শিরোনাম
এক্সপ্লেইনার

ইরান যুদ্ধের ১০০ দিন: শান্তি চুক্তি অধরা থাকার কারণ

সিটিজেন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধের ১০০ দিন: শান্তি চুক্তি অধরা থাকার কারণ
ইরান,পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। ছবি: কাতার নিউজ এজেন্সি

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার পর চলমান সংঘাত ১০০তম দিনে গড়িয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে কয়েক দফায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছালেও, শেষ পর্যন্ত তা অধরাই রয়ে গেছে। মূলত পারমাণবিক সক্ষমতার সীমা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের অনমনীয় অবস্থানই শান্তি প্রক্রিয়াকে বারবার ভেস্তে দিয়েছে।

শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে ১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে এ আলোচনা প্রায় ২১ ঘণ্টা স্থায়ী হলেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। আলোচনায় ওয়াশিংটন ইরানের দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের নিশ্চয়তা দাবি করে। কিন্তু তেহরান লেবাননে ইসরায়েলি যুদ্ধবিরতি এবং তাদের অবরুদ্ধ বিদেশি সম্পদ অবমুক্ত করার শর্তে অনড় থাকে। ফলে মার্কিন প্রতিনিধিদল আর আলোচনা না বাড়িয়ে তা সমাপ্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে আর কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি।

এই অচলাবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। পশ্চিমাদের দাবি, ইরানের কাছে বর্তমানে অস্ত্র তৈরির উপযোগী সীমার কাছাকাছি প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি। ওয়াশিংটন এ মজুদ হস্তান্তরের চাপ দিলেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষ অধিকাংশ বিষয়ে একমত হলেও শেষ মুহূর্তের মাত্র ৫ শতাংশ জটিলতা এবং শুরুতেই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার মার্কিন দাবির কারণে আলোচনা চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে না।

সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করলে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। এর আগে, মার্চ থেকে ইরান বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের মাধ্যম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে চড়া টোল আদায় শুরু করেছিল। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান হুমকি দেয়, তাদের নিজেদের তেলবাহী জাহাজ চলাচল করতে না দিলে অন্য কোনো দেশের জাহাজকেও এ পথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ ও যুদ্ধ-পূর্ববর্তী মুক্ত চলাচলের স্থিতাবস্থায় ফিরে আসার মার্কিন দাবির রশি টানাটানির মাঝেই বর্তমানে এ শান্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ থমকে আছে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/