শিরোনাম

উপাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক করে অর্থ আত্মসাৎ, গ্রেফতার ১

সিটিজেন ডেস্ক
উপাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক করে অর্থ আত্মসাৎ, গ্রেফতার ১
হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাকের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে প্রতারক চক্রের ১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাকের মাধ্যমে তার পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে সংঘবদ্ধ এক প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের ০১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।

সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাতে ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সদর থানার নৃসিংহপুর গ্রাম থেকে প্রতারক চক্রের ঐ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম রিহাদ হাসান (২৩। তিনি জেলার সদর থানার গড়িয়াল গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকালে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং মোবাইল ফোনটি পর্যালোচনা করে অবৈধ অনলাইন জুয়ার প্রায় ৪০টির মতো অ্যাপসের সক্রিয় উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জুয়ার টাকা যোগাড় করতে বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ আইডি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয় এ চক্র। এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল (ডিএমপি) থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর অধীনে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। মামলা নম্বর ৪০।

বাদীর দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি এক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা তার কর্মস্থলে অবস্থানকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) পরিচয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান। বার্তায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত দুটি বিকাশ নম্বরে অর্থ পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রতারক চক্র ফোন রিসিভ না করে বার্তার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে বাদী সরল বিশ্বাসে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারকদের পাঠানো বিকাশ নম্বরে ৫৫ হাজার টাকা পাঠান। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ভিসির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে ভাইস চ্যান্সেলর জানান তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি হ্যাকড হয়েছে এবং তিনি এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেননি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত বলে স্বীকার করেছে। সে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত জুয়া খেলত এবং প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ জুয়ায় ব্যয় করত।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা এ বিষয়ে জানতে তার বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদনসহ সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

/এমআর/