শিরোনাম

কেন উত্তপ্ত ডিমের বাজার

কেন উত্তপ্ত ডিমের বাজার
কারওয়ান বাজারে ডিমের পসরা নিয়ে বসেছেন একজন খুচরা বিক্রেতা। ছবি: সংগৃহীত

ডিমের বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। একদিনের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজনে দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে ।

রাজধানিীর কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, আড়তদারেরা মজুত করে রাখায় ও তাদের সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

তবে সিন্ডিকেট করে ডিমের দাম বাড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আড়তদারেরা। তাদের দাবি, খামার থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ডিমের দাম বেড়েছে।

খুচরা বিক্রেতাদের বক্তব্য

আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারণে ডিমের দাম বেড়েছে বলে মনে করছেন খুচরা বিক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, যখন ডিমের দাম কম ছিল, তখন আড়তদাররা ডিম মজুত করে রেখেছে। এখন দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা দাম বৃদ্ধি করেছে। এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে পারলে ডিমের দাম কমে যাবে।

কারওয়ান বাজারের ডিম বিক্রেতা নুর আলম বলেন, আজকে (১১ মে) লাল ডিমের ডজন ১৫০ টাকা, আর সাদা ডিমের ডজন ১৩৫ টাকা। গতকাল লাল ডিমের ডজন ছিল ১৪০ টাকা করে আর সাদা ডিমের ডজন ছিল ১৩০ টাকা। এক দিনের ব্যবধানে লাল ডিমের প্রতি ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা আর সাদা ডিমের বেড়েছে ৫ টাকা করে।

তিনি জানান, পাইকারিতে প্রতিটি লাল ডিমের দাম ১১ টাকা ৭০ পয়সা. আর সাদা ডিমের দাম ১০ টাকা ৭০ পয়সা পড়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী, ১০০টি লাল ডিমের দাম ১ হাজার ১৭০ টাকা এবং প্রতি ডজনের দাম পড়েছে ১৪০ দশমিক ৪ টাকা করে। এক হালি লাল ডিমের দাম পড়েছে ৪৬ দশমিক ৮ টাকা করে। আর সাদা ডিম প্রতি ১০০ পিসের দাম ১০৭০ টাকা এবং প্রতি ডজনের দাম ১২৮ দশমিক ৪ টাকা করে। এক হালি সাদা ডিমের দাম পড়েছে ৪২ দশমিক ৮ টাকা করে।

খুচরা বিক্রেতা নুর আলম বলেন, আমরা বর্তমানে লাল ডিম প্রতি পিস বিক্রি করছি সাড়ে ১২ টাকা করে, আর প্রতি ডজন বিক্রি করছি ১৫০ টাকা করে। এদিকে, সাদা ডিম প্রতি পিস বিক্রি করছি সাড়ে ১১ টাকা করে। প্রতি ডজন বিক্রি করছি ১৩৫ টাকা করে।

বর্তমান মূল্য অনুযায়ী হিসেব করে দেখা গেছে, লাল ডিমের প্রতি হালির দাম ৫০ টাকা আর সাদা ডিমের প্রতি হালির দাম ৪৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

আড়তদাররা বলছেন ভিন্ন কথা

তেজগাঁওয়ের ডিমের আড়তদার আল-আমীন ট্রেডার্সের মালিক মো. আল-আমীন জানান, সিন্ডিকেট করে ডিমের দাম বাড়ানো হয়নি এবং সিন্ডিকেট করার কোনো সুযোগ নেই। খামার থেকে দাম বাড়ানোর কারণেই তাদেরকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগই নেই। খামারিদের কাছ থেকে ডিম আনার পরপরই আমরা বিক্রি করে ফেলি। আমরা ডিম মজুত করিনি।’

ডিমের দাম বৃদ্ধি হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ সরকারি স্কুলে টিফিনে ডিম বরাদ্দ রাখার কারণে খামারে ডিমের চাহিদা বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবার ডিমের দাম অনেক কম থাকায় অনেক খামারি ডিম পাড়া মুরগি বিক্রি করে দিয়েছে। এ কারণেও বড় সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

খামারিদের কাছ থেকে কত টাকায় ডিম কেনা হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা লাল ডিম ১০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১১ টাকায় কিনি। আর সাদা ডিম ৯ টাকা ৭০ পয়সা করে কিনি। এরপরে আমরা অল্প কিছু প্রফিট করে বিক্রি করি।’

এদিকে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ১০০টি লাল ডিম ১১০০ টাকা এবং সাদা ডিম ১ হাজার টাকা করে বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

ডিমের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের ক্ষোভ

ডিমের দাম বাড়তে থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মানিক নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘এভাবে দাম বাড়লে কেমনে চলবে? সবজির পাশাপাশি এখন ডিমের দামও বেড়ে গেছে। আরও কত বাড়বে আল্লাহ জানে। এরকম দাম বাড়তে থাকলে সামনের দিকে ডিম খাওয়াও বাদ দিতে হবে।’

/এমআর/