ঈদ বাজার
তরুণীদের ঝোঁক ‘ফারসি’ থ্রি-পিসে, তরুণদের পছন্দ ‘বেগি’ প্যান্ট

তরুণীদের ঝোঁক ‘ফারসি’ থ্রি-পিসে, তরুণদের পছন্দ ‘বেগি’ প্যান্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর

উৎসবের আনন্দকে রাঙিয়ে নিতে শেষ মুহূর্তে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত ফরিদপুরের সাধারণ মানুষ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিপণিবিতানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। ইফতারের পর থেকে শুরু করে সেহরি পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা।
জানা গেছে. ফরিদপুর শহরের নিউমার্কেট, চকবাজার, জনতা ব্যাংক মোড়, ঝিলটুলী ও নিলটুলীতে বিপণিবিতান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেচাকেনা ভালোই চলছে। ক্রেতাদের মধ্যে কেউ পোশাক দেখছেন, কেউ দরদাম করছেন। পছন্দ হলে কিনে নিচ্ছেন।
এবারের ঈদে ফরিদপুরের বাজারে তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে ভারতীয় ও ফারসি স্টাইলের থ্রি-পিস এবং তরুণদের নজর কেড়েছে ‘বেগি’ প্যান্ট ও টি-শার্ট।
ফরিদপুর নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেটের বেশিরভাগ ক্রেতা নারী ও তরুণীরা। নতুন ডিজাইন, পছন্দের রং, মানানসই পোশাকটি খুঁজে খুঁজে কিনছেন তারা।
কথা হয় ঈদের পোশাক কিনতে আসা সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে। সঙ্গে ছিল তার ছোট বোন তাবাচ্ছুম ইসলাম। দ্বাদশ শ্রেণির কলেজ ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘এবার ঈদের জন্য অনলাইনে ফারসি ও পাকিস্তানি ডিজাইনের অনেক পোশাক দেখেছি। তাই বাজারে এসে সেই রকম ডিজাইন খুঁজছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার জন্য সুতি কাপড়ের সারারা থ্রি-পিস বানাতে দিয়েছি। এখন ছোট বোনের জন্য একই ধরনের থ্রি-পিস কিনতে এসেছি।’
নারীদের পোশাকের পাশাপাশি নিউমার্কেটে পুরুষদের পোশাকের দোকানেও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের ঈদেও নতুন পাঞ্জাবি কিনছেন কেউ কেউ। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও কাপড় কিনতে এসেছেন অনেক তরুণ।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. রমজান সরদার বলেন, বাবা-মা, ছোট ভাই-বোনদের জন্য পোশাক কিনেছি। কিন্তু বউয়ের জন্য থ্রি-পিস কিনতেই আমার ৮ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নারীদের পোশাক ও স্যান্ডেল দুইটারই দাম বেশি।
তরুণদের পোশাকের জন্য জনপ্রিয় শপিংমল বাড়ি প্লাজা। শপিং মলের আলভিনা ফ্যাশনের মালিক মো. ইকবাল হাসান জানান, ঈদে সাধারণত তরুণদের পাঞ্জাবি বিক্রি বেশি হয়। এবার ‘বেগি’ প্যান্ট বেশি চলছে। পাশাপাশি মানানসই টিশার্টও চলছে ভালো।
শপিং মলের পাশাপাশি শহরের ফুটপাতেও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ফুটপাতের ভ্যানে মিলছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার টি-শার্ট, ৫০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি।
চকবাজার মসজিদের পাশের সড়কে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টি অস্থায়ী দোকানে পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশ। পাঞ্জাবির পাশাপাশি এখানে ১০০ টাকার মধ্যে শার্ট এবং ২৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে জুতা ও স্যান্ডেলও বিক্রি হচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ভিড় করছেন এসব দোকানে।
ভ্যানে করে পাঞ্জাবি বিক্রি করেন শরিফুল ইসলাম। তিনি জানালেন, গত কয়েক দিনে আমার পাঞ্জাবির বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে কটন পাঞ্জাবি ও এমব্রয়ডারি করা পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি।

প্রতিটি মার্কেটে শিশুদের পোশাকের চাহিদাও বেড়েছে। বিশেষ করে শহরের অভিজাত ফ্যাশন ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে শিশুদের পোশাকের বিক্রি তুঙ্গে। প্যান্ট-জামা সেট, ফ্রক, জিন্সের প্যান্ট-শার্ট ইত্যাদির চাহিদা বেশি।
জনপ্রিয় একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের আউটলেটে ছেলের জন্য পোশাক কিনছেন এক দম্পতি। স্বামী রুবেল মিয়া বলেন, নিজেদের পোশাক পরে কিনলেও চলে, কিন্তু বাচ্চাদের জন্য আগে কিনতে হয়। ঈদে নতুন জামা দিলে তারা সবচেয়ে বেশি খুশি হয়।
অন্যদিকে, এবার ঈদের কেনাকাটায় জুতা, প্রসাধনী, ঘড়ি, ব্যাগ ও প্রসাধন সামগ্রীর দোকানগুলোতেও ভালো বেচাকেনা হচ্ছে।
ফরিদপুর বৃহত্তর জুতার মার্কেটের হাসান সুজের মালিক হায়দার চৌধুরী বলেন, ঈদের আগে সাধারণত জুতার বিক্রি বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তরুণদের মধ্যে স্যান্ডেল এবং স্নিকার্সের চাহিদা বেশি বলেও জানান তিনি।
দাম নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে নারীদের মধ্যেও। শহরের তালতলা মহল্লার বাসিন্দা গৃহিণী মমতাজ বেগম বলেন, এবার মেয়েদের পোশাকের দাম বেশি। গত বছর যে থ্রি-পিস ৩ হাজার টাকায় পেয়েছি, এবার সেটা ৪ হাজার টাকার বেশি চাইছে। এবার কাপড়ের দাম ও সেলাইয়ের খরচ দুইটাই বেড়েছে বলেও জানান এ গৃহিণী।
ক্রেতাদের এসব অভিযোগ স্বীকারও করলেন নিউমার্কেটের তামান্না ফ্যাশনের মালিক ব্যবসায়ী জমশেদ মৃধা। তবে তার দাবি, পাইকারি বাজারে কাপড়ের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া পরিবহন ভাড়া, দোকান ভাড়াসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও দেশের নানা সংকটকেও কাপড়ের দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন তিনি।
এবার প্রত্যাশা অনুযায়ী বেচা-কেনা হয়নি বলে দাবি করেছেন ফরিদপুর বাজার বণিক সমিতির সহসভাপতি মো. জনি আহম্মেদ। তিনি বলেন, ফরিদপুর মার্কেটে যে ধরনের পোশাকসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য সামগ্রী বিক্রি করা হয়, সেগুলো ঢাকা থেকে পাইকারি কেনা হয়। কেনা দাম বেশি হলে, বিক্রির সময় বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
জনি আহম্মেদ আরও বলেন, বেচাকেনা তেমন ভালো হয়নি। এতে অনেক দোকানদারকে ঢাকার মহাজনদের পেমেন্ট দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঈদের আগে ফরিদপুর শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্রেতাদের নির্বিঘ্নে কেনাকাটা নিশ্চিত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই এবার ঈদের কেনাকাটা করতে পারছেন ক্রেতারা।

উৎসবের আনন্দকে রাঙিয়ে নিতে শেষ মুহূর্তে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত ফরিদপুরের সাধারণ মানুষ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিপণিবিতানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। ইফতারের পর থেকে শুরু করে সেহরি পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা।
জানা গেছে. ফরিদপুর শহরের নিউমার্কেট, চকবাজার, জনতা ব্যাংক মোড়, ঝিলটুলী ও নিলটুলীতে বিপণিবিতান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেচাকেনা ভালোই চলছে। ক্রেতাদের মধ্যে কেউ পোশাক দেখছেন, কেউ দরদাম করছেন। পছন্দ হলে কিনে নিচ্ছেন।
এবারের ঈদে ফরিদপুরের বাজারে তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে ভারতীয় ও ফারসি স্টাইলের থ্রি-পিস এবং তরুণদের নজর কেড়েছে ‘বেগি’ প্যান্ট ও টি-শার্ট।
ফরিদপুর নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেটের বেশিরভাগ ক্রেতা নারী ও তরুণীরা। নতুন ডিজাইন, পছন্দের রং, মানানসই পোশাকটি খুঁজে খুঁজে কিনছেন তারা।
কথা হয় ঈদের পোশাক কিনতে আসা সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে। সঙ্গে ছিল তার ছোট বোন তাবাচ্ছুম ইসলাম। দ্বাদশ শ্রেণির কলেজ ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘এবার ঈদের জন্য অনলাইনে ফারসি ও পাকিস্তানি ডিজাইনের অনেক পোশাক দেখেছি। তাই বাজারে এসে সেই রকম ডিজাইন খুঁজছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার জন্য সুতি কাপড়ের সারারা থ্রি-পিস বানাতে দিয়েছি। এখন ছোট বোনের জন্য একই ধরনের থ্রি-পিস কিনতে এসেছি।’
নারীদের পোশাকের পাশাপাশি নিউমার্কেটে পুরুষদের পোশাকের দোকানেও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের ঈদেও নতুন পাঞ্জাবি কিনছেন কেউ কেউ। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও কাপড় কিনতে এসেছেন অনেক তরুণ।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. রমজান সরদার বলেন, বাবা-মা, ছোট ভাই-বোনদের জন্য পোশাক কিনেছি। কিন্তু বউয়ের জন্য থ্রি-পিস কিনতেই আমার ৮ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নারীদের পোশাক ও স্যান্ডেল দুইটারই দাম বেশি।
তরুণদের পোশাকের জন্য জনপ্রিয় শপিংমল বাড়ি প্লাজা। শপিং মলের আলভিনা ফ্যাশনের মালিক মো. ইকবাল হাসান জানান, ঈদে সাধারণত তরুণদের পাঞ্জাবি বিক্রি বেশি হয়। এবার ‘বেগি’ প্যান্ট বেশি চলছে। পাশাপাশি মানানসই টিশার্টও চলছে ভালো।
শপিং মলের পাশাপাশি শহরের ফুটপাতেও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ফুটপাতের ভ্যানে মিলছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার টি-শার্ট, ৫০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি।
চকবাজার মসজিদের পাশের সড়কে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টি অস্থায়ী দোকানে পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশ। পাঞ্জাবির পাশাপাশি এখানে ১০০ টাকার মধ্যে শার্ট এবং ২৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে জুতা ও স্যান্ডেলও বিক্রি হচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ভিড় করছেন এসব দোকানে।
ভ্যানে করে পাঞ্জাবি বিক্রি করেন শরিফুল ইসলাম। তিনি জানালেন, গত কয়েক দিনে আমার পাঞ্জাবির বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে কটন পাঞ্জাবি ও এমব্রয়ডারি করা পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি।

প্রতিটি মার্কেটে শিশুদের পোশাকের চাহিদাও বেড়েছে। বিশেষ করে শহরের অভিজাত ফ্যাশন ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে শিশুদের পোশাকের বিক্রি তুঙ্গে। প্যান্ট-জামা সেট, ফ্রক, জিন্সের প্যান্ট-শার্ট ইত্যাদির চাহিদা বেশি।
জনপ্রিয় একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের আউটলেটে ছেলের জন্য পোশাক কিনছেন এক দম্পতি। স্বামী রুবেল মিয়া বলেন, নিজেদের পোশাক পরে কিনলেও চলে, কিন্তু বাচ্চাদের জন্য আগে কিনতে হয়। ঈদে নতুন জামা দিলে তারা সবচেয়ে বেশি খুশি হয়।
অন্যদিকে, এবার ঈদের কেনাকাটায় জুতা, প্রসাধনী, ঘড়ি, ব্যাগ ও প্রসাধন সামগ্রীর দোকানগুলোতেও ভালো বেচাকেনা হচ্ছে।
ফরিদপুর বৃহত্তর জুতার মার্কেটের হাসান সুজের মালিক হায়দার চৌধুরী বলেন, ঈদের আগে সাধারণত জুতার বিক্রি বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তরুণদের মধ্যে স্যান্ডেল এবং স্নিকার্সের চাহিদা বেশি বলেও জানান তিনি।
দাম নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে নারীদের মধ্যেও। শহরের তালতলা মহল্লার বাসিন্দা গৃহিণী মমতাজ বেগম বলেন, এবার মেয়েদের পোশাকের দাম বেশি। গত বছর যে থ্রি-পিস ৩ হাজার টাকায় পেয়েছি, এবার সেটা ৪ হাজার টাকার বেশি চাইছে। এবার কাপড়ের দাম ও সেলাইয়ের খরচ দুইটাই বেড়েছে বলেও জানান এ গৃহিণী।
ক্রেতাদের এসব অভিযোগ স্বীকারও করলেন নিউমার্কেটের তামান্না ফ্যাশনের মালিক ব্যবসায়ী জমশেদ মৃধা। তবে তার দাবি, পাইকারি বাজারে কাপড়ের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া পরিবহন ভাড়া, দোকান ভাড়াসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও দেশের নানা সংকটকেও কাপড়ের দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন তিনি।
এবার প্রত্যাশা অনুযায়ী বেচা-কেনা হয়নি বলে দাবি করেছেন ফরিদপুর বাজার বণিক সমিতির সহসভাপতি মো. জনি আহম্মেদ। তিনি বলেন, ফরিদপুর মার্কেটে যে ধরনের পোশাকসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য সামগ্রী বিক্রি করা হয়, সেগুলো ঢাকা থেকে পাইকারি কেনা হয়। কেনা দাম বেশি হলে, বিক্রির সময় বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
জনি আহম্মেদ আরও বলেন, বেচাকেনা তেমন ভালো হয়নি। এতে অনেক দোকানদারকে ঢাকার মহাজনদের পেমেন্ট দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঈদের আগে ফরিদপুর শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্রেতাদের নির্বিঘ্নে কেনাকাটা নিশ্চিত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই এবার ঈদের কেনাকাটা করতে পারছেন ক্রেতারা।

তরুণীদের ঝোঁক ‘ফারসি’ থ্রি-পিসে, তরুণদের পছন্দ ‘বেগি’ প্যান্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর

উৎসবের আনন্দকে রাঙিয়ে নিতে শেষ মুহূর্তে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত ফরিদপুরের সাধারণ মানুষ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিপণিবিতানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। ইফতারের পর থেকে শুরু করে সেহরি পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা।
জানা গেছে. ফরিদপুর শহরের নিউমার্কেট, চকবাজার, জনতা ব্যাংক মোড়, ঝিলটুলী ও নিলটুলীতে বিপণিবিতান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেচাকেনা ভালোই চলছে। ক্রেতাদের মধ্যে কেউ পোশাক দেখছেন, কেউ দরদাম করছেন। পছন্দ হলে কিনে নিচ্ছেন।
এবারের ঈদে ফরিদপুরের বাজারে তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে ভারতীয় ও ফারসি স্টাইলের থ্রি-পিস এবং তরুণদের নজর কেড়েছে ‘বেগি’ প্যান্ট ও টি-শার্ট।
ফরিদপুর নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেটের বেশিরভাগ ক্রেতা নারী ও তরুণীরা। নতুন ডিজাইন, পছন্দের রং, মানানসই পোশাকটি খুঁজে খুঁজে কিনছেন তারা।
কথা হয় ঈদের পোশাক কিনতে আসা সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে। সঙ্গে ছিল তার ছোট বোন তাবাচ্ছুম ইসলাম। দ্বাদশ শ্রেণির কলেজ ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘এবার ঈদের জন্য অনলাইনে ফারসি ও পাকিস্তানি ডিজাইনের অনেক পোশাক দেখেছি। তাই বাজারে এসে সেই রকম ডিজাইন খুঁজছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার জন্য সুতি কাপড়ের সারারা থ্রি-পিস বানাতে দিয়েছি। এখন ছোট বোনের জন্য একই ধরনের থ্রি-পিস কিনতে এসেছি।’
নারীদের পোশাকের পাশাপাশি নিউমার্কেটে পুরুষদের পোশাকের দোকানেও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের ঈদেও নতুন পাঞ্জাবি কিনছেন কেউ কেউ। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও কাপড় কিনতে এসেছেন অনেক তরুণ।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. রমজান সরদার বলেন, বাবা-মা, ছোট ভাই-বোনদের জন্য পোশাক কিনেছি। কিন্তু বউয়ের জন্য থ্রি-পিস কিনতেই আমার ৮ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নারীদের পোশাক ও স্যান্ডেল দুইটারই দাম বেশি।
তরুণদের পোশাকের জন্য জনপ্রিয় শপিংমল বাড়ি প্লাজা। শপিং মলের আলভিনা ফ্যাশনের মালিক মো. ইকবাল হাসান জানান, ঈদে সাধারণত তরুণদের পাঞ্জাবি বিক্রি বেশি হয়। এবার ‘বেগি’ প্যান্ট বেশি চলছে। পাশাপাশি মানানসই টিশার্টও চলছে ভালো।
শপিং মলের পাশাপাশি শহরের ফুটপাতেও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ফুটপাতের ভ্যানে মিলছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার টি-শার্ট, ৫০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি।
চকবাজার মসজিদের পাশের সড়কে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টি অস্থায়ী দোকানে পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশ। পাঞ্জাবির পাশাপাশি এখানে ১০০ টাকার মধ্যে শার্ট এবং ২৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে জুতা ও স্যান্ডেলও বিক্রি হচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ভিড় করছেন এসব দোকানে।
ভ্যানে করে পাঞ্জাবি বিক্রি করেন শরিফুল ইসলাম। তিনি জানালেন, গত কয়েক দিনে আমার পাঞ্জাবির বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে কটন পাঞ্জাবি ও এমব্রয়ডারি করা পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি।

প্রতিটি মার্কেটে শিশুদের পোশাকের চাহিদাও বেড়েছে। বিশেষ করে শহরের অভিজাত ফ্যাশন ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে শিশুদের পোশাকের বিক্রি তুঙ্গে। প্যান্ট-জামা সেট, ফ্রক, জিন্সের প্যান্ট-শার্ট ইত্যাদির চাহিদা বেশি।
জনপ্রিয় একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের আউটলেটে ছেলের জন্য পোশাক কিনছেন এক দম্পতি। স্বামী রুবেল মিয়া বলেন, নিজেদের পোশাক পরে কিনলেও চলে, কিন্তু বাচ্চাদের জন্য আগে কিনতে হয়। ঈদে নতুন জামা দিলে তারা সবচেয়ে বেশি খুশি হয়।
অন্যদিকে, এবার ঈদের কেনাকাটায় জুতা, প্রসাধনী, ঘড়ি, ব্যাগ ও প্রসাধন সামগ্রীর দোকানগুলোতেও ভালো বেচাকেনা হচ্ছে।
ফরিদপুর বৃহত্তর জুতার মার্কেটের হাসান সুজের মালিক হায়দার চৌধুরী বলেন, ঈদের আগে সাধারণত জুতার বিক্রি বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তরুণদের মধ্যে স্যান্ডেল এবং স্নিকার্সের চাহিদা বেশি বলেও জানান তিনি।
দাম নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে নারীদের মধ্যেও। শহরের তালতলা মহল্লার বাসিন্দা গৃহিণী মমতাজ বেগম বলেন, এবার মেয়েদের পোশাকের দাম বেশি। গত বছর যে থ্রি-পিস ৩ হাজার টাকায় পেয়েছি, এবার সেটা ৪ হাজার টাকার বেশি চাইছে। এবার কাপড়ের দাম ও সেলাইয়ের খরচ দুইটাই বেড়েছে বলেও জানান এ গৃহিণী।
ক্রেতাদের এসব অভিযোগ স্বীকারও করলেন নিউমার্কেটের তামান্না ফ্যাশনের মালিক ব্যবসায়ী জমশেদ মৃধা। তবে তার দাবি, পাইকারি বাজারে কাপড়ের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া পরিবহন ভাড়া, দোকান ভাড়াসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও দেশের নানা সংকটকেও কাপড়ের দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন তিনি।
এবার প্রত্যাশা অনুযায়ী বেচা-কেনা হয়নি বলে দাবি করেছেন ফরিদপুর বাজার বণিক সমিতির সহসভাপতি মো. জনি আহম্মেদ। তিনি বলেন, ফরিদপুর মার্কেটে যে ধরনের পোশাকসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য সামগ্রী বিক্রি করা হয়, সেগুলো ঢাকা থেকে পাইকারি কেনা হয়। কেনা দাম বেশি হলে, বিক্রির সময় বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
জনি আহম্মেদ আরও বলেন, বেচাকেনা তেমন ভালো হয়নি। এতে অনেক দোকানদারকে ঢাকার মহাজনদের পেমেন্ট দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঈদের আগে ফরিদপুর শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্রেতাদের নির্বিঘ্নে কেনাকাটা নিশ্চিত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই এবার ঈদের কেনাকাটা করতে পারছেন ক্রেতারা।




