শিরোনাম

চলনবিলে বন্যা আতঙ্ক: ধান সংগ্রহে কৃষকের দিনরাত একাকার

নাটোর সংবাদদাতা
চলনবিলে বন্যা আতঙ্ক: ধান সংগ্রহে কৃষকের দিনরাত একাকার
চলন বিলে পানিতে ধান কাটছেন কৃষকরা। ছবি: সংগৃহীত

বন্যা আতঙ্কে চলনবিলে ধান কাটার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। পাকা ধান ঘরে তুলতে দিনরাত কাজ করছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকার কৃষকরা।

বন্যার পানি যেন জমিতে না যেতে পারে, সেই জন্য বিলের বিভিন্ন খালে অস্থায়ী মাটির বাঁধ নির্মাণ করেছেন গ্রামবাসী। এরই মধ্যে কিছু জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

কৃষক রবিউল মিয়া এবার চলনবিলে ২০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। গত সপ্তাহে পাঁচ-ছয় বিঘা জমির ধান কাটতে পেরেছিলেন। এর মধ্যেই ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ধান কাটা বন্ধ রেখেছেন তিনি।

এদিকে, টানা বৃষ্টিতে আত্রাই নদীর পানি বেড়ে উপজেলার দাহাপাড়া এলাকায় ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রামবাসীরা অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন। বিলের পুরো ধানকাটা শেষ করতে অন্তত ১০ দিন রোদময় দিন থাকা দরকার বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এই সংকট শুধু দাহাপাড়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। আত্রাই নদীর পানি বিলে প্রবেশ করায় সিংড়ার চলনবিলের পুরো অংশই এখন বন্যার হুমকিতে রয়েছে।

কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আগামী এক সপ্তাহ আবহাওয়া ভালো থাকলে বিলের সব ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ গণমাধ্যমকে বলেন, চলতি বছর উপজেলায় ৩৬ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার টন। সিংড়া দেশের অন্যতম বড় ধান উৎপাদনকারী উপজেলা। এই এলাকায় বৃষ্টিপাতের কারণে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত ১৪ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ধান কাটা পিছিয়ে যাচ্ছে। আত্রাই নদীর পানি বেড়ে খালে পানি ঢুকছে, যেকোনো সময় খেত ভাসিয়ে দিতে পারে পানি। এজন্য কৃষকরা ভয় পাচ্ছেন।

বন্যার পানি ঠেকাতে স্থানীয় কৃষি কার্যালয় ইতিমধ্যে জোরমল্লিকা, চৌগ্রাম ও শোলমারী এলাকায় তিনটি অস্থায়ী মাটির বাঁধ নির্মাণ করেছে।

সাতপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিলের প্রায় ৬০ শতাংশ ধান এখনো মাঠে রয়ে গেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং অস্থায়ী বাঁধগুলো টিকলে সব ফসল নিরাপদে ঘরে তোলা যাবে।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে গত কয়েক দিন ধরে আত্রাই নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। শুধু গত তিন দিনেই অন্তত ১০ ফুট পানি বেড়েছে।গতকাল সোমবার পর্যন্ত এই নদীর পানি বিপৎসীমার ২ দশমিক ৬৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি

/এসআর/