রাত পোহালেই ভোট, উদ্বেগ–উৎকণ্ঠায় ভোটাররা

রাত পোহালেই ভোট, উদ্বেগ–উৎকণ্ঠায় ভোটাররা
আয়নাল হোসেন

রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রচার–প্রচারণা বন্ধ। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন সবাই। তবে দেশের কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটায় শেষ পর্ষন্ত সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এবার সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ প্রস্ততি নিতে পেরেছে কিনা তা নিয়ে ভোটারদের মনে সন্দেহ রয়েছে। কারণ নির্বাচনের আগের রাতেও বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দেশের পাঁচ জেলায় টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া বিগত তিনটি নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) দিনের ভোট রাতে দেওয়া, একতরফা ভোট ও ডামি প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করাসহ নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ।
এরকম এক পরিস্থিতিতে জুলাই গণঅভূত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
- নির্বাচনের আগের রাতেও সহিংসতা ও টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ
- রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন—নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি
- ৩৬ দিনে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ১৫, আহত শতাধিক—টিআইবি ও আসকের তথ্য
- প্রথম ভোট দিতে উচ্ছ্বসিত তরুণরা, ভোটার উপস্থিতি বাড়ার আশা সংশ্লিষ্টদের
নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর এক লাখ ৩ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৫০০ ও নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশের এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ ও আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অনেক আগে থেকেই তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এবার প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকছে। এ ছাড়া এমন একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সরকার দ্রুত সময়ে নির্বাচনের যেকোনো তথ্য পাবে।
নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভূত্থানের পর কার্ষক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হচ্ছে। বৈষম্য দূর ও দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য নানা বিষয় সংস্কারে দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। অথচ এই নির্বাচনেও দলগুলোর নেতা ও প্রার্থীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও অসহিষ্ণুতা দেখিয়েছে। এর জেরে ঘটছে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা।
ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ–টিআইবি গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক প্রতিবেদনে বলে, তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩৬ দিনে নির্বাচনী সহিংসতায় রাজনৈতিক দলের ১৫ জন নেতা-কর্মী নিহত হয়েছে।
জানুয়ারি মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসজুড়ে সহিংসতার মাত্রা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে ১ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আটটি সহিংস ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং ২৬ জন আহত, ১১ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনে ১৮টি ঘটনায় দুইজন নিহত এবং ১৭৬ জন আহত এবং ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর সহিংসতায় চারজন নিহত এবং ৪১৪ জন আহত হন।
টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ
দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের বাক্সে ভোট নেওয়ার জন্য টাকা ছড়ানো হচ্ছ অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকাশ, রকটে নম্বর সংগ্রহ করেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করে পুলিশ। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগে হাবিবুর রহমান হেলালী নামে এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে থানায় নিয়ে যান। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে জামায়াতের চার নেতা-কর্মীকে ৭১ হাজার টাকাসহ আটক করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া শরীয়তপুরের নড়িয়ায় সাত লাখ ২০ হাজার টাকাসহ গোলাম মোস্তফা নামের জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নানা স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটায় এবং টাকা দিয়ে ভোট কেনার ধারা অব্যাহত থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে। তবে নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রশাসনের ইতিবাচক ভূমিকা এবং ইসির কঠোর অবস্থানের কারণে ভোট সুষ্ঠু হবে বলে অনেকে আশা করছেন।
তরুণদের মধ্যে উৎসবের আমেজ
অনেক তরুণ–তরুণী অনেকেই এবার প্রথম ভোট দেবেন। তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এ কারণে এবার নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি বেশি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনে কোনো ভোট কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোটসহ যেকোনো ধরনের অনিয়ম হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার রাজধানীর নিউমার্কেট ও মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন করে উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনে জড়িত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য এই কথা বলেন।
নির্বাচন উপলক্ষে সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সবাইকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটদান কেবল আমাদের নাগরিক অধিকারই নয়, এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশবাসী সচেতনভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে যাচ্ছেন। বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন নির্বাচনের আগের দিন সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ অর্থসহ জামায়াত নেতা আটক হওয়ার ঘটনাকে দলটির ‘দেউলিয়াত্ব ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, যারা ইনসাফ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের পক্ষ থেকে টাকা দিয়ে ভোট কেনা চরম দ্বিচারিতা।
জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সব ধরনের অপপ্রচার উপেক্ষা করে সবাইকে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াতের আমির লিখেছেন, প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ ও দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। জাতি যখন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, তখন কেউ কেউ দেশে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়াচ্ছে। জামায়াতের জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য এ ধরনের অপচেষ্টায় লিপ্ত।
সহিংসতা ও অর্থের প্রভাব নিয়ে শঙ্কা থাকলেও, ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি, প্রশাসনের তৎপরতা এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান এবারের নির্বাচনকে ভিন্ন মাত্রা দিতে পারে। ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত কারা জিতবেন, তা নির্ধারণ করবে ব্যালট। তবে গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে এই নির্বাচন কতটা সফল হবে—সেই পরীক্ষার মুখোমুখি হবে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো আজ।

রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রচার–প্রচারণা বন্ধ। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন সবাই। তবে দেশের কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটায় শেষ পর্ষন্ত সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এবার সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ প্রস্ততি নিতে পেরেছে কিনা তা নিয়ে ভোটারদের মনে সন্দেহ রয়েছে। কারণ নির্বাচনের আগের রাতেও বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দেশের পাঁচ জেলায় টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া বিগত তিনটি নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) দিনের ভোট রাতে দেওয়া, একতরফা ভোট ও ডামি প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করাসহ নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ।
এরকম এক পরিস্থিতিতে জুলাই গণঅভূত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
- নির্বাচনের আগের রাতেও সহিংসতা ও টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ
- রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন—নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি
- ৩৬ দিনে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ১৫, আহত শতাধিক—টিআইবি ও আসকের তথ্য
- প্রথম ভোট দিতে উচ্ছ্বসিত তরুণরা, ভোটার উপস্থিতি বাড়ার আশা সংশ্লিষ্টদের
নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর এক লাখ ৩ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৫০০ ও নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশের এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ ও আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অনেক আগে থেকেই তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এবার প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকছে। এ ছাড়া এমন একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সরকার দ্রুত সময়ে নির্বাচনের যেকোনো তথ্য পাবে।
নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভূত্থানের পর কার্ষক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হচ্ছে। বৈষম্য দূর ও দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য নানা বিষয় সংস্কারে দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। অথচ এই নির্বাচনেও দলগুলোর নেতা ও প্রার্থীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও অসহিষ্ণুতা দেখিয়েছে। এর জেরে ঘটছে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা।
ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ–টিআইবি গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক প্রতিবেদনে বলে, তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩৬ দিনে নির্বাচনী সহিংসতায় রাজনৈতিক দলের ১৫ জন নেতা-কর্মী নিহত হয়েছে।
জানুয়ারি মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসজুড়ে সহিংসতার মাত্রা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে ১ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আটটি সহিংস ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং ২৬ জন আহত, ১১ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনে ১৮টি ঘটনায় দুইজন নিহত এবং ১৭৬ জন আহত এবং ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর সহিংসতায় চারজন নিহত এবং ৪১৪ জন আহত হন।
টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ
দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের বাক্সে ভোট নেওয়ার জন্য টাকা ছড়ানো হচ্ছ অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকাশ, রকটে নম্বর সংগ্রহ করেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করে পুলিশ। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগে হাবিবুর রহমান হেলালী নামে এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে থানায় নিয়ে যান। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে জামায়াতের চার নেতা-কর্মীকে ৭১ হাজার টাকাসহ আটক করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া শরীয়তপুরের নড়িয়ায় সাত লাখ ২০ হাজার টাকাসহ গোলাম মোস্তফা নামের জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নানা স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটায় এবং টাকা দিয়ে ভোট কেনার ধারা অব্যাহত থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে। তবে নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রশাসনের ইতিবাচক ভূমিকা এবং ইসির কঠোর অবস্থানের কারণে ভোট সুষ্ঠু হবে বলে অনেকে আশা করছেন।
তরুণদের মধ্যে উৎসবের আমেজ
অনেক তরুণ–তরুণী অনেকেই এবার প্রথম ভোট দেবেন। তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এ কারণে এবার নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি বেশি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনে কোনো ভোট কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোটসহ যেকোনো ধরনের অনিয়ম হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার রাজধানীর নিউমার্কেট ও মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন করে উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনে জড়িত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য এই কথা বলেন।
নির্বাচন উপলক্ষে সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সবাইকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটদান কেবল আমাদের নাগরিক অধিকারই নয়, এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশবাসী সচেতনভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে যাচ্ছেন। বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন নির্বাচনের আগের দিন সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ অর্থসহ জামায়াত নেতা আটক হওয়ার ঘটনাকে দলটির ‘দেউলিয়াত্ব ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, যারা ইনসাফ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের পক্ষ থেকে টাকা দিয়ে ভোট কেনা চরম দ্বিচারিতা।
জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সব ধরনের অপপ্রচার উপেক্ষা করে সবাইকে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াতের আমির লিখেছেন, প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ ও দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। জাতি যখন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, তখন কেউ কেউ দেশে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়াচ্ছে। জামায়াতের জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য এ ধরনের অপচেষ্টায় লিপ্ত।
সহিংসতা ও অর্থের প্রভাব নিয়ে শঙ্কা থাকলেও, ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি, প্রশাসনের তৎপরতা এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান এবারের নির্বাচনকে ভিন্ন মাত্রা দিতে পারে। ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত কারা জিতবেন, তা নির্ধারণ করবে ব্যালট। তবে গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে এই নির্বাচন কতটা সফল হবে—সেই পরীক্ষার মুখোমুখি হবে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো আজ।

রাত পোহালেই ভোট, উদ্বেগ–উৎকণ্ঠায় ভোটাররা
আয়নাল হোসেন

রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রচার–প্রচারণা বন্ধ। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন সবাই। তবে দেশের কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটায় শেষ পর্ষন্ত সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এবার সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ প্রস্ততি নিতে পেরেছে কিনা তা নিয়ে ভোটারদের মনে সন্দেহ রয়েছে। কারণ নির্বাচনের আগের রাতেও বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দেশের পাঁচ জেলায় টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া বিগত তিনটি নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) দিনের ভোট রাতে দেওয়া, একতরফা ভোট ও ডামি প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করাসহ নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ।
এরকম এক পরিস্থিতিতে জুলাই গণঅভূত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
- নির্বাচনের আগের রাতেও সহিংসতা ও টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ
- রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন—নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি
- ৩৬ দিনে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ১৫, আহত শতাধিক—টিআইবি ও আসকের তথ্য
- প্রথম ভোট দিতে উচ্ছ্বসিত তরুণরা, ভোটার উপস্থিতি বাড়ার আশা সংশ্লিষ্টদের
নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর এক লাখ ৩ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৫০০ ও নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশের এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ ও আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অনেক আগে থেকেই তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এবার প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকছে। এ ছাড়া এমন একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সরকার দ্রুত সময়ে নির্বাচনের যেকোনো তথ্য পাবে।
নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভূত্থানের পর কার্ষক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হচ্ছে। বৈষম্য দূর ও দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য নানা বিষয় সংস্কারে দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। অথচ এই নির্বাচনেও দলগুলোর নেতা ও প্রার্থীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও অসহিষ্ণুতা দেখিয়েছে। এর জেরে ঘটছে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা।
ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ–টিআইবি গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক প্রতিবেদনে বলে, তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩৬ দিনে নির্বাচনী সহিংসতায় রাজনৈতিক দলের ১৫ জন নেতা-কর্মী নিহত হয়েছে।
জানুয়ারি মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসজুড়ে সহিংসতার মাত্রা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে ১ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আটটি সহিংস ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং ২৬ জন আহত, ১১ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনে ১৮টি ঘটনায় দুইজন নিহত এবং ১৭৬ জন আহত এবং ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর সহিংসতায় চারজন নিহত এবং ৪১৪ জন আহত হন।
টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ
দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের বাক্সে ভোট নেওয়ার জন্য টাকা ছড়ানো হচ্ছ অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকাশ, রকটে নম্বর সংগ্রহ করেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করে পুলিশ। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগে হাবিবুর রহমান হেলালী নামে এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে থানায় নিয়ে যান। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে জামায়াতের চার নেতা-কর্মীকে ৭১ হাজার টাকাসহ আটক করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া শরীয়তপুরের নড়িয়ায় সাত লাখ ২০ হাজার টাকাসহ গোলাম মোস্তফা নামের জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নানা স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটায় এবং টাকা দিয়ে ভোট কেনার ধারা অব্যাহত থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে। তবে নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রশাসনের ইতিবাচক ভূমিকা এবং ইসির কঠোর অবস্থানের কারণে ভোট সুষ্ঠু হবে বলে অনেকে আশা করছেন।
তরুণদের মধ্যে উৎসবের আমেজ
অনেক তরুণ–তরুণী অনেকেই এবার প্রথম ভোট দেবেন। তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এ কারণে এবার নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি বেশি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনে কোনো ভোট কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোটসহ যেকোনো ধরনের অনিয়ম হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার রাজধানীর নিউমার্কেট ও মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন করে উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনে জড়িত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য এই কথা বলেন।
নির্বাচন উপলক্ষে সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সবাইকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটদান কেবল আমাদের নাগরিক অধিকারই নয়, এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশবাসী সচেতনভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে যাচ্ছেন। বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন নির্বাচনের আগের দিন সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ অর্থসহ জামায়াত নেতা আটক হওয়ার ঘটনাকে দলটির ‘দেউলিয়াত্ব ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, যারা ইনসাফ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের পক্ষ থেকে টাকা দিয়ে ভোট কেনা চরম দ্বিচারিতা।
জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সব ধরনের অপপ্রচার উপেক্ষা করে সবাইকে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াতের আমির লিখেছেন, প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ ও দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। জাতি যখন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, তখন কেউ কেউ দেশে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়াচ্ছে। জামায়াতের জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য এ ধরনের অপচেষ্টায় লিপ্ত।
সহিংসতা ও অর্থের প্রভাব নিয়ে শঙ্কা থাকলেও, ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি, প্রশাসনের তৎপরতা এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান এবারের নির্বাচনকে ভিন্ন মাত্রা দিতে পারে। ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত কারা জিতবেন, তা নির্ধারণ করবে ব্যালট। তবে গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে এই নির্বাচন কতটা সফল হবে—সেই পরীক্ষার মুখোমুখি হবে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো আজ।




