শিরোনাম

ভেঙে ফেলা হলো বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ভেঙে ফেলা হলো বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলছে শ্রমিকরা

ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশদ্বারে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে কে বা কারা এটি ভেঙেছে- এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ভাস্কর্য ভাঙার বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কেন ভাঙা হচ্ছে তা জানি না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলতে পারবেন।’

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসন এই স্থাপনা ভাঙার কাজ করছে না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই ভাস্কর্যটি ওই জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’

তিনি আরও বলেন ‘ সম্ভবত সড়ক বিভাগ ও পৌরসভা ওই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করছে। তবে জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি প্রতিকৃতি করার পরিকল্পনা আছে জেলা প্রশাসনের।

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কারা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ভাস্কর্য ও চত্বরটি অপসারণ করছে, তা আমার জানা নেই।’

জেলা পরিষদের প্রশাসক এম মাজিদ বলেন, ‘সেখানে একটি ভাস্কর্য ছিল, কিন্তু সেটি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছিল, তা নির্ধারণ করা কঠিন ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা দুই দফায় এটি ভাঙচুর করেছিলো। এ ছাড়া এলাকাটিতে এটি দুর্ঘটনার কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কয়েকটি সভায় এটি সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু ভাঙার দায়িত্ব নিতে কেউ রাজি ছিলো না। এখন কে এটি ভাঙছে, তা আমি জানি না।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শুধু ঝিনাইদহ নয়, পুরো দেশের গর্ব। তার নামে একটি চত্বর থাকলে নতুন প্রজন্ম তার অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে।’

ঝিনাইদহ পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের দিকে পৌরসভার উদ্যোগে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা লিংক সড়কের সংযোগস্থলে ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রস্থের ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে কাজ সম্পূর্ণ না করেই ফেলে রাখা হয়। এর মধ্যে দুই দফা মেয়র পরিবর্তন এবং দুই দফা প্রশাসক নিয়োগ হলেও চত্বরটির কাজ শেষ হয়নি। ফলে ভাস্কর্যটির পূর্ণাঙ্গ আকৃতিও সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের গাছের পরিবর্তে সেখানে আগাছা জন্মে এবং অরক্ষিত অবস্থায় ভাস্কর্যটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

তবে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় আমার চাচা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন ঝিনাইদহ পৌরসভা। সেই সময় পৌর চেয়ারম্যান আমাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমার ভাই মুস্তাফিজুর রহমান ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এখন ফেসবুকের মাধ্যমে দেখছি, ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। কেন ভাঙা হচ্ছে, কার নির্দেশে ভাঙা হচ্ছে বা কোন দপ্তর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই বিষয়ে আমাদের পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাহী ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তঘাঁটি দখলের লড়াইয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে তিনি শহীদ হন। ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হামিদুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ লাভ করেন। তিনি ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের একজন।

/এসআর/