শিরোনাম

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

সিটিজেন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
তেলের মূল্য বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের অন্যতম প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরান পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রণালিটি খুলে দেওয়ার খবরে তেলের দাম কমলেও শনিবার (১৮ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে ইরান সেটি পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দেয়।

এর ফলে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ৯৬ দশমিক ৮৮ ডলারে এবং মার্কিন ক্রুডের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রণালিটি পুনরায় বন্ধের ঘোষণার পর এটি ঠিক কতটা উন্মুক্ত আছে বা কোন জাহাজগুলো কখন চলাচল করতে পারবে, তা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শনিবার প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকারী ট্যাংকারগুলোর ওপর ইরানি গানবোট থেকে গুলি চালানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার এটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে জানান, মার্কিন নৌ অবরোধ ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এর জেরে রবিবার অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ তুসকাকে লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বাহিনী কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জাহাজটি জব্দ করে। এ ঘটনাকে ইরানের সামরিক বাহিনী একে মার্কিন সশস্ত্র জলদস্যুতা আখ্যা দিয়ে শিগগিরই এর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, রবিবার কোনো তেলের ট্যাংকার এ প্রণালি অতিক্রম করতে পারেনি।

এদিকে, উত্তপ্ত এ পরিস্থিতির মাঝেই শান্তি আলোচনার জন্য একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, বুধবারের (২২ এপ্রিল) মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে তিনি আর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবেন না। সিএনএন-এর সূত্রমতে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ইরানি আলোচকদের পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে তা এখনো নিশ্চিত করেনি। ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো থেকে এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছে।

এ ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব গভীরভাবে পড়েছে মার্কিন অর্থনীতিতেও। রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের জাতীয় গড় দাম ৪ দশমিক ০৫ ডলারে পৌঁছায়। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, এ দাম আগামী বছরের আগে ৩ ডলারের নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে চলতি বছরের শেষের দিকেও এ বেঞ্চমার্কে পৌঁছানোর সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্যদিকে শেয়ার বাজারেও এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। ডাও জোনসের ফিউচার সূচক শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ বা ৪৫১ পয়েন্ট কমেছে এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাকের ফিউচার সূচক উভয়েই প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ নিম্নমুখী হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

/এমএকে/