শিরোনাম

বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি, সহায়তা কম

বন্যায়  ক্ষয়ক্ষতি বেশি, সহায়তা কম
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের অধিকাংশ জেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বন্যা ও পাহাড় ধসে ঘটেছে প্রাণহানির ঘটনা। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ খাতে হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে অনেকের। অনেকের বাড়িতে খাবার নেই। সরকার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ ও নগদ টাকা বিতরণ করছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় ত্রাণ ও নগদ টাকার পরিমাণ খুব কম। এতে বন্যাদুর্গতরা অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সাত জেলায় বন্যায় এ পর্যন্ত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জন। আর অতিবৃষ্টিতে দেশের ৪৮টি জেলায় প্রায় ছয় লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিতে তলিয়ে থাকায় প্রায় ৯৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক এখনো সরকারি সহায়তা পাননি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ-এই সাত জেলায় বন্যা হয়েছে। এসব জেলার ৫৬টি উপজেলার মোট ৩৭৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যা ও পাহাড়ধসে এ পর্যন্ত ৫৯ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২ জন কক্সবাজার জেলার (স্থানীয় ১৯ জন এবং রোহিঙ্গা ১৩ জন)। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬ জন, বান্দরবানে সাতজন, রাঙ্গামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য ৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে ২৯৮ জন অবস্থান করছেন।

বন্যায় বান্দরবানের সদর উপজেলার উজানীপাড়ার পাইনুচিং মারমা (৬৫) ও গীতা বড়ুয়ার (৬০) বসতঘর ভেঙে গেছে। এ কারণে তারা উজানীপাড়া উজানীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পানি কমে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু ঘরে ফেরার মতো অবস্থা না থাকায় তারা সেখানেই অবস্থান করছেন। প্রশাসনের কাছ থেকে সহায়তা পেলে তারা তাদের ঘরগুলো মেরামত করতে পারতেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অতিবৃষ্টিতে কৃষিখাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয়ভাবে মোট ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ৭১৬ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ৯৩ হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ আক্রান্ত হয়েছে। সারা দেশে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৬৭২ জন কৃষক সরাসরি আক্রান্ত হয়েছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বন্যায় আউশ, রোপা আমণের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, পাট, কাঁচামরিচ, পান এবং ফলবাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষতি কাটিয়ে ওঠতে কৃষকদের আর্থিক সহায়তার দেওয়া দরকার। পানি নেমে যাওয়ার পরে অনেক কৃষকই কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পাননি।

বান্দরবান জেলার সদর উপজেলার গোয়ালিয়াখোলা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আব্দুর রহমানের সঙ্গে আজ রাতে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তিনি বলেন, বন্যায় তাঁর এক হাজার ২০০ পেঁপে গাছ, পুকুরের মাছ এবং তিন কানি জমির বীজতলাসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে গত শুক্রবার তাকে ২৫ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো নগদ টাকা কিংবা ধানের চারা দিয়ে সহায়তা করা হয়নি।

বন্যায় দেশের সাত জেলার প্রায় ছয় লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ সময়ে জমিতে রোপা আমন ধান ছিল। বন্যায় ক্ষতি হয় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ জমির ফসল। ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকদের জন্য বীজ সরবরাহ করা হবে। রফিকুল ই মোহামেদ সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়

জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘বন্যায় দেশের সাত জেলার প্রায় ছয় লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ সময়ে জমিতে রোপা আমন ধান ছিল। বন্যায় ক্ষতি হয় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ জমির ফসল। ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকদের জন্য বীজ সরবরাহ করা হবে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত এলাকায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৭ জুলাই থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৬৪ জেলায় পাঁচ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ টাকা, নয় হাজার ৫০ টন চাল এবং ৪ হাজার ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন পাঠানো হয়েছে।

বন্যাকবলিত জেলাগুলোর স্থানীয় প্রশাসনকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

/বিবি/