যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা
সিটিজেন ডেস্ক

একটি মার্কিন অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার জন্য তেহরানকে দায়ী করে বুধবার (১০ জুন) ভোরে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দুই দেশের এই প্রতিশোধমূলক হামলা ইরান-যুদ্ধ অবসানের আলোচনাকে ব্যাহত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। এর ফলে উভয় দেশই সতর্কতা জারি করে এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে। জর্ডান জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী মোতায়েন থাকা একটি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) আজ এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারমধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের একটি হ্যাঙ্গারও রয়েছে। পাশাপাশি সেখানকার প্রাইমারি কমান্ড ও কট্রোল সেন্টারও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, পাল্টা হামলা হিসেবে এই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোনও ভূপাতিতের দাবি করেছে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, খাদ্যসহ অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে।
কর্মকর্তারা এপ্রিলের যুদ্ধবিরতিকে সংঘাতের স্থায়ী অবসানের একটি চুক্তিতে পরিণত করতে পারেননি, বিশেষ করে যখন লেবাননে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান তীব্রতর ও প্রসারিত করেছে।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। এর একদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়া এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলায় যুদ্ধবিরতি আরও চাপের মুখে পড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মঙ্গলবার (৯ জুন) জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের অন্তত দুজন সদস্য নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলায় কেঁপে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী যৌথভাবে ইরানে এই হামলা চালিয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ‘বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডার সাইটগুলো।’
এর আগে ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসি জানায়, ‘যুদ্ধবাজ মার্কিন সরকার আজ ভোরে মিথ্যা অজুহাতে জাস্ক, সিরিক ও কেশমের বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে সিরিকে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শহরের দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে।’
সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, ‘আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক হামলার আনুপাতিক জবাব হিসেবে এই অভিযানটি চালানো হয়েছে।’
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক বলেছেন, দেশটির ভূখণ্ডের কাছে থাকা বিদেশি সামরিক বাহিনীগুলো ‘নিরন্তর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা চালালে জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানি বাহিনী ‘কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না’। তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।’
জর্ডান বুধবার জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। ইরানের ভাষ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ওই বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য বিমান মোতায়েন রয়েছে।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেট্রা দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, এই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা করেছেন।
মার্কিন হেলিকপ্টারের সঙ্গে ইরানি ড্রোনের সংঘর্ষ হয়েছে
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ইরানি ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে।
সংঘর্ষটি ইচ্ছাকৃত ছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়। সরকারি বিবৃতিতে শুধু বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সিএনএন, সিবিএস নিউজ এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলো এর আগেই সংঘর্ষের খবর জানিয়েছিল।
একটি ড্রোন বোট মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৩টায় দুই পাইলটকে উদ্ধার করে। ওমানের উপকূলে টহল দেওয়ার সময় তাদের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর এই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয় বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানান, উভয় সেনা সদস্যই ‘নিরাপদ ও অক্ষত’ আছেন।
সূত্র: এপি, আল জাজিরা

একটি মার্কিন অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার জন্য তেহরানকে দায়ী করে বুধবার (১০ জুন) ভোরে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দুই দেশের এই প্রতিশোধমূলক হামলা ইরান-যুদ্ধ অবসানের আলোচনাকে ব্যাহত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। এর ফলে উভয় দেশই সতর্কতা জারি করে এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে। জর্ডান জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী মোতায়েন থাকা একটি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) আজ এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারমধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের একটি হ্যাঙ্গারও রয়েছে। পাশাপাশি সেখানকার প্রাইমারি কমান্ড ও কট্রোল সেন্টারও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, পাল্টা হামলা হিসেবে এই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোনও ভূপাতিতের দাবি করেছে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, খাদ্যসহ অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে।
কর্মকর্তারা এপ্রিলের যুদ্ধবিরতিকে সংঘাতের স্থায়ী অবসানের একটি চুক্তিতে পরিণত করতে পারেননি, বিশেষ করে যখন লেবাননে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান তীব্রতর ও প্রসারিত করেছে।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। এর একদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়া এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলায় যুদ্ধবিরতি আরও চাপের মুখে পড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মঙ্গলবার (৯ জুন) জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের অন্তত দুজন সদস্য নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলায় কেঁপে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী যৌথভাবে ইরানে এই হামলা চালিয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ‘বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডার সাইটগুলো।’
এর আগে ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসি জানায়, ‘যুদ্ধবাজ মার্কিন সরকার আজ ভোরে মিথ্যা অজুহাতে জাস্ক, সিরিক ও কেশমের বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে সিরিকে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শহরের দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে।’
সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, ‘আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক হামলার আনুপাতিক জবাব হিসেবে এই অভিযানটি চালানো হয়েছে।’
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক বলেছেন, দেশটির ভূখণ্ডের কাছে থাকা বিদেশি সামরিক বাহিনীগুলো ‘নিরন্তর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা চালালে জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানি বাহিনী ‘কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না’। তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।’
জর্ডান বুধবার জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। ইরানের ভাষ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ওই বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য বিমান মোতায়েন রয়েছে।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেট্রা দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, এই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা করেছেন।
মার্কিন হেলিকপ্টারের সঙ্গে ইরানি ড্রোনের সংঘর্ষ হয়েছে
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ইরানি ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে।
সংঘর্ষটি ইচ্ছাকৃত ছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়। সরকারি বিবৃতিতে শুধু বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সিএনএন, সিবিএস নিউজ এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলো এর আগেই সংঘর্ষের খবর জানিয়েছিল।
একটি ড্রোন বোট মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৩টায় দুই পাইলটকে উদ্ধার করে। ওমানের উপকূলে টহল দেওয়ার সময় তাদের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর এই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয় বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানান, উভয় সেনা সদস্যই ‘নিরাপদ ও অক্ষত’ আছেন।
সূত্র: এপি, আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা
সিটিজেন ডেস্ক

একটি মার্কিন অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার জন্য তেহরানকে দায়ী করে বুধবার (১০ জুন) ভোরে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দুই দেশের এই প্রতিশোধমূলক হামলা ইরান-যুদ্ধ অবসানের আলোচনাকে ব্যাহত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। এর ফলে উভয় দেশই সতর্কতা জারি করে এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে। জর্ডান জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী মোতায়েন থাকা একটি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) আজ এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারমধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের একটি হ্যাঙ্গারও রয়েছে। পাশাপাশি সেখানকার প্রাইমারি কমান্ড ও কট্রোল সেন্টারও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, পাল্টা হামলা হিসেবে এই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোনও ভূপাতিতের দাবি করেছে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, খাদ্যসহ অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে।
কর্মকর্তারা এপ্রিলের যুদ্ধবিরতিকে সংঘাতের স্থায়ী অবসানের একটি চুক্তিতে পরিণত করতে পারেননি, বিশেষ করে যখন লেবাননে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান তীব্রতর ও প্রসারিত করেছে।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। এর একদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়া এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলায় যুদ্ধবিরতি আরও চাপের মুখে পড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মঙ্গলবার (৯ জুন) জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের অন্তত দুজন সদস্য নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলায় কেঁপে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী যৌথভাবে ইরানে এই হামলা চালিয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ‘বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডার সাইটগুলো।’
এর আগে ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসি জানায়, ‘যুদ্ধবাজ মার্কিন সরকার আজ ভোরে মিথ্যা অজুহাতে জাস্ক, সিরিক ও কেশমের বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে সিরিকে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শহরের দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে।’
সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, ‘আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক হামলার আনুপাতিক জবাব হিসেবে এই অভিযানটি চালানো হয়েছে।’
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক বলেছেন, দেশটির ভূখণ্ডের কাছে থাকা বিদেশি সামরিক বাহিনীগুলো ‘নিরন্তর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা চালালে জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানি বাহিনী ‘কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না’। তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।’
জর্ডান বুধবার জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। ইরানের ভাষ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ওই বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য বিমান মোতায়েন রয়েছে।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেট্রা দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, এই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা করেছেন।
মার্কিন হেলিকপ্টারের সঙ্গে ইরানি ড্রোনের সংঘর্ষ হয়েছে
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ইরানি ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে।
সংঘর্ষটি ইচ্ছাকৃত ছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়। সরকারি বিবৃতিতে শুধু বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সিএনএন, সিবিএস নিউজ এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলো এর আগেই সংঘর্ষের খবর জানিয়েছিল।
একটি ড্রোন বোট মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৩টায় দুই পাইলটকে উদ্ধার করে। ওমানের উপকূলে টহল দেওয়ার সময় তাদের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর এই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয় বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানান, উভয় সেনা সদস্যই ‘নিরাপদ ও অক্ষত’ আছেন।
সূত্র: এপি, আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে হামলা ইরানের
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
জুনের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার আশা
ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানে হামলা স্থগিত ইসরায়েলের
