শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খসড়া প্রকাশ

সিটিজেন ডেস্ক
সিটিজেন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খসড়া প্রকাশ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও ইরানের পতাকা। ছবি: এআই

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার এক বিশেষ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই চুক্তি উভয় দেশের মধ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে।

নেটওয়ার্কটির হাতে আসা এক্সক্লুসিভ তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় স্থল, সমুদ্র এবং আকাশপথসহ সকল ক্ষেত্রে অবিলম্বে ব্যাপক ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। উভয় পক্ষই সামরিক, বেসামরিক বা অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু না করা এবং সামরিক অভিযান ও গণমাধ্যম যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধের বিষয়ে পারস্পরিক অঙ্গীকার করেছে। চুক্তিতে একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে নৌচলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি যৌথ প্রক্রিয়া গঠন করা হবে। এছাড়া যেসব বিষয়ে এখনো মতানৈক্য রয়েছে, তা নিরসনে আগামী ৭ দিনের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি পূর্ণাঙ্গ সমর্থন ব্যক্ত করা এ চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইরানের শর্ত পালনের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র পর্যায়ক্রমে তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নেবে। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই চুক্তিটি কার্যকর হবে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

তবে এ যুগান্তকারী অগ্রগতি সত্ত্বেও চুক্তির কিছু চূড়ান্ত বিষয়ে এখনো দরকষাকষি চলছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে কিছু ইতিবাচক লক্ষণের কথা বলেছিলেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করে, তাহলে এ সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্যের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

সূত্র: আল আরাবিয়া

/এমএকে/