রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। ভবনের নকশা অনুমোদন জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ভূমি উন্নয়ন কর কমিয়ে দেওয়ার নামে তারা সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুষ আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
অবাধে ঘুষ লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় রাজউক এখন দুর্নীতির বিশাল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ কারণে এখানে যারা চাকরি করেন তারা ৫-৭ বছরের মধ্যেই একাধিক বহুতল ভবন, প্লট, ফ্ল্যাট, বিপণিবিতান, দোকান, দামি গাড়িসহ অনেক সম্পদের মালিক হয়ে যান। তাদের বিলাসি জীবনযাত্রা কর্পোরেট কর্মকর্তাদেরও হার মানায়। অথচ তারা রাজউকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও নন। তাদের মধ্যে কেউ উচ্চমান সহকারী, বেঞ্চ সহকারী, ইমারত পরিদর্শক, কেউ ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আর কেউবা কেবল অফিস সহকারী (পিয়ন)। এদের মধ্যে কেউ কেউ শত কোটি টাকার মালিকও বনে গেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র।
হিমাগার থেকে নতুন করে তদন্ত
সেবাগ্রহীতাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর ২০২৩ সালে রাজউকের ১৬ কর্মচারীর অনিয়ম তদন্তে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদের নথিপত্র পর্যালোচনা করে ১৪ জনের সম্পদে অসংগতি পায় এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করে। কিন্তু তিন বছরেও ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে সম্প্রতি বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসার পর রাজউকের বেশ কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে নেমে নামে-বেনামে অনেকের অঢেল সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। এসব অভিযোগ তদন্তে রাজউকও কমিটি গঠন করেছে।
দুদকের জালে আছে যারা
দুদক যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে, তারা হলো ইমারত পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান, তত্ত্বাবধায়ক এম এ বায়েজিদ খান, নকশাকার শফিউল্লাহ বাবু, ইমারত পরিদর্শক আমীর খসরু, অফিস সহকারী মো. তারিফুর রহমান, জাফর সাদিক, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আবদুল মোমিন, নকশাকার এমদাদ আলী, সুপারভাইজার খালেদ মোশাররফ তালুকদার (রুবেল), সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, বেঞ্চ সহকারী বাসার শরীফ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ইউসুফ মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর বেলাল হোসেন চৌধুরী রিপন, উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ হাসান ও রেকর্ড কিপার মো. ফিরোজ।
এ ছাড়া রাজউকের আরও ১৬ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরা হলেন আবুল বাশার, মালেক (অবসরে), কাবুল, বিপ্লব, নার্গিস, মিল্কী (অবসরে), ইমরান, জাহিদ, কালাম, খালেদ মোশাররফ, ইউসুফ মিয়া, শহীদ উল্লাহ বাবু, ফারুক মালুম, শেখ ফরিদ ও ফিরোজ। তারা রাজউকের কোটিপতি কর্মচারী হিসেবে পরিচিত।
কর্মচারীদের সম্পদের খতিয়ান
রাজউকের এসব কর্মচারী মাসের শেষে বড়জোর ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেতন পান। অথচ তারা থাকেন ২০ কোটি টাকার নিজ বাড়ি অথবা কয়েক কোটি টাকার বিশাল ফ্ল্যাটে। চড়েন টয়োটা ব্রান্ডের এক্সিও কিংবা প্রমিও মডেলের বিলাসবহুল গাড়িতে। এখানে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠে আসা কয়েকজন কর্মচারীর সম্পদের বিবরণ তুলে ধরা হলো।
শত কোটি টাকার মালিক ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান
ইমারত পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র সাত বছরের মধ্যে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। তিনি ২০১৮ সালের ২ জুলাই রাজউক প্রধান কার্যালয়ে যোগ দেন।
ইমারত পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র সাত বছরের মধ্যে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। তিনি ২০১৮ সালের ২ জুলাই রাজউক প্রধান কার্যালয়ে যোগ দেন। ২০২৩ সালে রাজউক জোন ৬-এ কর্মরত ছিলেন। ওই সময়ে দক্ষিণ পীরেরবাগের আমতলা টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাট কেনেন। ১৬৩০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটটির দাম ২ কোটি টাকার বেশি। বাংলামটরে সারিনা আশরাফ নিবাশের একটি ফ্ল্যাটের মালিকও তিনি। সেখানেই থাকেন মনিরুজ্জামান। বছর দুয়েক আগে মহাখালীর ফ্যালকন গার্ডেনে এক কোটি দশ লাখ টাকায় কিনেছেন আরেকটি ফ্ল্যাট। রয়েছে উত্তরার উলুদাহা বাউনিয়া মৌজায় পলিয়েন্থস ভবনে একটি ফ্ল্যাট| সাতাইশ টঙ্গী গাজীপুরে জমি কিনে নির্মাণ করেছেন টিনশেড বাড়ি। সেখানে ৯ টি কক্ষ রয়েছে।
এ ছাড়া বরিশালের চাঁদমারি বান্দ রোডে দশ শতক জমির উপর টিন শেডের তিন ইউনিটের ভবন রয়েছে তার। গ্রামের বাড়িতে করেছেন তিন তলা ভবন। নিজের স্ত্রী কানিজ জাহানের নামে রয়েছে ‘এমকে ডিজাইন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্ট লিমিটেড’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ,কেউ ভবন করতে গেলেই বিভিন্ন অজুহাতে তিনি কাজ বন্ধ করে দেন। চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ দিলে পুনরায় কাজ চালু করার অনুমতি দেন। ২০২৪ সালে মনিরুজ্জামান এবং তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশও পাঠিয়েছিল দুদক। নোটিশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পত্তির হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ওই নোটিশের কোনো জবাব দেননি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইমারত মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে ২৭ এপ্রিল কল দেওয়া হয় । কিন্তু তিনি কল ধরে পরিচয় শুনেই লাইন কেটে দেন।
৩৫ কোটি টাকার তিন ভবনের মাালিক বায়েজিদ খান
রাজউক উত্তরা জোনের তত্ত্বাবধায়ক এম এ বায়েজিদ খান| উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর প্লটের তিন কাঠা জমিতে নির্মিত ছয়তলা ভবনটির মালিক তিনি | এ ভবনের তৃতীয় তলায় তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়িটির বর্তমান বাজার মূল্য ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা।
রাজউক উত্তরা জোনের তত্ত্বাবধায়ক এম এ বায়েজিদ খান। উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর প্লটের তিন কাঠা জমিতে নির্মিত ছয়তলা ভবনটির মালিক তিনি। এ ভবনের তৃতীয় তলায় তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়িটির বর্তমান বাজার মূল্য ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়কের ছয় কাঠার ২০ ও ২২ নম্বর প্লটও বায়েজিদের। পাশাপাশি দুটি প্লট একত্রে করে ৯ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন কাঠার প্রতিটি প্লটের দাম ন্যূনতম ছয় কোটি টাকা। সে হিসাবে দুটি প্লটের দাম ১২ কোটি টাকা। এ ছাড়া দুটি প্লট একত্রে করে ৯ তলা ভবনের নির্মাণের কাজ শেষ করতে খরচ আনুমানিক আরও ১২ কোটি টাকা।
ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মোমিনের আছে সাততলা ভবন , ফ্ল্যাট
আবদুল মোমিনেরও প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদ আছে | এর মধ্যে রাজধানীর মুগদায় তার পাঁচ কাঠা জমিতে সাততলা ভবন| দক্ষিণ মান্ডার ‘শান্তির নীড় সুলতানা মহল’ভবনটির মালিকও তিনি। এই ভবনের বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা ।
আবদুল মোমিনেরও প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদ আছে। এর মধ্যে রাজধানীর মুগদায় তার পাঁচ কাঠা জমিতে সাততলা ভবন। দক্ষিণ মান্ডার ‘শান্তির নীড় সুলতানা মহল’ভবনটির মালিকও তিনি। এই ভবনের বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।
আবদুল মোমিন পরিবার নিয়ে থাকেন কমলাপুরের কবি জসীম উদ্দীন রোডের নিজ ফ্লাটে। ১ হাজার ৭২৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাটটির দাম প্রায় ২ কোটি টাকা। এ ছাড়া সাভারের ভাদাইল পুরোনো ইপিজেড এলাকায় হোসেন প্লাজার পাশে তার দুই বিঘা জমি আছে। সেখানে টিনশেড ভবন করে ভাড়া দিয়েছের পোশাককর্মীদের কাছে । ওই জমির দাম অন্তত ৫ কোটি টাকা ।
প্লট ও বাড়ির মালিক নকশাকার এমদাদ আলী
রাজধানীর দক্ষিন বারিধারার ১৩ নম্বর সড়কের ৫০ নম্বর বাড়ির ফটকে পাথরে খোদাই করে লেখা ‘চাঁদপুর হাউস’। পাঁচ কাঠা জমিতে নির্মিত এই ছয়তলা ভবনটির মালিক নকশাদার এমদাদ আলী। তৃতীয় তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। স্থানীয়দের কাছে রাজউকের বড় প্রকৌশলী হিসেবে পরিচি। এ ছাড়া ডেমরায় তার আরও দুটি সাত কাঠার প্লট আছে।
আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে। আমার বাবাও রাজউকের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। বাড্ডায় যে বাড়িটির কথা বলা হয়েছে, তা আমার পৈতৃক সম্পত্তি। এমদাদ আলী, নকশাদার, রাজউক
এই প্লট ও জমির মালিক কীভাবে হয়েছেন তা জানতে ২৭ এপ্রিল এমদাদ আলীর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে। আমার বাবাও রাজউকের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। বাড্ডায় যে বাড়িটির কথা বলা হয়েছে, তা আমার পৈতৃক সম্পত্তি।
বেঞ্চ সহকারী বাশার শরীফ
নথি গায়েবের অভিযোগে ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট বেঞ্চ সহকারী বাশার শরীফকে বরখাস্ত করে রাজউক। মানিকনগরের পুকুরপাড় এলাকার একটি ভবনে তার ২ হাজার ৬০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট আছে| চড়েন টয়োটা ব্রান্ডের নোয়া মডেলের গাড়িতে। গত বছরের ১৬ অক্টোবর দুদক বাশার শরীফের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে।
রাজউকের কর্মচারীদের দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (বোর্ড, জনসংযোগ ও প্রটোকল) শীলাব্রত কর্মকার সিটিজেন জার্নালকে জানান, এসব বিষয়ে কথা বলবেন রাজউক চেয়ারম্যান। তবে পরে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা তারাই নেবেন। আর দুদক যদি অবৈধ টাকা বা সম্পত্তির অর্জনের প্রমাণ পায়, তাহলে তারা তাদের মতো আইনি ব্যবস্থা নেবে।
এ প্রসঙ্গে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, রাজউকের একজন ১৭তম গ্রেডের কর্মচারীও কোটি টাকার মালিক। বেশ কয়েকজনের চাকরির বয়স মাত্র পাঁচ থেকে সাত বছর। এত অল্প সময়ে অঢেল সম্পদ দেখেই অনুমান করা যায়- তারা কী পরিমাণে দুর্নীতি করেছেন।
তিনি আরও বলেন ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করলেই মামলা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজউকের কাজ কি
রাজউকের সেবামূলক কয়েকটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে ভবনের নকশা অনুমোদন, প্লটের মালিকানা হস্তান্তর ও নামজারি, ভবন বা স্থাপনার উচ্চতা–সংক্রান্ত ছাড়পত্র, আবাসন প্রকল্প পরিচালনা ও প্লট বরাদ্দ, জমি ও ভবনের তথ্য দেওয়া, নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও হালনাগাদ, ভবন নির্মাণ তদারকি ও পরিদর্শন।
রাজউকে কীভাবে হয় দুর্নীতি
রাজউকের আওতাধীন এলাকায় ভবন নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটির অনুমতি লাগে। আবার প্রতিষ্ঠানটি ভূমি উন্নয়ন করে প্লট আকারে বিক্রি করেছে। রাজউকের ফ্ল্যাটের ব্যবসাও আছে। এসব কাজে বিশেষ করে ভবন নির্মাণে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয় গ্রাহকদের। ভবনের অকুপেন্সি সনদ (ব্যবহার ছাড়পত্র), নির্মাণ ও নকশা অনুমোদন, উচ্চতা কমানো-বাড়ানো-এসব কিছুর এখতিয়ার সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের। সেই সুযোগ নিয়ে রাজউকে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। এই সিন্ডিকেটই সেবাগ্রহীতাদের নানাভাবে হয়রানি করে ও বেকায়দায় ফেলে কোটি কোটি টাকা আদায় করছে ।
গবেষণায় দুর্নীতির প্রমাণ
রাজউকের সেবা নিয়ে ছয় বছর আগে গবেষণা করেছিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ওই গবেষণায় বলা হয়েছিল, রাজউক দুর্নীতির প্রতীকেও পরিণত হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে রাজউকের সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ঢাকার উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করছে ।
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, রাজউকের দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মচারীদের ঊর্ধ্বতন, অধস্তন এবং সমপর্যায়ে যারা এই অপরাধের অংশীদার হয়েছেন তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এসব কর্মকর্তার বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে গত ২৭ এপ্রিল কল করলেও তিনি ধরেননি।
দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজউকের মতো প্রতিষ্ঠানে যদি অফিস সহকারী বা কম্পিউটার অপারেটররা শত কোটি টাকার মালিক হতে পারেন, তবে সেখানে সুশাসন বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই। কেবল তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ না করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাই হবে এই দুর্নীতির মচ্ছব বন্ধ করার একমাত্র পথ।