জবির ফুজির গলিতে মাসে কোটি টাকার ব্যবসা

জবির ফুজির গলিতে মাসে কোটি টাকার ব্যবসা
জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রধান ফটকের পাশেই অবস্থিত ছোট্ট একটি সরু পথ। বাহ্যিকভাবে সাধারণ মনে হলেও শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জীবনের প্রায় প্রতিটি ধাপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এর অস্তিত্ব। ক্লাস নোট থেকে শুরু করে থিসিস প্রিন্ট, ফটোকপি থেকে বাঁধাই, শিক্ষাজীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সেবার নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হয়ে উঠেছে ‘ফুজির গলি’।
বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক অঞ্চল শুধু শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনই মেটাচ্ছে না, বরং প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুরান ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসাবেও ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৫০টির মতো দোকান নিয়ে গড়ে ওঠা এই গলিতে প্রতি মাসে লেনদেনের পরিমাণ কোটি টাকার কাছাকাছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনের নিকটবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে ফুজির গলি। ক্লাস নোট, সিলেবাস, প্রশ্নব্যাংক, সাজেশন, অ্যাসাইনমেন্ট, সেমিনার পেপার, থিসিস প্রিন্ট কিংবা ফটোকপি সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কাজের জন্য প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা ভিড় করেন এখানে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই দোকানগুলোতে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। কেউ ক্লাসের নোট ফটোকপি করছেন, কেউবা অ্যাসাইনমেন্ট প্রিন্ট করাচ্ছেন। পরীক্ষার সময় এ ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তখন দোকানগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত হাসান বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফুজির গলি যেন এক ধরনের অ্যাকাডেমিক সহায়তা কেন্দ্র। ক্লাস নোট, হ্যান্ডআউট, আগের বছরের প্রশ্ন, সাজেশন কিংবা অ্যাসাইনমেন্ট প্রিন্ট সবকিছুই খুব সহজে পাওয়া যায় এখানে। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় আমাদের প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসতে হয়। অনলাইনে অনেক উপকরণ থাকলেও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রিন্ট, ফটোকপি বা বাঁধাইয়ের জন্য শেষ পর্যন্ত ফুজির গলির ওপরই নির্ভর করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার সঙ্গে এই গলির সম্পর্ক এখন অবিচ্ছেদ্য হয়ে গেছে।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘ফুজির গলি ছাড়া জবি শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জীবন কল্পনা করা কঠিন। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এখানে আসেন বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত কাজে। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সুবিধা নেই। সরু রাস্তা, বৈদ্যুতিক তারের ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত ভিড় অনেক সময় উদ্বেগ তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের স্বার্থে জায়গাটিকে আরও পরিকল্পিত ও নিরাপদ করে গড়ে তোলা।’
দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ সময়ে একটি দোকানে দৈনিক গড়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার ব্যবসা হয়। পরীক্ষার মৌসুমে এ আয় ১৫ হাজার টাকারও বেশি ছাড়িয়ে যায়। সে হিসাবে প্রতিটি দোকানের মাসিক আয় কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে। সব মিলিয়ে গলিটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিমাণ মাসে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি।
তবে দোকান মালিকদের অভিযোগ, পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে ওঠা এই গলিতে যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি এবং বৈদ্যুতিক ঝুঁকি দীর্ঘদিনের সমস্যা। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান দোকান ভাড়াও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
দীর্ঘদিন ধরে ফটোকপির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পলাশ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলে ব্যবসা ভালো হয়, আর ছুটি বা বন্ধের সময় বিক্রি অনেক কমে যায়। পরীক্ষার মৌসুমে কাজের চাপ এত বেশি থাকে যে অনেক সময় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, এক জায়গায় এত সেবা পাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের সময় ও খরচ দুটোই কমে। তবে ভাড়া বৃদ্ধি, বিদ্যুতের সমস্যা এবং অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতির মতো বিষয়গুলো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রধান ফটকের পাশেই অবস্থিত ছোট্ট একটি সরু পথ। বাহ্যিকভাবে সাধারণ মনে হলেও শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জীবনের প্রায় প্রতিটি ধাপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এর অস্তিত্ব। ক্লাস নোট থেকে শুরু করে থিসিস প্রিন্ট, ফটোকপি থেকে বাঁধাই, শিক্ষাজীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সেবার নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হয়ে উঠেছে ‘ফুজির গলি’।
বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক অঞ্চল শুধু শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনই মেটাচ্ছে না, বরং প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুরান ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসাবেও ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৫০টির মতো দোকান নিয়ে গড়ে ওঠা এই গলিতে প্রতি মাসে লেনদেনের পরিমাণ কোটি টাকার কাছাকাছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনের নিকটবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে ফুজির গলি। ক্লাস নোট, সিলেবাস, প্রশ্নব্যাংক, সাজেশন, অ্যাসাইনমেন্ট, সেমিনার পেপার, থিসিস প্রিন্ট কিংবা ফটোকপি সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কাজের জন্য প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা ভিড় করেন এখানে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই দোকানগুলোতে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। কেউ ক্লাসের নোট ফটোকপি করছেন, কেউবা অ্যাসাইনমেন্ট প্রিন্ট করাচ্ছেন। পরীক্ষার সময় এ ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তখন দোকানগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত হাসান বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফুজির গলি যেন এক ধরনের অ্যাকাডেমিক সহায়তা কেন্দ্র। ক্লাস নোট, হ্যান্ডআউট, আগের বছরের প্রশ্ন, সাজেশন কিংবা অ্যাসাইনমেন্ট প্রিন্ট সবকিছুই খুব সহজে পাওয়া যায় এখানে। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় আমাদের প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসতে হয়। অনলাইনে অনেক উপকরণ থাকলেও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রিন্ট, ফটোকপি বা বাঁধাইয়ের জন্য শেষ পর্যন্ত ফুজির গলির ওপরই নির্ভর করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার সঙ্গে এই গলির সম্পর্ক এখন অবিচ্ছেদ্য হয়ে গেছে।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘ফুজির গলি ছাড়া জবি শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জীবন কল্পনা করা কঠিন। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এখানে আসেন বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত কাজে। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সুবিধা নেই। সরু রাস্তা, বৈদ্যুতিক তারের ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত ভিড় অনেক সময় উদ্বেগ তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের স্বার্থে জায়গাটিকে আরও পরিকল্পিত ও নিরাপদ করে গড়ে তোলা।’
দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ সময়ে একটি দোকানে দৈনিক গড়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার ব্যবসা হয়। পরীক্ষার মৌসুমে এ আয় ১৫ হাজার টাকারও বেশি ছাড়িয়ে যায়। সে হিসাবে প্রতিটি দোকানের মাসিক আয় কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে। সব মিলিয়ে গলিটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিমাণ মাসে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি।
তবে দোকান মালিকদের অভিযোগ, পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে ওঠা এই গলিতে যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি এবং বৈদ্যুতিক ঝুঁকি দীর্ঘদিনের সমস্যা। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান দোকান ভাড়াও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
দীর্ঘদিন ধরে ফটোকপির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পলাশ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলে ব্যবসা ভালো হয়, আর ছুটি বা বন্ধের সময় বিক্রি অনেক কমে যায়। পরীক্ষার মৌসুমে কাজের চাপ এত বেশি থাকে যে অনেক সময় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, এক জায়গায় এত সেবা পাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের সময় ও খরচ দুটোই কমে। তবে ভাড়া বৃদ্ধি, বিদ্যুতের সমস্যা এবং অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতির মতো বিষয়গুলো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

জবির ফুজির গলিতে মাসে কোটি টাকার ব্যবসা
জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রধান ফটকের পাশেই অবস্থিত ছোট্ট একটি সরু পথ। বাহ্যিকভাবে সাধারণ মনে হলেও শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জীবনের প্রায় প্রতিটি ধাপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এর অস্তিত্ব। ক্লাস নোট থেকে শুরু করে থিসিস প্রিন্ট, ফটোকপি থেকে বাঁধাই, শিক্ষাজীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সেবার নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হয়ে উঠেছে ‘ফুজির গলি’।
বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক অঞ্চল শুধু শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনই মেটাচ্ছে না, বরং প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুরান ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসাবেও ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৫০টির মতো দোকান নিয়ে গড়ে ওঠা এই গলিতে প্রতি মাসে লেনদেনের পরিমাণ কোটি টাকার কাছাকাছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনের নিকটবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে ফুজির গলি। ক্লাস নোট, সিলেবাস, প্রশ্নব্যাংক, সাজেশন, অ্যাসাইনমেন্ট, সেমিনার পেপার, থিসিস প্রিন্ট কিংবা ফটোকপি সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কাজের জন্য প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা ভিড় করেন এখানে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই দোকানগুলোতে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। কেউ ক্লাসের নোট ফটোকপি করছেন, কেউবা অ্যাসাইনমেন্ট প্রিন্ট করাচ্ছেন। পরীক্ষার সময় এ ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তখন দোকানগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত হাসান বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফুজির গলি যেন এক ধরনের অ্যাকাডেমিক সহায়তা কেন্দ্র। ক্লাস নোট, হ্যান্ডআউট, আগের বছরের প্রশ্ন, সাজেশন কিংবা অ্যাসাইনমেন্ট প্রিন্ট সবকিছুই খুব সহজে পাওয়া যায় এখানে। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় আমাদের প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসতে হয়। অনলাইনে অনেক উপকরণ থাকলেও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রিন্ট, ফটোকপি বা বাঁধাইয়ের জন্য শেষ পর্যন্ত ফুজির গলির ওপরই নির্ভর করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার সঙ্গে এই গলির সম্পর্ক এখন অবিচ্ছেদ্য হয়ে গেছে।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘ফুজির গলি ছাড়া জবি শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জীবন কল্পনা করা কঠিন। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এখানে আসেন বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত কাজে। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সুবিধা নেই। সরু রাস্তা, বৈদ্যুতিক তারের ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত ভিড় অনেক সময় উদ্বেগ তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের স্বার্থে জায়গাটিকে আরও পরিকল্পিত ও নিরাপদ করে গড়ে তোলা।’
দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ সময়ে একটি দোকানে দৈনিক গড়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার ব্যবসা হয়। পরীক্ষার মৌসুমে এ আয় ১৫ হাজার টাকারও বেশি ছাড়িয়ে যায়। সে হিসাবে প্রতিটি দোকানের মাসিক আয় কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে। সব মিলিয়ে গলিটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিমাণ মাসে প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি।
তবে দোকান মালিকদের অভিযোগ, পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে ওঠা এই গলিতে যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি এবং বৈদ্যুতিক ঝুঁকি দীর্ঘদিনের সমস্যা। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান দোকান ভাড়াও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
দীর্ঘদিন ধরে ফটোকপির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পলাশ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলে ব্যবসা ভালো হয়, আর ছুটি বা বন্ধের সময় বিক্রি অনেক কমে যায়। পরীক্ষার মৌসুমে কাজের চাপ এত বেশি থাকে যে অনেক সময় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, এক জায়গায় এত সেবা পাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের সময় ও খরচ দুটোই কমে। তবে ভাড়া বৃদ্ধি, বিদ্যুতের সমস্যা এবং অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতির মতো বিষয়গুলো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’




