শিরোনাম

এইচএসসি আন্দোলন: ইন্ধনদাতাদের খুঁজছে গোয়েন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
এইচএসসি আন্দোলন: ইন্ধনদাতাদের খুঁজছে গোয়েন্দারা
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের অবরোধ

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরপরও কেন সড়কে নেমে আন্দোলন করল শিক্ষার্থীরা এবং এ আন্দোলনের পেছনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব বা উসকানি ছিল কি না, তা ব্যাপকভাবে তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশ গোয়েন্দা প্রধান (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, পরীক্ষা পেছানোর দাবি করে কিছু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে কার কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর পারিবারিক ও রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্দোলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো হয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার ইউনিট।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই ছাত্রদের এ ধরনের আন্দোলনের পেছনে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর উসকানি ও অভিযোগ ছিল। নতুন করে বর্তমান সরকারকে বিব্রত করা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে মহল বিশেষ পানি ঘোলা করে ফায়দা নেওয়ার অপচেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, দৃশ্যমান আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত শিক্ষার্থী বা পরীক্ষার্থী নয় বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে। এই ছদ্মবেশী মহলের ইন্ধন ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তবে সারা দেশে দু-একটি জেলা এবং ঢাকার কয়েকটি স্পট ছাড়া আন্দোলনকারীদের সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। ফলে বিষয়টিকে খুব একটা বড় সংকট বলে মনে করছে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একটি বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলন চলাকালীন বিভিন্ন স্পট থেকে যেসব ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়েছে সেগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সচিবালয় বা সরকারি ভবনের সামনে চলমান বিক্ষোভে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা স্বাভাবিক আন্দোলনের অংশ হওয়ার কথা নয়। এমনটিই মনে করছেন অনুসন্ধানসংশ্লিষ্টরা।

ভিডিও চিত্র বিশ্লেষণ করে সূত্রটি বলছে, ৫ থেকে ৭টি নির্দিষ্ট মুখকে অত্যন্ত বেপরোয়া ও উসকানিমূলক ভূমিকায় দেখা গেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে থাকা এই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

/এসবি/