শিরোনাম

ইরানে মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধ হতে পারে, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানে মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধ হতে পারে, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
তেহরানে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়িতে বসে আছেন ২ নারী। ছবি: রয়টার্স

ইরানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ। হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের শতাধিক বিশেষজ্ঞের স্বাক্ষর করা খোলা চিঠিটি বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ‘জাস্ট সিকিউরিটি পলিসি জার্নাল’ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ, পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করার পরই বিশেষজ্ঞরা এ উদ্বেগের কথা জানালেন। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছেন, মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন।

চিঠিতে বিশেষভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল ‘মজা করতেই’ ইরানে হামলা চালাতে পারে। এছাড়া পিট হেগসেথের উদ্ধৃতি দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, যুদ্ধের প্রচলিত নিয়মাবলী উপেক্ষা করার মানসিকতা সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের পথ প্রশস্ত করছে। বিশেষজ্ঞরা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন বাহিনীর সম্ভাব্য হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, ওই হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে দেড় শতাধিকই ছিল শিশু। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই হামলার তদন্ত বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে।

এদিকে বুধবার (১ এপ্রিল) এক ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আগামী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে অত্যন্ত কঠোর হামলা চালানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম অধিকার সংস্থাগুলো ট্রাম্পের এ উসকানিমূলক বক্তব্যকে ‘মানবতাবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে এ ভয়াবহ যুদ্ধের সূচনা হয়। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের লাগাতার হামলার জবাবে তেহরানও নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এ সংঘাতের ফলে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার বেসামরিক মানুষের প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/