জোর দিয়েছে। বাহরাইন ও কুয়েত সৌদি নীতি অনুসরণ করেছে এবং ওমান শুরু থেকেই নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আমিরাতের এ সামরিক জোটের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিলেও আঞ্চলিক দেশগুলোর অনাগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত আবুধাবিকে একাই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ

ইরানে সমন্বিত হামলায় আরব দেশগুলোকে উসকানি দেয় আমিরাত
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ২১: ৫৮

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সামরিক তৎপরতা রুখতে প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে একটি সমন্বিত সামরিক ফ্রন্ট গঠনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সৌদি আরব ও কাতারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আঞ্চলিক দেশগুলো আবুধাবির এ প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ও বিভেদ তৈরি হয়েছে বলে ব্লুমবার্গ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ অঞ্চলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করেন। জায়েদ আল নাহিয়ানের যুক্তি ছিল, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান যখন পুরো অঞ্চলের বন্দর ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তখন জিসিসি দেশগুলোর উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে পাল্টা আঘাত করা।
তবে রিয়াদ ও দোহার আবুধাবিকে জানিয়ে দেয়, এটি তাদের যুদ্ধ নয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর এমন নেতিবাচক অবস্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার ভঙ্গুর সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। ক্ষুব্ধ আমিরাত ১৯৮১ সালে ইরানের হুমকি মোকাবিলায় জিসিসি গঠনের মূল উদ্দেশ্য মনে করিয়ে দিলেও অন্যদের টলাতে পারেনি। এ কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জের ধরেই এপ্রিলের শেষে ওপেক ত্যাগ করার মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয় আমিরাত। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পর্ক আরও জোরদার করে তারা। এমনকি আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থন ছাড়াই মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত পরিসরে নিজস্ব সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আবুধাবি। বর্তমানে তারা জিসিসি-সহ আঞ্চলিক সংস্থাগুলোতে নিজেদের সদস্যপদ বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করায় এ যুদ্ধে আমিরাত ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। যুদ্ধবিরতির আগে দেশটিতে প্রায় ৩,০০০ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর সিংহভাগ প্রতিহত করেছে, তবে ফুজিরাহ বন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েল আমিরাতকে রক্ষায় আয়রন ডোম ব্যবস্থা ও সেনাদল পাঠিয়েছে। এদিকে সৌদি আরব শুরুতে কিছু হামলা চালালেও পরে সুর নরম করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ বেছে নেয়। এ প্রক্রিয়ায় আমিরাতকে যথাযথ মূল্যায়ন না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পাকিস্তানের ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সুবিধা স্থগিত করে দেয়, যা পরে সৌদি আরব পূরণ করে। অন্যদিকে কাতারের এলএনজি প্ল্যান্টে বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হলেও দোহা আঞ্চলিক অস্থিরতা এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপরই জোর দিয়েছে। বাহরাইন ও কুয়েত সৌদি নীতি অনুসরণ করেছে এবং ওমান শুরু থেকেই নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আমিরাতের এ সামরিক জোটের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিলেও আঞ্চলিক দেশগুলোর অনাগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত আবুধাবিকে একাই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ
/এমএকে/

যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে বাহরাইনকে চরম মূল্য দিতে হবে: ইরান


