
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক


ফেরান তোরেসের দেওয়া গোলে ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ শিরোপা জিতলো স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল পায়নি কোনো দল। এ সময় স্পেনের গোলমুখে আর্জেন্টিনা নিতে পারেনি কোনো শট! যোগ করা সময়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্টে ফেরান তোরেস গোল করেন। বাকি সময় ব্যবধান ধরে রেখে জয় পায় স্পেন। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতলো স্পেন।
গোল হজমের পর ১১৬ মিনিট থেকে বেশ কয়েকটি আক্রমণ করে আর্জেন্টিনা। তবে স্পেনের শক্ত ডিফেন্সে আটকে যায় সেসব আক্রমণ। টুর্নামেন্টে দারুণ সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে হতাশ করলো আর্জেন্টিনা। মাত্র ৩৫ শতাংশ বল দখলে রাখে লিওনেল স্কালোনির দল। ১২০ মিনিটই ম্যাচে ছড়ি ঘুরিয়েছে স্পেন। তাদের ২০ শটের ১২টি ছিল লক্ষ্যে।
এদিন স্পেন বার বার আটকে যাচ্ছিলো এমিলিয়ানো মার্তিনেজের কাছে। পুরো ম্যাচে দারুণ কিছু সেভ দেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। এর আগে ৯৩ মিনিটে বল জালে পাঠিয়েছিলেন স্পেনের নিকো উইলিয়ামস। কিন্তু গোলের বিল্ডআপের সময় ডিফেন্ডার ওতামেন্দিকে স্পেনের মিডফিল্ডার মেরিনো ফাউল করায় গোল বাতিল হয়।
ম্যাচের প্রথম ২৩ মিনিটে মাত্র ৩২ শতাংশ বল দখলে রাখতে পেরেছে আর্জেন্টিনা। তাদের তিন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি, নিকো গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ মিলে মাত্র ১৭ বার বলে পা ছুঁতে পেরেছেন। ৪১ মিনিটে ওইয়ারসাবালকে ফাউল করে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। দুই মিনিট পর ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়েন তিনি। নিকোলাস ওতামেন্দি নামেন মাঠে।
৫৫ মিনিটে স্পেন ফাবিয়ানের মাধ্যমে পাল্টা আক্রমণ করে। বলটি ওইয়ারসাবালের কাছে পৌঁছালে তিনি ফাবিয়ানকে পাস দেন। ফাবিয়ান শট নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে বলটি পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওতামেন্দি এগিয়ে এসে বিপদমুক্ত করেন। ৬২ মিনিটে স্পেন দুটি পরিবর্তন আনে। ফাবিয়ান রুইজের জায়গায় পেদ্রি এবং ওইয়ারসাবলের পরিবর্তে ফেরান তোরেস মাঠে নামেন।
এর দুই মিনিট পর ওলমোর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট রুখে দেন মার্তিনেজ। ৮০ মিনিটে উইলিয়ামসের ক্রসে ব্যাকপোস্টে লাপোর্তের দুর্বল হেড মার্তিনেজ রুখে দেন। ৮৭ মিনিটে তোরেসের একটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে যায়।
৮২ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ড পান এনজো ফার্নান্দেজ। এবার কুবারসিকে ফাউল করেছিলেন তিনি। বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে ইয়ামালের ফ্রি-কিক শট ঝাপিয়ে রুখে দেন এমি মার্তিনেজ। এরপর ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোল। ফাইনালে পঞ্চম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করেন তোরেস।
৩৯ বছর বয়সে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ে শেষ হলো লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়।

১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের দারুণ গোলে এগিয়ে গেলো স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্টে গোলটি করেছেন তোরেস। নিকো হেড করে বল গোল লাইনের বাইরে যাওয়া থেকে আটকানো। বল পেয়ে শট করে জালে পাঠান বদলি নামা তোরেস। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে বদলি নেমে জয়সূচক গোল করেছিলেন জার্মানির মারিও গোৎজে।
৯৩ মিনিটে বল জালে পাঠান স্পেনের নিকো উইলিয়ামস। তবে গোলের বিল্ডআপের সময় ডিফেন্ডার ওতামেন্দিকে স্পেনের মিডফিল্ডার মেরিনো ফাউল করায় গোল বাতিল হয় স্পেনের।
স্পেন-আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল হয়নি। স্পেন ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। ১৫টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখে স্পেন। বেশ কয়েকটি ভালো সেভ দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ম্যাচের যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিকে ইয়ামালের শট ঝাপিয়ে রুখে দেন মার্তিনেজ। অন্য দিকে যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় আর্জেন্টিনা এখন ১০ জনের দল।

ম্যাচের ৮২ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ড পান এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে।
৮২ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ।
অপটা ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করার পর এই প্রথম নয় যে কোনো দল বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে একবারও বল স্পর্শ করতে পারেনি। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯০ ফাইনালে। তখন পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে ঢুকতেই পারেনি। এরপর ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একই পরিণতি হয়েছিল ফ্রান্সের। আর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে একবারও বল স্পর্শ করতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ইয়ামালের ক্রস থেকে বদলি নামা তোরেস হেড করেন। তবে সেই বল গ্রিপ করেন গোলকিপার মার্তিনেজ। স্পেন এখন পর্যন্ত ৬৪ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ৮টি শট নিয়েছে। যার ৫টি ছিল লক্ষ্যে। আর্জেন্টিনা এখনও স্পেনের পোস্টে শট নিতে পারেনি। এমনকি বক্সেও বল নিয়েও ভয় ধরাতে পারেনি প্রতিপক্ষ শিবিরে।
৬২ মিনিটে স্পেন একসঙ্গে দুজনকে বদলি করলো স্পেন। মাঠে নামলেন ফেরান তোরেস ও পেদ্রি। মাঠ ছাড়লেন মিকেল ওইয়ারসাবাল ও ফাবিয়ান রুইজ। ওলমোর একটি শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন এমি মার্তিনেজ। স্পেন একের পর এক আক্রমণ করছে।
ম্যাচের ৫৮ মিনিটের মধ্যে তিনটি বদল করে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। এবার মন্তিয়েলের বদলে মাঠে নেমেছেন নাহুয়েল মলিনা। দুই ডিফেন্ডার আর এক মিডফিল্ডার বদলি করে ফেলেছেন স্কালোনি। নির্ধারিত সময়ে আর দুটি পরিবর্তনের সুযোগ পাবে আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন পারেদেস। তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। রদ্রিকে পেছন থেকে ধাক্কা মারেন পারেদেস।
বিরতির পর নিকো গঞ্জালেজকে তুলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে নামালেন স্কালোনি। ১৭ মিনিট হওয়ার কথা ছিল খেলার মাঝের এই বিরতি তবে আরও বেশি সময় লাগে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিটের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে। স্পেনই আধিপত্য দেখিয়েছে এই সময়ে। ৬৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে তারা গোলের জন্য শট নিয়েছে ৩টি, যার ২টি ছিল লক্ষ্যে। অবশ্য সেই দুটি শটই রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। একটি শট ছিল লামিনে ইয়ামালের।
আর্জেন্টিনা গোলের জন্য কোনো শট নিতে পারেনি। এমনকি স্পেনের বক্স পর্যন্ত বল নিয়ে যেতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। দলের খেলোয়াড়রা আক্রমণের চেয়ে ডিফেন্স করতেই ব্যস্ত ছিলেন বেশি।
মেসিকে তার সাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছেন না স্পেনের মিডফিল্ড আর ডিফেন্সের জন্য। হুলিয়ান আলভারেজ মাত্র ৮ বার বলে টাচ করেছেন।
আর্জেন্টিনা দল এরই মধ্যে একটি পরিবর্তন করেছে। ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বদলে নেমেছেন ওতামেন্দি।
মিকেল ওয়াইরাজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে এর কিছুক্ষণ পরই তাকে বদলি করেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। এই বদলির কারণ অবশ্য ইনজুরি হতে পারে। কারণ মাঠ ছাড়ার আগে তাকে বসে থাকতে দেখা যায়। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বদলি নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি।

ম্যাচের ৪০ মিনিট শেষ হয়েছে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্পেনের হাতে। এখনও স্পেনের পোস্টে কোনো শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। হলুদ কার্ড দেখেছেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। স্পেনের দুটি ভালো আক্রমণ রুখে দেন গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
ম্যাচের শুরু থেকে বলের দখল ও আক্রমণে স্পেনই এগিয়ে। আর্জেন্টিনা চেষ্টা করছে থিতু হওয়ার। তবে স্পেনের চাপে ভুল পাস খেলছে। ২৪ মিনিট শেষে দেওয়া হয়েছে প্রথম হাইড্রেশন ব্রেক। স্পেন বল দখলে রেখেছে ৬২ শতাংশ। মেসি মাঝে মধ্যে বল পেলেও তার সাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছেন না।
ম্যাচের ১৫ মিনিট শেষ। ডিফেন্সেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে। স্পেন এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার বল নিয়ে আর্জেন্টিনার বক্সে ঢুকেছে। ইয়ামালের শট রুখে দেন গোলকিপার এমি মার্তিনেজ। আর্জেন্টিনা এখনও কোনো আক্রমণ করতে পারেনি।

ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই দারণ আক্রমণ করে স্পেন। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন লামিনে ইয়ামাল। তবে সেটি রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

আর্জেন্টিনা: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগিয়াফিকো, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, রদ্রিগো ডি পল, নিকোলাস গঞ্জালেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, লিওনেল মেসি।
স্পেন: উনাই সিমন (গোলরক্ষক), পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, এমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, দানি ওলমো, আলেক্স বায়েনা, লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবাল।