শিরোনাম

ইইউবিতে দশ কোটি টাকা আত্মসাত, দুদককে তদন্তের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইইউবিতে দশ কোটি টাকা আত্মসাত, দুদককে তদন্তের আহ্বান
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি)

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস। একই সঙ্গে সম্পদ তসরুপ, জালিয়াতি, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে দুদক, এনবিআর, বিএফআইইউ ও সিআইডিকে স্বাধীনভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসক দল।

রবিবার (১৯ জুলাই) বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ তানভীর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবেক ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের পারস্পরিক বিরোধ এবং অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি গত ৫ জুলাই প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেন। ৭ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসক দল কাজ শুরু করে। পূর্ববর্তী বোর্ডের নিয়োগ দেওয়া জনবলের অসহযোগিতা সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং সিআইডিকে স্বাধীনভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসক দল।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বৈধ ট্রাস্টি বোর্ড নিবন্ধিত ছিল না এবং আগের বোর্ড গঠনে জালিয়াতির বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী সম্পদ তসরুপের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শ্যামলীর রূপায়ণ শেলফোর্ড ভবনের প্রায় ৯ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোর, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ কোটি টাকা এবং মিরপুর-২-এর শাহ আলীবাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত ১০ তলা ভবনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আর্থিক হিসাবে বড় ধরনের গরমিল ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ক্রয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের পাশাপাশি কর, ভ্যাট ও আর্থিক প্রতিবেদনেও অসঙ্গতি রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই প্রয়োজন।

এ ছাড়া অনুমোদনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি, সার্টিফিকেট বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার অভাব, দীর্ঘদিনে মাত্র একটি সমাবর্তন আয়োজন, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বজনপ্রীতি এবং আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

প্রশাসক দলের দাবি, ভাড়াটিয়া গ্রুপ ব্যবহার করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অযৌক্তিক সুবিধা দেওয়া এবং অন্যদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে আত্মসাৎ বা আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এছাড়া ইউজিসির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জমি না থাকা এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস ও ভবনের অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস জানিয়েছে, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।

/এমআর/