শিরোনাম

বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লোগো

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

শনিবার পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং যেকোনো সময় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এ কারণে বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে এবং নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট বাতিল এবং সময়ে সময় আকাশপথ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিভিন্ন দেশে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের আশঙ্কা, ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা বা মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।

এই সতর্কতা জারির কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এর ফলে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতে সরকারি হিসাবে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

নিহত সেনাদের বিষয়ে শুরুতে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানান।

এরপর ট্রাম্পের নির্দেশনার পর শনিবার রাতে সেন্টকম ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহত সেনাদের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার রাতে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। তবে আগের সাত রাতের তুলনায় এবারের হামলার তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে তেহরান প্রায় প্রতিদিনই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, ওমান, ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

এদিকে শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ‘শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন, যা তারা দীর্ঘদিন মনে রাখবে। এর আগে তেহরান সতর্ক করে বলেছিল, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর মার্কিন হামলার পরিণতি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকেই বহন করতে হবে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৫০০ জনের বেশি মানুষ।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রথম ধাপে ইরানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে আরও প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন।

/এমআর/