শিরোনাম

‘অপারেশন এপিক ফিউরির’ সাফল্যে ইরান যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হয়েছে: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

সিটিজেন ডেস্ক
‘অপারেশন এপিক ফিউরির’ সাফল্যে ইরান যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হয়েছে: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয়েছে—এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। পেন্টাগনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি একটি ঐতিহাসিক সাফল্য,’ এবং এই সাফল্যের ফলেই ইরান আলোচনার পথে এসেছে।

একই ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন উপস্থিত ছিলেন।

সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে

হেগসেথ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতার মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করেই ৪০ দিনের কম সময়ে ‘বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক বাহিনীকে’ কার্যত ভেঙে দিয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই সব লক্ষ্য অর্জন করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের নৌবাহিনী এখন সমুদ্রের তলদেশে… তাদের কার্যকর কোনো বিমান প্রতিরক্ষা নেই… ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও ধ্বংস হয়ে গেছে।’ পাশাপাশি ইরানের প্রতিরক্ষা-শিল্প অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি, যার ফলে ভবিষ্যতে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন পারবে না

হেগসেথের মতে, নতুন ইরানি নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছে যে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে একটি চুক্তিতে আসা তাদের জন্য বেশি নিরাপদ। তিনি বলেন, এই চুক্তির অর্থ হলো—ইরান আর কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।

যুদ্ধবিরতি মানে ‘সাময়িক বিরতি’

তবে যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন না জেনারেল ড্যান কেইন। তিনি বলেন, এটি মূলত সংঘাতের একটি সাময়িক বিরতি। প্রয়োজনে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা

কেইন আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তার মতে, এসব অভিযানে ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ৯০ শতাংশের বেশি নৌ সক্ষমতা এবং অস্ত্র উৎপাদন স্থাপনাগুলোর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বড় ধরনের নৌ সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

/এমআর/