শিরোনাম

স্থবির সোনাহাট স্থলবন্দর, ডিজেল সংকটে কমছে পাথরবাহী ট্রাক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
স্থবির সোনাহাট স্থলবন্দর, ডিজেল সংকটে কমছে পাথরবাহী ট্রাক
সোনাহাট স্থলবন্দর। ছবি: সংবাদদাতা

জ্বালানি তেলের সংকটে স্থরিব হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর। ভারত থেকে বন্দরে পাথর এলেও সেই পাথর ডিজেলের অভাবে ট্রাক চলছে না। ফলে পাথর পৌঁছানো যাচ্ছে না দেশের অন্য জেলাগুলোতে। আগে সারাদেশে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ ট্রাক পাথর বন্দর থেকে পাঠানো হতো। এখন প্রতিদিন যাচ্ছে ৫ থেকে ৬ ট্রাক পাথর।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে বেকার হবে শতশত পরিবহন ও পাথর শ্রমিক। অন্যদিকে সরকার হারাবে রাজস্ব।

সরজমিনে দেখা যায়, পাথর ভাঙ্গা মেশিন অলস পড়ে আছে। ট্রাক ও ড্রাম্পার ট্রাক নিয়মিত চলাচল না করায় পাথর বিক্রি কমে গেছে। টার্মিনালে খালি পরে আছে অনেক ট্রাক।

ট্রাক মালিকরা বলছেন, চাহিদা মতো জ্বালানি তেল না পাওয়ায় তারা ট্রাকে পাথর বোঝাই করতে পারছেন না। তাদের অধিকাংশ ট্রাক এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পাথর পরিবহন করতে পারছে না।

স্থলবন্দরে রাখা পাথর
স্থলবন্দরে রাখা পাথর

ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম সিটিজেন জার্নারকে বলেন, তেল সংকটের কারণে ট্রিপের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে । আয় রোজগার কমে গেছে। কষ্টে আছেন পরিবার নিয়ে।

ট্রাক মালিক আরিফ হোসেন সোনাহাটস্থল বন্দরে পাথর ব্যবসা করেন প্রায় ১০ বছর ধরে। তিনি বলেন, রীতিমতো ট্রিপের তেল পাওয়া এখন সোনার হরিণ। জ্বালানি সংকটের কারণে এক-একটি ট্রাক তিন দিনেও কোনো ট্রিপ দিতে পারছে না।

স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট (ব্যবসায়ী) জহুরুল ইসলাম বলেন, আগে বিভিন্ন জেলায় আমি প্রতিদিন গড়ে ১৫ ট্রাক মাল পাঠাতা । কিন্তু বর্তমানে দিনে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ ট্রাক মাল বাইরে পাঠাই। ট্রিপ কমার পেছনে অন্যতম কারণ জ্বালানি তেলের সংকট।

স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মেসার্স রুমানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম জানান, আমার ডিপো থেকে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০টি ট্রাকে পাথর লোড হতো। জ্বালানি সংকটে এখন দিনে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২টি ট্রাক লোড হয়। ব্যবসায় মন্দা চলছে।

কুড়িগ্রাম জেলা ফুয়েল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জামান আহমেদ বলেন, জ্বালানির সরবরাহ তুলনামূলক কিছুটা বেড়েছে । কুড়িগ্রামের জেলা পযায়ের ফিলিং স্ট্রেশনগুলোতে তেমন ডিজেলের সংকট নেই।

সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারি পরিচালক নাম মো. আমিনুল হক জানান, স্থলবন্দরে এলসি আগের মতোই হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ট্রাক ভারত থেকে বন্দরে ঢুকছে। বাইরে হয়তো বেচাকেনা একটু কমেছে। কিন্তু রাজস্ব আয়ে কোন প্রভাব পড়েনি।

/এসআর/