শিরোনাম

ইরান সংঘাতের খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকে

সিটিজেন ডেস্ক
ইরান সংঘাতের খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকে
ছবি: রয়টার্স

ইরানে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজে পণ্য পরিবহন খরচ দ্রুত বাড়ছে। এর চূড়ান্ত প্রভাব সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়বে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি ‘মার্স্ক’-এর প্রধান নির্বাহী ভিনসেন্ট ক্লার্ক।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা সামাল দেওয়ার জন্য গ্রাহকদের সঙ্গে আগে থেকেই চুক্তি করা থাকে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন ব্যয় যে বাড়ছে, তার চাপ শেষ পর্যন্ত গ্রাহক ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই পড়বে।

ডেনমার্কভিত্তিক এই শিপিং কোম্পানির প্রধান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক নৌপথগুলো স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন। তার মতে, চলমান সংঘাতের কারণে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার হুমকির কারণে এই নৌপথে চলাচল এখন অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ নৌবাহিনীর পাহারায় জাহাজ চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে মার্স্ক-এর প্রধান জানান, কর্মীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন পথে জাহাজ পাঠাতে তিনি প্রস্তুত নন।

ভিনসেন্ট ক্লার্ক বলেন, তাদের প্রধান উদ্বেগ কর্মীদের নিরাপত্তা এবং জাহাজের সুরক্ষা। ড্রোন হামলার ঝুঁকি থাকলে এবং দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা না পাওয়া গেলে এমন ঝুঁকি নেওয়া কঠিন।

এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এলাকায় ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

অভিযানের একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সেখানে সাগরে থাকা কয়েকটি জাহাজে ধারাবাহিক হামলার দৃশ্য দেখা যায়।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ১০টি নিষ্ক্রিয় নৌকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, এসব জাহাজের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধরনের এই হামলার খবর সামনে আসে।

সূত্র: বিবিসি

/এসএ/