স্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রার বাজার; বাড়ছে রিজার্ভ
স্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রার বাজার; বাড়ছে রিজার্ভ
ইতিবাচক ধারা এপ্রিল মাসেও অব্যাহত রয়েছে; এপ্রিলের প্রথম ৬ দিনেই এসেছে ৬৬০ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৫% বেশি।


তিনি আরও বলেন, রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে জিয়াউর রহমানের যে কর্মপরিকল্পনা তাতে পূর্ণতা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া।

প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের হাত ধরে দেশের অর্থনীতিতে বইছে সুবাতাস। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনেই বৈধ পথে দেশে এসেছে ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। খাতা-কলমে এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের স্বস্তি দিচ্ছে বলে মন

২০২৫ সালের ১-১৫ এপ্রিল সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৭২ মিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৬০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ২৮৪ মিলিয়ন ডলার।
ইতিবাচক ধারা এপ্রিল মাসেও অব্যাহত রয়েছে; এপ্রিলের প্রথম ৬ দিনেই এসেছে ৬৬০ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৫% বেশি।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিশেষ করে রেমিট্যান্স খাতে এই ব্যাংকের অবদান দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে প্রতিনিয়ত শক্তিশালী করছে।

মার্চ মাসে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড হয়েছে। এই মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৩৭৫ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে।

চলতি বছরের সবশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয় ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। মাসটিতে রেমিট্যান্স আসে ৩ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের মার্চে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল ৬৫ শতাংশ। মাসটিতে রেমিট্যান্স আসে ৩২ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে।

এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত (প্রথম ৬ মাস) রেমিট্যান্স ১ হাজার ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৫৮৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় ৩৪৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি এসেছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় (জানুয়ারি- জুন) মেয়াদের মুদ্রানীতি জানুযারির শেষ সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। নীতি নির্ধারণে দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাবেক গভর্নরদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।

দেশের অর্থনীতির জন্য ২০২৫ সাল যেন একটু স্বস্তির বছর হয়ে এসেছিল প্রবাসীদের হাত ধরেই। বিদায়ী বছরে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স আয়ে গড়েছে নতুন ইতিহাস।

চলতি মাসে প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ডিসেম্বরের প্রথম ২৭ দিনে দেশে এসেছে ২৭৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৩ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)।

চলতি বছরে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ভারসাম্য বজায় রাখতে ধারাবাহিকভাবে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
