শিরোনাম

ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা

সিটিজেন ডেস্ক
ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা
মমতা বন্দোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৫ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অধ্যায়ের নাটকীয় অবসান ঘটল। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২(খ) উপ-ধারার বিশেষ ক্ষমতা বলে বর্তমান বিধানসভা ও মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এর মাধ্যমে ২০১১ সাল থেকে টানা ৩ দফায় ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল সরকারের শাসনের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটল।

গত ৪ মে প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি ২০০ এর বেশি আসনে জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের জনমত পায়। তবে গণতান্ত্রিক প্রথা অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানালে রাজ্যে তীব্র সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়। এ অচলবস্থা কাটাতে এবং নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করতে রাজ্যপাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিধানসভা বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেন।

বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তবে এ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সমান্তরালে রাজ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিস্থিতি থমথমে হয়ে আছে। বুধবার (৬ মে) রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে চন্দ্রনাথ নিহত এবং তার চালক বুদ্ধদেব বেড়া গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। বিজেপি এ নৃশংস ঘটনার জন্য সরাসরি তৃণমূলকে দায়ী করলেও বিদায়ী শাসক দল অভিযোগ অস্বীকার করে উচ্চতর তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে বাংলা এখন চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/