শিরোনাম
সিজেডএন টোয়েন্টিফোরে প্রতিবেদন

বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে দোকান উচ্ছেদ

শেখ শাহরিয়ার হোসেন
শেখ শাহরিয়ার হোসেন
বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে দোকান উচ্ছেদ
দোকানের বাঁশ খুটি খুলে নিয়ে যাচ্ছেন মেলার আয়োজকরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে বৃক্ষমেলার অনুমতি নিয়ে বসানো অননুমোদিত বাণিজ্যিক দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিজেডএন টোয়েন্টিফোরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) অভিযান চালিয়ে দোকানগুলো অপসারণের নির্দেশ দেয়। পরে দোকানিরা নিজেরাই মালপত্র ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের অধিকাংশ দোকান গুটিয়ে ফেলা হয়েছে। কোথাও দোকানিরা মালপত্র সরাচ্ছেন, কোথাও বাঁশ ও ত্রিপলের তৈরি অস্থায়ী কাঠামো খুলে রাখা হচ্ছে। পার্কের বিভিন্ন স্থানে চেয়ার-টেবিল, কাপড় ও অন্যান্য সরঞ্জাম স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কয়েকটি স্থানে শুধু বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

গত ৯ আগস্ট সিজেডএন টোয়েন্টিফোরে 'বৃক্ষমেলার নামে দোকানের পসরা, কার পকেটে যাচ্ছে লাখ টাকা' শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে দেখানো হয়, বৃক্ষমেলার অনুমতি নিয়ে পার্কজুড়ে খাবার, পোশাক, শাড়ি, গয়না, খেলনা, থালাবাসন, কৃত্রিম ফুলসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক দোকান বসানো হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক তিন হাজার টাকা করে ভাড়া আদায়ের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে অনুমোদনের শর্ত, ভাড়া আদায়ের প্রক্রিয়া এবং সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে—এসব প্রশ্নও উত্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত রবিবার ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পার্কে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অননুমোদিত দোকান সরিয়ে নিতে রাত পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান না সরালে উচ্ছেদ অভিযানেরও ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর দোকানিরা নিজেরাই দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করেন।

পূর্বের রূপে বাহাদুর শাহ পার্ক
পূর্বের রূপে বাহাদুর শাহ পার্ক। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, ৬ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত 'সবুজ আনন্দ মেলা ২০২৬' আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অনুমতির উদ্দেশ্য ছিল বৃক্ষমেলা আয়োজন। তবে বাস্তবে পার্কে বৃক্ষসংক্রান্ত দোকানের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক দোকান বসানো হয়, যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও আপত্তি জানান।

ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ককে উন্মুক্ত জনপরিসর হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার।

ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক ও পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব আখতারুজ্জামান খান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, বৃক্ষমেলার নামে পার্কে বাণিজ্যিক দোকান বসানোর প্রতিবাদে আমরা শুরু থেকেই আন্দোলন করে আসছি। গত ৪ আগস্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছি। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছি। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার পর প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়ে দোকানগুলো সরিয়ে দিয়েছে, এটিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। তবে শুধু দোকান সরালেই হবে না, ভবিষ্যতে যেন কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন ভিন্ন নামে আবার ঐতিহাসিক এই পার্ককে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

/এমআর/