শিরোনাম

সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা

সিটিজেন ডেস্ক
সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (মাঝে)। ছবি: ফক্স নিউজ

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এতে অনুমোদন দেননি। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি পাবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নির্দিষ্ট করা থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকেও কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো কঠিন বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করা হবে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের নেতৃত্বের অনুমোদন পেলে এটি হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে চুক্তির অগ্রগতির বিষয়টি সামনে এলো।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনো চুক্তিটি অনুমোদন করেননি। এ বিষয়ে ইরানও এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। প্রস্তাবিত এই চুক্তিটির খবর সর্বপ্রথম প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

আলোচনা দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, চুক্তির খসড়াটি এখনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত করা হয়নি।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনও লক্ষ্যে পৌঁছাইনি। তবে খুব কাছাকাছি আছি এবং এ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।’

‘আমি নিশ্চয়তা দিতে পারছি না যে আমরা সেখানে পৌঁছাতে পারব, কিন্তু এই মুহূর্তে আমি এ ব্যাপারে বেশ আশাবাদী,’ বলেন ভ্যান্স।

ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কয়েকবার বলেছে যে যুদ্ধ বন্ধের একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। কিন্তু প্রতিবারই ইরান সেই দাবিগুলোকে অস্বীকার করেছে বা গুরুত্বহীন বলে দেখিয়েছে।

মার্চের মাঝামাঝি থেকে ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যুদ্ধের অবসান আসন্ন। যদিও উভয় পক্ষই কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য প্রকাশ্যে তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখায়নি। ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশি সম্পদ ছাড় এবং অঞ্চলটি থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

আর ওয়াশিংটন ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে। তেহরানের মতে তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি পরিচালিত করছে এবং এটা তাদের অধিকার।

ইরান বলছে, যেকোনো শান্তি চুক্তিতে লেবাননে মার্কিন মিত্র ইসরায়েলের হামলাও বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সেই সংঘাত প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। হিজবুল্লাহর খোঁজে লেবাননের গভীরে অভিযান চালিয়ে ইসরায়েল কয়েক লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এক হামলায় তাদের একজন সৈন্য নিহত হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

/জেএইচ/