
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক


২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটা অনেক দিন মনে থাকবে ফুটবল ভক্তদের। পাগলাটে এক ম্যাচে প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় ৪-০ ব্যবধানে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ২১ মিনিটের মধ্যে ৩ গোল করে ম্যাচ জমিয়ে তোলে ফ্রান্স। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ৬-৪ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপ শেষ করলো। বিশ্বকাপে গেল ৬০ বছরে এটি ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য। কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোলে এগিয়ে গেছেন গোল্ডেন বুটের দৌড়ে, মেসিকে ছাড়িয়ে হয়েছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
দুই দলই সেমিফাইনাল ম্যাচের একাদশ থেকে ৭টি করে পরিবর্তন আনেন। ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে গোলের শুরুটা করেছিলেন ডেকলান রাইস। ইংলিশদের দ্বিতীয় গোলেও তার অবদান আছে। ১৮ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করেন ইংলিশ সেন্টার ব্যাক এজরি কনসা। ইংল্যান্ডের জার্সিতে এটি কনসার দ্বিতীয় গোল। কর্নারটি করেছিলেন ডেকলান রাইস। সাকা গোল করেন ৩৭ আর যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেয় ফ্রান্স। ৪৮ মিনিটে মাইকেল ওলিসের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন এমবাপ্পে। তাতে চলতি বিশ্বকাপে নবম গোলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসিকে ছাড়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ছিল এমবাপ্পের ২১তম গোল। তাতে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলে মেসিকে ধরে ফেলেন এমবাপ্পে।
৫৪ মিনিটে ফ্রান্সের বারকোলা আরও এক গোল শোধ দেন। নাটকের তখনো বাকি। ৬৬ মিনিটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। তাতে এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের চলতি বিশ্বকাপে গোল দাঁড়ায় ১০-এ। বিশ্বকাপ ইতিহাসে যা তার ২২তম গোল। তাতে মেসিকে ছাড়িয়ে এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এমবাপ্পে।
৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা। ম্যাচের স্কোর তখন ইংল্যান্ড ৫-৩ ফ্রান্স। যোগ করা ৮ মিনিট সময়ে হলো আরও দুটি গোল। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গোল করেন উসমান দেম্বেলে। আর অষ্টম মিনিটে গোল করেন জুড বেলিংহাম। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ম্যাচ জেতে ৬-৪ গোলে। সাকা আর এমবাপ্পের জন্য ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সাকা করলেন হ্যাটট্রিক আর এমবাপ্পে হলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।
দুই দল মিলে ৩৮টি শট নিয়েছে। পোস্টে ছিল ২০টি শট। ফ্রান্সের ১৯ শটের ৯টি আর ইংল্যান্ডের ১৯ শটের ১১টি ছিল লক্ষ্যে।
এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের ডাগআউটে শেষ হলো দিদিয়ের দেশম অধ্যায়। ২০১২ থেকে ফ্রান্সের কোচ ছিলেন দেশম। দলকে জিতিয়েছেন একটি বিশ্বকাপ, একবার হয়েছেন রানার্সআপ।
৮৪ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহাম বুকায়ো সাকাকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ করে দেন। পেনাল্টি শট নিতে বল তুলে দেন তার হাতে। স্পটকিক থেকে ৮৭ মিনিটে গোল করেন সাকা। তাতে ম্যাচের স্কোর হলো ইংল্যান্ড ৫-৩ ফ্রান্স।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৪৮ মিনিটে গোল করেন এমবাপ্পে, সেটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার ২১তম গোল। তাতে মেসিকে স্পর্শ করেন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়। ৬৬ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। তাতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এমবাপ্পের বিশ্বকাপ গোল হলো ২২টি, লিওনেল মেসির গোল ২১টি। তৃতীয় সর্বোচ্চ মিরোস্লাভ ক্লোসার গোল ১৬টি।
এরই মধ্যে শেষ হয়েছে ম্যাচের ৭৫ মিনিট। স্কোর ইংল্যান্ড ৪-৩ ফ্রান্স।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ৯ মিনিটের মধ্যেই দুই গোল করল ফ্রান্স। ৪৮ মিনিটে এমবাপ্পের গোলের পর ৫৪ মিনিটে এমবাপ্পের পাস থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন বারকোলা।
মায়ামিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ৬০ মিনিট শেষে স্কোর ইংল্যান্ড ৪-২ ফ্রান্স।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ৪৮ মিনিটে মাইকেল ওলিসের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে এটি এমবাপ্পের নবম গোল। তাতে মেসিকে ছাড়িয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে গেলেন তিনি। এটি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের ২১তম গোল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি (২১)। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেডর্ক এখন যৌথভাবে এমবাপ্পে ও মেসির।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলার ইচ্ছে নেই জানিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে মাঠে প্রথমার্ধের খেলায় তেমনটি বোঝা গেলো না। সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় সুইডেনের। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলে জিতেছিল তারা। ইংল্যান্ড প্রথমার্ধে রেকর্ডটি ছুঁয়ে ফেললো।
দুই দলই একাদশে ৭টি করে পরিবর্তন এনেছিল। তবে এই ম্যাচ দেখা দর্শকরা অন্তত গোলউৎসব দেখছেন। ইংল্যান্ডের হয়ে গোলের শুরুটা করেন ডেকলান রাইস। এরপর কর্নার থেকে কনসা হেডে গোল করেন। দলের তৃতীয় আর চতুর্থ গোলটি করেন বুকায়ো সাকা।
প্রথমার্ধে গোলের জন্য ১১টি শট নিয়ে ইংল্যান্ড লক্ষ্যে রাখে ৭টি। ফ্রান্সের ৫ শটের ২টি লক্ষ্যে ছিল।
স্কোরলাইন এমন থাকলে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দিদিয়ের দেশমের এটি হবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার। তাও ফ্রান্সের ডাগআউটে শেষ ম্যাচে!

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে চতুর্থ গোল পেলো ইংল্যান্ড। গোলটি করেছেন বুকায়ো সাকা। তাতে ম্যাচে তার জোড়া গোল পূর্ণ হলো। বিশ্বকাপে প্রথমবার ফ্রান্স প্রথমার্ধেই চার গোল হজম করলো।
ম্যাচের ৩৭ মিনিটে তৃতীয় গোল পেলো ইংল্যান্ড। পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পাওয়ার পর মার্কাস রাশফোর্ড এগিয়ে যান, ফ্রান্স গোলকিপার সামনে এগিয়ে আসেন। বক্সের মধ্যে তাকে কাটিয়ে বল দেন সাকাকে। ততক্ষণে ফরাসি ডিফেন্ডারও চলে এলে সাকা-রাশফোর্ড বল দেওয়া নেওয়া করেন। শেষে শট নিয়ে বল জালে পাঠান সাকা। চলতি বিশ্বকাপে এটি ৩০০তম গোল।
মায়ামিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিটে ইংল্যান্ড গোলের জন্য শট নিয়েছে ৫টি। তাদের ২টি ছিল লক্ষ্যে। অথচ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পুরো ম্যাচে তারা নিয়েছিল ৫ শট। এরই মধ্যে ফ্রান্স শট নিয়েছে ৪টি যার ১টি লক্ষ্যে ছিল। ইংলিশ গোলকিপার ডিন হেন্ডারসন একটি সেভ দেন। ম্যাচের ১২ মিনিটে সাকার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। সেটি না হলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো।
ম্যাচের ১৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেলো ইংল্যান্ড। কর্নার থেকে হেডে গোল করেন ইংলিশ সেন্টার ব্যাক এজরি কনসা। ইংল্যান্ডের জার্সিতে এটি কনসার দ্বিতীয় গোল।
কর্নারটি করেছিলেন ডেকলান রাইস। ফলে দুই গোলেই রাইসের অবদান রইলো। দলের প্রথম গোলটি করেন তিনি।

তৃতীয় হওয়ার ম্যাচে তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে গেলো ইংল্যান্ড। বল যখন জালে ঢোকে ম্যাচের সময় ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড। মাঝ মাঠের কাছ থেকে দিজেরে দুয়ের ভুল পাসে বল পান এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ডেকলান রাইস। দৌড়ে গিয়ে ২৫ গজ দূর থেকে শট করে বল জালে পাঠান রাইস।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দুই দলই আগের ম্যাচের একাদশ থেকে ৭টি করে পরিবর্তন এনেছে। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশমের এটি শেষ ম্যাচ। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন নেই একাদশে। ইংল্যান্ডকে আজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেকলান রাইস। কিলিয়ান এমবাপ্পে অবশ্য আছেন একাদশে।