শিরোনাম

হরমুজ প্রণালি খুলতে ৩০ দিনের সময়সীমা দিতে পারে ইরান

সিটিজেন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি খুলতে ৩০ দিনের সময়সীমা দিতে পারে ইরান
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

মার্কিন পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিজেদের ব্যবস্থাপনায় পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা ভাবছে ইরান। শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্য মাজিদ শাকেরি দেশটির আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সম্ভাবনার কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, তেহরানের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে আসা সব ধরনের হুমকি সম্পূর্ণ দূর হওয়ার ৩০ দিন পর কেবল ইরানি প্রশাসনের অধীনে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়। এর প্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে এপ্রিল মাসে প্রণালিটির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘস্থায়ী এ সামরিক ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই জলপথটিতে সামুদ্রিক ও পরিবেশগত পরিষেবা প্রদানের বিপরীতে বিশেষ মাশুল বা টোল আদায়ের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। ইরানের পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান শিনা আনসারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছেন, এ উদ্যোগটি কেবল রাজস্ব আদায়ের জন্য নয়, বরং নৌচলাচলে দিকনির্দেশনা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার মতো বহুমুখী রাষ্ট্রীয় সেবা প্রদানের সঙ্গে যুক্ত। এ প্রস্তাবিত ফি মূলত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতি এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ঝুঁকির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যাতায়াত আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ওমানের পাশাপাশি তেহরান এ জলপথের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইরানের সংসদের একজন ঊর্ধ্বতন সদস্যের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে ইরানের বিশেষ অনুমতি নিয়ে প্রণালিটি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে গড়ে দেড় থেকে দুই মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিপুল অঙ্কের মাশুল গুনতে হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের টোল, মাশুল বা শর্ত ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি সবার জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখতে হবে।

সূত্র: সিএনএন

/এমএকে/