শিরোনাম

ন্যাটো কী ইরান যুদ্ধে অংশ নেবে? নীতিতে যা আছে

সিটিজেন ডেস্ক
ন্যাটো কী ইরান যুদ্ধে অংশ নেবে? নীতিতে যা আছে
ন্যাটো। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার সতর্ক করেছেন যে, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো যদি হরমুজ প্রণালি সুরক্ষায় সহায়তা না করে, তাহলে জোটটির ভবিষ্যৎ ‘খুব খারাপ’ হতে পারে। হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ইরানের কারণে আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে।

তবে ন্যাটো মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, যার কার্যক্রম ভৌগোলিকভাবে সীমিত।

ন্যাটোর ‘মৌলিক নীতি’ হলো ‘সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা’। এর অর্থ হলো যদি কোনো সদস্য দেশ আক্রমণের শিকার হয়, তবে জোটটি এটিকে সমস্ত ন্যাটো সদস্যদের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কাজা কাল্লাস। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কাজা কাল্লাস। ছবি: সংগৃহীত

এই সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা উত্তর আটলান্টিক চুক্তির ধারা ৫-এর অধীনে সক্রিয় হয়, যখন কোনো সদস্য দেশ ‘সশস্ত্র আক্রমণ’-এর শিকার হয় এবং সমষ্টিগত পদক্ষেপের জন্য জোটের সহায়তা চায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কাজা কাল্লাস বলেছেন, ট্রাম্পের অনুরোধ ‘ন্যাটোর কার্যক্রমের এরিয়ার বাইরে’। একইভাবে জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘এই যুদ্ধ ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।’

আটলান্টিক চুক্তির ধারা ৬ অনুযায়ী ন্যাটোর সহায়তার ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে, যা মূলত উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের উত্তর ট্রপিক অব ক্যানসারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) সদস্য দেশসমূহ। ছবি: সংগৃহীত
নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) সদস্য দেশসমূহ। ছবি: সংগৃহীত

ন্যাটো বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা ১৯৪৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য হলো ‘ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা। যার ভিত্তি সদস্য দেশগুলোর সাধারণ মূল্যবোধ: ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন।

এ পর্যন্ত ন্যাটোর ধারা ৫ (সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা) একবারই প্রয়োগ করা হয়েছে। এটি ঘটেছিল ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর। তখন ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো আফগানিস্তান আক্রমণে যুক্ত হয়েছিল।

সূত্র: সিএনএন

/জেএইচ/