শিরোনাম

ইরান যুদ্ধে ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

সিটিজেন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ
ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

গত ৩১ মার্চ প্রকাশিত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে আরব দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১২০ থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ও আরব অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যুরোর পরিচালক আবদুল্লাহ আল-দারদারি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ অঞ্চলের জন্য একটি ‘তীব্র ও আকস্মিক অর্থনৈতিক ধাক্কা’ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, মাত্র এক মাসের মধ্যেই প্রায় ৪০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে।

ইউএনডিপি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই সংঘাতের ফলে আঞ্চলিক বেকারত্বের হার প্রায় ৪ শতাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে এবং প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-ভুক্ত দেশগুলো এবং লেভান্ত অঞ্চল। এসব অঞ্চলের দেশগুলো তাদের জিডিপির ৫ দশমিক ২ শতাংশের বেশি হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লেভান্ত অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার আরও ৫ শতাংশ বাড়তে পারে, যা কয়েক মিলিয়ন মানুষকে নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে ঠেলে দেবে। ইতোমধ্যেই ইরাক, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, জর্ডান ও লেবাননে তীব্র দারিদ্র্য বিদ্যমান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২৫ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এর অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু দেশ বিকল্প রপ্তানি পথ খুঁজছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে লোহিত সাগর তীরবর্তী পাইপলাইনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। অন্যদিকে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে স্থলপথে তেল পরিবহনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

/এসএ/