শিরোনাম

ভাগে কোরবানি: কয়জন অংশ নিতে পারবেন, কী বলে ইসলাম

সিটিজেন ডেস্ক
ভাগে কোরবানি: কয়জন অংশ নিতে পারবেন, কী বলে ইসলাম
প্রতীকী ছবি

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা।আমাদের সমাজে গরু, মহিষ ও উট ভাগে কোরবানি দেওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় পশুতে অংশীদার হয়ে কোরবানি দেওয়া অর্থনৈতিকভাবে সহজ ও সুবিধাজনক। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—একটি পশুতে কয়জন অংশ নিতে পারেন এবং ভাগে কোরবানির সঠিক বিধান কী?

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা কেবল একজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা যায়। কিন্তু গরু, মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত অংশীদার হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাতজনের কম সংখ্যক মানুষও চাইলে একটি বড় পশুতে অংশ নিয়ে কোরবানি দিতে পারেন।

এ বিষয়ে সহিহ মুসলিম শরিফে বর্ণিত একটি হাদিসে সাহাবি জাবের (রা.) বলেন, হুদাইবিয়ার বছরে তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে কোরবানি করেছিলেন এবং তখন একটি উট ও একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা হয়েছিল। ইসলামে ভাগে কোরবানির বৈধতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে এ হাদিস উল্লেখ করা হয়।

তবে আলেমরা বলছেন, ভাগে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মানা জরুরি। প্রথমত, অংশীদারদের প্রত্যেকের নিয়ত হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। যদি কারও উদ্দেশ্য কেবল মাংস সংগ্রহ বা লোক দেখানো হয়, তাহলে পুরো কোরবানি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

দ্বিতীয়ত, কোরবানির জন্য ব্যবহৃত অর্থ অবশ্যই হালাল উপার্জনের হতে হবে। কোনো অংশীদারের অর্থ হারাম উৎস থেকে এলে পুরো কোরবানি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে মত দিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।

এ ছাড়া গরু বা উটের ক্ষেত্রে সাতজনের বেশি অংশীদার হওয়া বৈধ নয়। কোরবানির পর মাংস সঠিকভাবে ওজন করে সমান ভাগে বণ্টন করাও শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। অনুমানের ভিত্তিতে ভাগ না করে ন্যায়সঙ্গত বণ্টনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, সামর্থ্য থাকলে এককভাবে কোরবানি দেওয়া উত্তম। তবে বাস্তবতার কারণে ভাগে কোরবানি করাও সম্পূর্ণ জায়েজ এবং সুন্নাহসম্মত। এ ক্ষেত্রে অংশীদার নির্বাচনে সতর্ক থাকা প্রয়োজন, যাতে সবার নিয়ত ও উপার্জনের স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। (সূরা হজ: ৩৭)

তাই কোরবানিতে অংশের সংখ্যা নয়, বরং আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা, তাকওয়া ও আনুগত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ইসলামি বিশ্লেষকরা।

/এসবি/