শিরোনাম

ঝুঁকিতে আইফোন ব্যবহারকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

সিটিজেন ডেস্ক
সিটিজেন ডেস্ক
ঝুঁকিতে আইফোন ব্যবহারকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
প্রতীকী ছবি

আইফোন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে নতুন কৌশলে আর্থিক প্রতারণা চালাচ্ছে একটি চক্র। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ভুয়া ‘অ্যাপল পে’ সতর্কবার্তার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের আতঙ্কিত করে ব্যাংক হিসাবের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই এই প্রতারকদের মূল উদ্দেশ্য।

প্রতারকরা প্রথমে ব্যবহারকারীর মোবাইলে একটি এসএমএস পাঠায়। সেখানে বলা হয়, অ্যাপল পে-তে সন্দেহজনক কোনো লেনদেন শনাক্ত হয়েছে অথবা কোনো অর্থপ্রদান সম্পন্ন হয়নি। বার্তাগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে সেগুলোকে অ্যাপলের পাঠানো আসল সতর্কবার্তা বলে মনে হয়।

এসএমএসে সাধারণত একটি ফোন নম্বর বা লিংক দেওয়া থাকে। ব্যবহারকারীকে দ্রুত সেখানে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান করতে বলা হয়। কেউ সেই নম্বরে ফোন করলে প্রতারকরা নিজেদের অ্যাপলের কর্মী, ব্যাংকের কর্মকর্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপর তারা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে উপস্থাপন করে ব্যবহারকারীকে ভয় দেখায়।

বলা হয়, ব্যাংক হিসাব বা অর্থ নিরাপদ রাখতে দ্রুত টাকা অন্য একটি ‘সুরক্ষিত’ অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতে হবে। কখনো কখনো নগদ অর্থ তুলে নেওয়া, অ্যাপল পে বা অ্যাপল ক্যাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানো কিংবা গিফট কার্ড কিনে কোড দেওয়ার মতো নির্দেশও দেওয়া হয়।

সম্প্রতি এমনই এক ঘটনায় এক নারীকে ১৫ হাজার ডলার ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়ার জন্য রাজি করানো হয়েছিলো। তবে শেষ মুহূর্তে ব্যাংকের এক কর্মী বিষয়টি সন্দেহজনক বলে সতর্ক করায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

অচেনা নম্বর থেকে অ্যাপল পে নিয়ে সতর্কবার্তা এলে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে কোনো অপরিচিত নম্বরে ফোন করতে বলা হলে বা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখা উচিত।

এ ছাড়া- অর্থ অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ।

  1. ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তুলে নেওয়ার পরামর্শ।
  2. অ্যাপল পে, অ্যাপল ক্যাশ বা গিফট কার্ডে টাকা পাঠাতে বলা।
  3. পাসওয়ার্ড বা ভেরিফিকেশন কোড চাওয়া।
  4. অচেনা লিংকে ক্লিক করতে বলা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রতারণায় সাধারণত কোনো প্রযুক্তিগত হ্যাকিংয়ের প্রয়োজন হয় না। বরং মানুষের ভয়, উদ্বেগ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাকে কাজে লাগিয়েই প্রতারকরা সফল হওয়ার চেষ্টা করে। ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা এবং জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমিয়ে দেওয়াও তাদের অন্যতম কৌশল।

/এসবি/