শিরোনাম

আমিরাতে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা

সিটিজেন ডেস্ক
আমিরাতে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরায় তেল শোধনাগারে ইরানের হামলার পর আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ছবি: আল জাজিরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে গতকালের (৪ মে) ড্রোন হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে করে আগে থেকে বিদ্যমান অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মঙ্গলবার (৫ মে) কাতার থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি আসাদ বেগ জানিয়েছেন, হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে পরিস্থিতি যে উদ্বেগজনক, তা ইতোমধ্যেই স্পষ্ট।

আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। তারপরও একটি ড্রোন দেশটির ফুজাইরা অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় সেখানে কর্মরত তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন।

দেশটির পূর্ব উপকূলে অবস্থিত ফুজাইরা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইরান থেকে একযোগে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

গত এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তার পর এই হামলাকে সবচেয়ে বড় উত্তেজনাকর ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে ইতোমধ্যেই নাজুক অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।

যদিও আমিরাত সরাসরি এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে, তেহরান এখন পর্যন্ত এ অভিযোগ অস্বীকার বা স্বীকার—কোনোটিই স্পষ্টভাবে করেনি। এদিকে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরান সংশ্লিষ্ট আগের সংঘাত চলাকালে অন্তত সাতটি আরব দেশ হামলার মুখে পড়েছিল। সে সময় শুধু আমিরাতকে লক্ষ্য করেই ৬ হাজার ৪১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

অঞ্চলের দেশগুলো অতীতের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা পুনরায় দেখতে চায় না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমেই এমন দিকে এগোচ্ছে, যা তাদের আবারও অনিচ্ছাকৃতভাবে সংঘাতের মুখোমুখি করে তুলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমআর/