শিরোনাম

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রাহক নিয়োগ নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর ও তালা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রাহক নিয়োগ নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর ও তালা
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকা বাতিলের দাবিতে গাইবান্ধার ফুলছড়ির ইউএনও কার্যালয়ের জানালা ও কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের তালিকা বাতিলের দাবিতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ফুলছড়িতে বিক্ষোভের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে সুন্দরগঞ্জে ইউএনও ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

ফুলছড়ি উপজেলা প্রশাসন মঙ্গলবার সকালে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের নামের তালিকা প্রকাশ করে। তালিকা প্রকাশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দুপুরে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মী এবং নিয়োগবঞ্চিত ব্যক্তিরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ত করে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নাম রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। এ কারণে তালিকা বাতিলের দাবিতে তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, একপর্যায়ে ইউএনও কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার একটি অফিসকক্ষের জানালা ও কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বেলা সাড়ে ১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

ফুলছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জয়নাল মিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তালিকাতেও তাদের নাম রয়েছে। এ কারণে দলীয় নেতা-কর্মী ও নিয়োগবঞ্চিত ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করেছেন। তিনি অবিলম্বে প্রকাশিত তালিকা বাতিলের দাবি জানান।

এ বিষয়ে ফুলছড়ির ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সুন্দরগঞ্জে ইউএনও কার্যালয়ে তালা

একই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জেও বিক্ষোভ করেছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুরে তারা ইউএনও কার্যালয় ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন।

বিক্ষোভকারীরা নিয়োগের ফলাফল বাতিল করে যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োগের দাবি জানান। একই সঙ্গে ইউএনও ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

সকালে নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সদরের বাহিরগোলা মসজিদ মোড় থেকে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তালা লাগানোর পর ইউএনও কার্যালয়ের মূল ফটকেও তালা দেওয়া হয়।

এ সময় ‘অবৈধ নিয়োগ মানি না, মানব না’ এবং ‘লীগের দোসর ইউএনওকে অপসারণ করতে হবে’ এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। পরে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ, সদস্যসচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মতিয়ার রহমান, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়ালিউজ্জামান মণ্ডলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বক্তব্য দেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে যথাযথ নিয়ম, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি। তাদের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী ও পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ফলে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

অভিযোগের বিষয়ে সুন্দরগঞ্জের ইউএনও ঈফফাত জাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাজীব কুমার বাগচী। তিনি বলেন, প্রায় চার হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে সুপারভাইজার পদে ১৯ জন এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে ২০৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ছয়টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং বোর্ডগুলোই পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। তাঁর দাবি, যোগ্য প্রার্থীরাই নিয়োগ পেয়েছেন।

/এমআর/