শিরোনাম

উখিয়ার গহীন জঙ্গলে রহস্যময় বাড়ি ঘিরে চাঞ্চল্য

কক্সবাজার প্রতিনিধি
উখিয়ার গহীন জঙ্গলে রহস্যময় বাড়ি ঘিরে চাঞ্চল্য
উখিয়ার গহীন জঙ্গলে রহস্যময় বাড়ি। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার গভীর জঙ্গলে একটি রহস্যময় বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ।

উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের চাকবৈঠা-করইবনিয়া এলাকায় এই বাড়ির অবস্থান। সরেজমিনে দেখা যায়, উখিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তঘেঁষা গহীন অরণ্যের ভেতরে নির্মিত একটি বসতঘরে বসবাস করছেন রত্নাপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা সোলাইমান বাদশার ছেলে ছৈয়দ হামজা। এমন দুর্গম ও নির্জন স্থানে তার বসবাস নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে কৌতূহল ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী এই জঙ্গলপথ ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে চোরাকারবারিরা বিভিন্ন মাদকদ্রব্য এনে মজুদ রাখে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ওই রহস্যময় বাড়ির কাছাকাছি এলাকা থেকে বিভিন্ন সময় ইয়াবা উদ্ধার করেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাড়ির মালিক ছৈয়দ হামজা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন মিয়ানমারের এক নারী জোবাইদাকে। তাদের তিন সন্তান– আব্দুল্লাহ, সালামত উল্লাহ ও সাইফুল্লাহ। জনশ্রুতি রয়েছে, পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেই মাদক পরিবহন করা হয়।

উখিয়ার গহীন জঙ্গলে রহস্যময় বাড়ি। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
উখিয়ার গহীন জঙ্গলে রহস্যময় বাড়ি। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে ছৈয়দ হামজার আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি এখন গরু-মহিষের বড় খামারের মালিক হয়েছেন, যা নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি জোরদারের দাবিও জানান তারা।

ছৈয়দ হামজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি চিকিৎসার কাজে এলাকার বাইরে আছেন বলে জানান। তবে তার স্ত্রী, রোহিঙ্গা নারী জোবাইদা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে বনের জমিতে ছৈয়দ হামজার প্রভাব বা দখল কোন ভিত্তিতে বৈধতা পাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের কয়েকজন সদস্য। তারা মনে করছেন, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা জরুরি।

ভালুকিয়া বন বিট কর্মকর্তা মোজাম্মেল বলেন, বনের জায়গা দখল করে কেউ স্থাপনা করতে পারবে না। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিএসসি জানান, চাকবৈঠা-করইবনিয়াসহ সীমান্তের চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

/এফসি/