শিরোনাম

ডিজেল সংকটে সেচ, মাড়াই ও চাষাবাদ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক

পাবনা সংবাদদাতা
ডিজেল সংকটে সেচ, মাড়াই ও চাষাবাদ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক
ডিজেল সংকটে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করাতে কৃষকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে দিনের পর দিন। বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা সদরের মালঞ্চি গ্রামের মাঠে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামের কৃষক ওমর আলি। প্রতি বছর পাঁচ বিঘা জমি আবাদ করেন তিনি। এবার ডিজেল সংকটের কারণে এক বিঘা জমি চাষবাদ করেছেন। বাকি চার বিঘা জমি এখনো চাষবাদ করতে পারেননি।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে মালঞ্চি মাঠে নিজের জমিতে কাজ করার ফাঁকে আলাপকালে এসব কথা জানান কৃষক ওমর আলি। তিনি বলেন, এভাবে জ্বালানি সংকট চলতে থাকলে খুব কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়ে যাবো। তেলের সমস্যা না কাটলে কৃষক কীভাবে বাঁচবে?’

শুধু ওমর আলি-ই নয়, তার মতো অন্য কৃষকদেরও একই দুর্দশা। ডিজেল সংকটে মহাবিপাকে পড়েছেন পাবনার কৃষকরা। সময় মতো চাহিদামাফিক তেল না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে তাদের চাষাবাদ। একদিকে জমি চাষ করতে পারছেন না। অন্যদিকে সেচ দিতে পারছেন না। এছাড়া ফসল মাড়াই করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদিত ফসল নিয়েও দুশ্চিন্তার শেষ নেই তাদের।

চাহিদামাফিক তেল না পাওয়ায় সেচ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বোরা আবাদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা সদরের মালঞ্চি গ্রামের মাঠে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
চাহিদামাফিক তেল না পাওয়ায় সেচ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বোরা আবাদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা সদরের মালঞ্চি গ্রামের মাঠে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

একই গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘তেল না পাওয়ায় শ্যালোইঞ্জিন দিয়ে ধানের জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। জমি প্রস্তুত করতে না পারায় ধান রোপণ করাও পিছিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে মাঠের অনেক জমি পতিত পড়ে আছে।’

কৃষক মজনু বিশ্বাস বলেন, কৃষকের এখন প্রধান সমস্যা ডিজেল সংকট। ভাড়া করা শ্যালোইঞ্জিনচালিত ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করি। কিন্তু তেল সংকটের কারণে এবার ট্রাক্টর পাওয়া যাচ্ছে না। জমি পড়ে থাকছে, ফসল আবাদ করতে পারছি না।

মাঠে গম কাটছিলেন কৃষক শাজাহান আলি। আলাপকালে তিনি বলেন, গম পেকে গেছে, কেটে মাড়াই করবো, কিন্তু তেলের অভাবে মাড়াই মেশিন চলছে না। মাড়াই করতে না পারলে বেশিদিন রাখলে গম নষ্ট হয়ে যাবে।

শ্যালোইঞ্জিনচালিত পাওয়ার টিলার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন কৃষক সেলিম হোসেন। তিনি বলেন, আমার একটি পাওয়ার টিলার আর একটি মাড়াই মেশিন আছে। কিন্তু তেলের অভাবে চালাতে পারছি না।

গম কাটার পর ডিজেলের অভাবে মাড়াই করতে পারছেন না অনেক কৃষক। উৎপাদিত ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা সদরের মালঞ্চি গ্রামের মাঠে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
গম কাটার পর ডিজেলের অভাবে মাড়াই করতে পারছেন না অনেক কৃষক। উৎপাদিত ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা সদরের মালঞ্চি গ্রামের মাঠে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করা মোস্তফা প্রামানিক বলেন, আমার প্রতিদিন জমি চাষ করতে ডিজেল লাগে ৬০ লিটার। কিন্তু একদিন পরপর তেল পাচ্ছি ২০ লিটার। এই তেল দিয়ে কতটুকু জমি চাষ দেওয়া যায় বলেন? পাম্পে গিয়ে ফিরে আসতে হয়। অপেক্ষা করতে হয় কবে তেল আসবে। খুব দুর্ভোগের মধ্যে আছি।

পেট্রোল পাম্পগুলোতে গিয়েও চাহিদামাফিক তেল পাচ্ছেন না কৃষকরা। খোলা বাজার থেকে বাধ্য হয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে ডিজেল সংকট কাটাতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি কৃষকদের।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তেল সংকট কাটাতে ইতোমধ্যে প্রকৃত কৃষকদের স্লিপ করে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাতে ডিজেল দেওয়া হয় সেই জন্য তেল পাম্পে কৃষি অফিসের একজনকে নজরদারি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, কৃষকদের সমস্যা থাকবে না।

/এসআর/