শিরোনাম

নব্বই দশকের ঈদ শৈশবের রঙিন স্মৃতির অনন্য গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
নব্বই দশকের ঈদ শৈশবের রঙিন স্মৃতির অনন্য গল্প
নব্বই দশকের ঈদ। প্রতীকী ছবি

নব্বই দশকের ঈদ ছিল এক অন্যরকম আনন্দের নাম। সরল, প্রাণবন্ত এবং হৃদয়ের গভীরে গেঁথে থাকা এক অনন্য অনুভূতি। সেই সময়ের ঈদ মানেই ছিল চাঁদ দেখার উত্তেজনা, নতুন জামার গন্ধ আর ছোট ছোট আনন্দে ভরা এক বিশাল উৎসব।

ঈদের আগের দিন বিকাল থেকেই শুরু হতো অপেক্ষা। কখন আকাশে চাঁদ উঠবে, সেই আশায় ছাদে বা মাঠে জড়ো হতো ছোট-বড় সবাই। চাঁদ দেখা মাত্রই চারদিকে শোনা যেত আনন্দের ধ্বনি– ‘চাঁদ উঠেছে!’ সেই মুহূর্ত যেন পুরো পাড়া একসাথে উৎসবে মেতে উঠত। এরপরই শুরু হতো তারাবাতি জ্বালানোর আনন্দ। ছোটদের হাতে ঝলমলে তারাবাতি, কারো হাতে ফুলঝুরি। রাতটা যেন আলোয় ভরে উঠত। সেই সরল আনন্দের মধ্যে ছিল এক ধরনের নির্মল সুখ, যা এখনকার দিনে খুব কমই দেখা যায়।

ঈদের সকাল ছিল আরও বেশি আনন্দময়। ভোরে উঠে গোসল করে নতুন জামা পরার আনন্দ ছিল একেবারেই আলাদা। নতুন কাপড়ের গন্ধ আর আয়নায় নিজেকে দেখে আনন্দিত হওয়া ছিল শৈশবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারপর পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের নামাজে যাওয়া, নামাজ শেষে কোলাকুলি করা সব মিলিয়ে এক হৃদয়ছোঁয়া পরিবেশ তৈরি হতো।

নামাজ শেষে শুরু হতো ছোটদের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বিষয় ঈদের সালামি। বড়দের সালাম করে হাতে পাওয়া কিছু টাকা ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে বড় সুখ। কেউ খামে পেত, কেউ সরাসরি হাতে। সেই টাকা গুনে গুনে রাখার আনন্দ, আর কীভাবে খরচ করা হবে সেই পরিকল্পনা এসব ছিল ঈদের অন্যতম আকর্ষণ।

এছাড়া ঈদের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল মেলায় ঘোরা। গ্রামের খোলা মাঠে বা শহরের কোনো ফাঁকা জায়গায় বসত ছোট ছোট মেলা। সেখানে থাকত নাগরদোলা, বায়োস্কোপ, খেলনার দোকান, মিষ্টির স্টল আর নানা ধরনের বিনোদন। বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় ঘোরা, জিলাপি বা মিষ্টি খাওয়া, খেলনা কেনা– এসব আনন্দে দিন কেটে যেত চোখের পলকে। বিশেষ করে নাগরদোলায় চড়া ছিল অনেকের কাছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

ঈদের দিন দুপুরে পরিবারের সবাই মিলে খাওয়াদাওয়া ছিল আরেকটি বিশেষ মুহূর্ত। সেমাই, পোলাও, গরুর মাংস– সব খাবারে থাকত মায়ের ভালোবাসার ছোঁয়া। বিকেলে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতে যাওয়া, নতুন জামা পরে সবার সামনে ঘোরা এসব ছিল ঈদের আনন্দের অংশ।

বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে সেই সরল আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। মোবাইল, ইন্টারনেট আর ব্যস্ততার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে একসময়কার সেই আন্তরিকতা। তবুও নব্বই দশকের ঈদের স্মৃতিগুলো আজও অনেকের হৃদয়ে উজ্জ্বল হয়ে আছে। তারাবাতির আলো, সালামির খুশি আর মেলার রঙিন মুহূর্ত– সব মিলিয়ে তা ছিল এক সোনালি শৈশব, যা কখনোই ভোলার নয়।

/এসএনআর/জেএইচ/