শিরোনাম

ঈদুল আজহা: কাদের জন্য কোরবানি ফরজ

সিটিজেন ডেস্ক
ঈদুল আজহা: কাদের জন্য কোরবানি ফরজ
প্রতীকী ছবি।

ইসলামি শরিয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি। জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করা সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একটি বিশেষ কর্তব্য। তবে কোরবানি কি সবার জন্য ফরজ? কাদের ওপর এটি বাধ্যতামূলক—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই কৌতূহল দেখা যায়।

ইসলামি ফিকহবিদ ও অধিকাংশ আলেমের মতে, সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কোরবানি করা ‘ওয়াজিব’। যদিও অনেকে সাধারণ ভাষায় এটিকে ফরজ বলে থাকেন, তবে শরিয়তের পরিভাষায় এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বা ওয়াজিব হিসেবে গণ্য। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে-কাছেও না আসে। (সুনানে ইবনে মাজাহ)।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ—এই তিন দিন যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য মূলত ছয়টি শর্ত রয়েছে:

মুসলিম হওয়া: এটি শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত ইবাদত।

স্বাধীন হওয়া: কোনো দাসের ওপর কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়।

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া: অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।

সুস্থ মস্তিষ্ক: মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।

স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া: শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির বা ভ্রমণকারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। তবে তিনি চাইলে নফল হিসেবে দিতে পারেন।

নিসাবের মালিক হওয়া: এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে যদি একাধিক সদস্য পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে প্রত্যেকের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে বড় পশুর (গরু, মহিষ বা উট) ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন মিলে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কোরবানি দিতে পারেন।

আলেমদের মতে, কোরবানি কেবল পশু জবাই করার নাম নয়, বরং এটি ত্যাগের মহিমা ও তাকওয়া অর্জনের একটি মাধ্যম। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর রক্ত বা মাংস পৌঁছায় না, পৌঁছায় কেবল বান্দার তাকওয়া। তাই সামর্থ্যবানদের উচিত সঠিক নিয়ম ও শুদ্ধ নিয়তে কোরবানি আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।

/এসবি/