শিরোনাম

শয়তানের প্ররোচনা থেকে সুরক্ষা দেয় যে ১০ আয়াত

সিটিজেন ডেস্ক
শয়তানের প্ররোচনা থেকে সুরক্ষা দেয় যে ১০ আয়াত
ছবি: সংগৃহীত

মানুষকে কুমন্ত্রণা দিয়ে অশ্লীল ও মন্দ কাজ করানোই শয়তানের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য মানুষের শত্রু হলো শয়তান। অদৃশ্য এই শত্রুর ফাঁদে পা মানুষ মন্দ কাজে আকৃষ্ট হয়। যার জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার উপায় বলে দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে যে ১০টি দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরা হলো

আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা

মনের মধ্যে কোনো খারাপ চিন্তা আসলে স্রষ্টার কাছে সুরক্ষা চাওয়া উচিত।

সূরা আরাফের ২০০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ওয়া ইম্মা ইয়ানযাগান্নাকা মিনাশ শাইতানি নাযগুন ফাসতাইয বিল্লাহ। অর্থ: ‘আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে তোমাকে কোনো প্ররোচনা আসে, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’

শয়তানের উপস্থিতি থেকে মুক্তি

শয়তান কেবল কুমন্ত্রণাই দেয় না, সে মানুষের চারপাশে উপস্থিত থাকে। এমনকি শিরা-উপশিরায়ও প্রবেশ করতে পারে। উপস্থিতির মাধ্যমে সে মানুষকে কলুষিত করতে চায়। তাই তার সঙ্গ থেকে দূরে থাকার দোয়া করা জরুরি।

এ বিষয়ে সুরা মুমিনুনের ৯৭-৯৮ আয়াতে বলা হয়েছে, রাব্বি আউযু বিকা মিন হামাযাতিশ শাইয়াতিন। ওয়া আউযু বিকা রাব্বি আই ইয়াহদুরুন। অর্থ: ‘হে আমার রব! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শয়তানদের প্ররোচনা থেকে। আর আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই তাদের উপস্থিতি থেকে।’

তিলাওয়াতের আগে সুরক্ষা

কোরআন তিলাওয়াতের সময় শয়তান বাধা সৃষ্টি করতে চায়। তাই তিলাওয়াতের শুরুতে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া জরুরি।

সুরা নাহলের ৯৮ আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ফাইযা কারাতাল কুরআনা ফাসতাইয বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। অর্থ: ‘অতএব যখন তুমি কুরআন পাঠ করবে তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।’

পদাঙ্ক অনুসরণে সতর্কতা

শয়তান ছোট ছোট ধাপের ধাপের মাধ্যমে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে। তাই তার প্রাথমিক ইশারা থেকে সাবধান থাকতে হবে।

সুরা বাকারার ২০৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানুদখুলু ফিস সিলমি কাফফাতাও ওয়ালা তাত্তাবিউ খুতুওয়াতিশ শাইতান। অর্থ: ‘হে মুমিনগণ, তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।’

শয়তানকে শত্রু হিসেবে গণ্য করা

শয়তানের প্ররোচনাকে অনেকেই স্বাভাবিক হিসেবে গণ্য করেন। মনে করেন এটা মানবিক দুর্বলতা। কিন্তু তাকে সবসময় শত্রু হিসেবেই গণ্য করতে হবে।

সুরা ফাতিরের ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ইন্নাশ শাইতানা লাকুম আদুওউন ফাত্তাখিযুহু আদুওওয়া। অর্থ: ‘নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু। অতএব তোমরা তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করো।’

মন্দ ও অশ্লীলতার প্ররোচনা

মনের ভেতর যখনই কোনো অনৈতিক বা অশ্লীল কাজের চিন্তা প্রবল হয়, তখন বুঝতে হবে এটি শয়তানের পক্ষ থেকে আসছে।

সুরা বাকারার ১৬৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ইন্নামা ইয়া'মুরুকুম বিসসুই ওয়াল ফাহশাই। অর্থ: ‘সে তো তোমাদের মন্দ ও অশ্লীল কাজের আদেশ দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলতে বলে যা তোমরা জানো না।’

সতর্ক মুত্তাকির গুণাবলি

যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় বা তাকওয়া থাকে, তারা শয়তানের সামান্য প্ররোচনা অনুভব করলেই সজাগ হয়ে যান এবং স্রষ্টাকে স্মরণ করেন।

সুরা আরাফের ২০১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ইন্নাল্লাযিনাত তাকাও ইযা মাসসাহুম তাইফুম মিনাশ শাইতানি তাযাক্কারু। অর্থ: ‘নিশ্চয় যারা মুত্তাকি, শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা তাদের স্পর্শ করলেই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে, তখনই তারা সতর্ক হয়ে যায়।’

বিবাদ, শত্রুতা ও মাদক থেকে সাবধান

শয়তান পারস্পরিক ঝগড়া, বিদ্বেষ কিংবা মাদক ও জুয়ার মতো নেশার মাধ্যমে মানুষের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক শান্তি নষ্ট করতে চায়।

এ বিষয়ে সুরা মায়িদার ৯১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ইন্নামা ইউরিদুশ শাইতানু আই ইউকিআ বাইনাকুমুল আদাওয়াতা ওয়াল বাগদাআ। অর্থ: ‘শয়তান তো চায় মাদক ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে তোমাদের বিরত রাখতে।’

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি

শয়তান মানুষকে ভবিষ্যতের মিথ্যা আশা দেখায় এবং পাপের পথে কোনো ঝুঁকি নেই বলে ধোঁকা দেয়।

সুরা নিসার ১২০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ইয়াইদুহুম ওয়া ইউমান্নিহিম। ওয়া মা ইয়াইদুহুমুশ শাইতানু ইল্লা গুরুরা। অর্থ: ‘সে তাদের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদের আশা জাগায়। আর শয়তান তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়।’

শয়তানের পলায়নপর স্বভাব

শয়তান প্রথমে অন্যায় কাজকে খুব আকর্ষণীয় করে দেখায়, কিন্তু যখনই মানুষ বিপদে পড়ে বা আল্লাহর নূর প্রকাশিত হয়, সে দায় এড়িয়ে পালিয়ে যায়।

সুরা আনফালের ৪৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ওয়া কালা ইন্নি বারিউম মিনকুম। অর্থাৎ, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের থেকে মুক্ত।’

প্ররোচনায় পড়ে মানুষ কোনো বিপদে পড়লে শয়তান শেষ মুহূর্তে এটা বলে।

/জেএইচ/