চোখের সামনে হাওরে ডুবল পাকা ধান

চোখের সামনে হাওরে ডুবল পাকা ধান
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জের হাওরের এই সময়টা সাধারণত আনন্দের। দিগন্তজোড়া সোনালি ধান কাটার মৌসুম। কিন্তু এবার সেই আনন্দের সোনালি দৃশ্য নেই বললেই চলে। অতিবৃষ্টির পানির তোড়ে ভাঙছে কৃষকের সোনালী ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন। টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে জেলার হাওর অঞ্চল। চোখের সামনে তলিয়ে গেছে সারা বছরের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফসল। হাওরে এখন শুধুই হাহাকার।
তবুও ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত, ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাওরের দিকে ছুটছেন কৃষক। হাঁটু থেকে বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন ।
কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলার হাওরে বুধবার দুপুরে দেখা যায়, অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাপুর গ্রামের কৃষক জলিল মিয়া বুক সমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন। তিনি বলেন, অর্ধেক কাটছি, কিন্তু কাটা ধান খলায় পচে যাচ্ছে। বাকি জমি ডুবে গেছে। কী করমু, বুঝতেছি না।

একই এলাকার কৃষক সালাম মিয়া বলেন, বজ্রপাতের আলোয় চোখ ঝাপসা হয়ে যায়, তবুও কেউ হাওর ছাড়ে না। ধান ঘরে না তুললে পরিবার নিয়ে চলবো কীভাবে?
জেলার হাওরের প্রায় সব এলাকায় একই অবস্থা। কোথাও ধান কাটার শেষ চেষ্টা, কেউ সব ছেড়ে দিয়ে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছেন। টানা বৃষ্টিতে জেলার প্রায় সব হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। কৃষকরা পানির নিচে কষ্টার্জিত ফসল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কৃষক শহীদ মিয়া বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল, একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। ধারদেনা করে জমি চাষাবাদ করেছিলাম, এখন সারা বছর কীভাবে চলব?
সমস্যা শুধু ফসল ডুবে যাওয়া নয়। যে ধান কেটে আনা হয়েছে, সেগুলোও রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না। খলায় রাখা ধান পচে যাচ্ছে, অনেক জায়গায় ধানে চারা গজাতে শুরু করেছে।

কৃষক আলাল মিয়া নিকলী বরুলিয়া হাওরে ধান চাষ করেছিলেন। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আগে তিনি অন্তত ৩০ মণ ধান কাটতে করতে পেরেছিলেন। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সেই ধান শুকাতে পারেননি এখনো।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতি সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে। বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমি। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ৬৩ হাজার ৬৮১ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ লাখ ৯৫ হাজার ২৯ মেট্রিক টন ধান।

কিশোরগঞ্জের নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আক্তার ফারুক জানান, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবারও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার হাওর এলাকায় ধান কাটা সম্পম্ন হয়েছে ৫১ শতাংশ। বুধবার দুপুর পর্যন্ত হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৩১ হেক্টর জমির ধান। এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

কিশোরগঞ্জের হাওরের এই সময়টা সাধারণত আনন্দের। দিগন্তজোড়া সোনালি ধান কাটার মৌসুম। কিন্তু এবার সেই আনন্দের সোনালি দৃশ্য নেই বললেই চলে। অতিবৃষ্টির পানির তোড়ে ভাঙছে কৃষকের সোনালী ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন। টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে জেলার হাওর অঞ্চল। চোখের সামনে তলিয়ে গেছে সারা বছরের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফসল। হাওরে এখন শুধুই হাহাকার।
তবুও ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত, ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাওরের দিকে ছুটছেন কৃষক। হাঁটু থেকে বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন ।
কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলার হাওরে বুধবার দুপুরে দেখা যায়, অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাপুর গ্রামের কৃষক জলিল মিয়া বুক সমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন। তিনি বলেন, অর্ধেক কাটছি, কিন্তু কাটা ধান খলায় পচে যাচ্ছে। বাকি জমি ডুবে গেছে। কী করমু, বুঝতেছি না।

একই এলাকার কৃষক সালাম মিয়া বলেন, বজ্রপাতের আলোয় চোখ ঝাপসা হয়ে যায়, তবুও কেউ হাওর ছাড়ে না। ধান ঘরে না তুললে পরিবার নিয়ে চলবো কীভাবে?
জেলার হাওরের প্রায় সব এলাকায় একই অবস্থা। কোথাও ধান কাটার শেষ চেষ্টা, কেউ সব ছেড়ে দিয়ে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছেন। টানা বৃষ্টিতে জেলার প্রায় সব হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। কৃষকরা পানির নিচে কষ্টার্জিত ফসল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কৃষক শহীদ মিয়া বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল, একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। ধারদেনা করে জমি চাষাবাদ করেছিলাম, এখন সারা বছর কীভাবে চলব?
সমস্যা শুধু ফসল ডুবে যাওয়া নয়। যে ধান কেটে আনা হয়েছে, সেগুলোও রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না। খলায় রাখা ধান পচে যাচ্ছে, অনেক জায়গায় ধানে চারা গজাতে শুরু করেছে।

কৃষক আলাল মিয়া নিকলী বরুলিয়া হাওরে ধান চাষ করেছিলেন। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আগে তিনি অন্তত ৩০ মণ ধান কাটতে করতে পেরেছিলেন। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সেই ধান শুকাতে পারেননি এখনো।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতি সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে। বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমি। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ৬৩ হাজার ৬৮১ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ লাখ ৯৫ হাজার ২৯ মেট্রিক টন ধান।

কিশোরগঞ্জের নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আক্তার ফারুক জানান, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবারও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার হাওর এলাকায় ধান কাটা সম্পম্ন হয়েছে ৫১ শতাংশ। বুধবার দুপুর পর্যন্ত হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৩১ হেক্টর জমির ধান। এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

চোখের সামনে হাওরে ডুবল পাকা ধান
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জের হাওরের এই সময়টা সাধারণত আনন্দের। দিগন্তজোড়া সোনালি ধান কাটার মৌসুম। কিন্তু এবার সেই আনন্দের সোনালি দৃশ্য নেই বললেই চলে। অতিবৃষ্টির পানির তোড়ে ভাঙছে কৃষকের সোনালী ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন। টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে জেলার হাওর অঞ্চল। চোখের সামনে তলিয়ে গেছে সারা বছরের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফসল। হাওরে এখন শুধুই হাহাকার।
তবুও ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত, ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাওরের দিকে ছুটছেন কৃষক। হাঁটু থেকে বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন ।
কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলার হাওরে বুধবার দুপুরে দেখা যায়, অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাপুর গ্রামের কৃষক জলিল মিয়া বুক সমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন। তিনি বলেন, অর্ধেক কাটছি, কিন্তু কাটা ধান খলায় পচে যাচ্ছে। বাকি জমি ডুবে গেছে। কী করমু, বুঝতেছি না।

একই এলাকার কৃষক সালাম মিয়া বলেন, বজ্রপাতের আলোয় চোখ ঝাপসা হয়ে যায়, তবুও কেউ হাওর ছাড়ে না। ধান ঘরে না তুললে পরিবার নিয়ে চলবো কীভাবে?
জেলার হাওরের প্রায় সব এলাকায় একই অবস্থা। কোথাও ধান কাটার শেষ চেষ্টা, কেউ সব ছেড়ে দিয়ে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছেন। টানা বৃষ্টিতে জেলার প্রায় সব হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। কৃষকরা পানির নিচে কষ্টার্জিত ফসল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কৃষক শহীদ মিয়া বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল, একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। ধারদেনা করে জমি চাষাবাদ করেছিলাম, এখন সারা বছর কীভাবে চলব?
সমস্যা শুধু ফসল ডুবে যাওয়া নয়। যে ধান কেটে আনা হয়েছে, সেগুলোও রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না। খলায় রাখা ধান পচে যাচ্ছে, অনেক জায়গায় ধানে চারা গজাতে শুরু করেছে।

কৃষক আলাল মিয়া নিকলী বরুলিয়া হাওরে ধান চাষ করেছিলেন। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আগে তিনি অন্তত ৩০ মণ ধান কাটতে করতে পেরেছিলেন। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সেই ধান শুকাতে পারেননি এখনো।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতি সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে। বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমি। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ৬৩ হাজার ৬৮১ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ লাখ ৯৫ হাজার ২৯ মেট্রিক টন ধান।

কিশোরগঞ্জের নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আক্তার ফারুক জানান, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবারও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার হাওর এলাকায় ধান কাটা সম্পম্ন হয়েছে ৫১ শতাংশ। বুধবার দুপুর পর্যন্ত হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৩১ হেক্টর জমির ধান। এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।




