শিরোনাম

যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের ২০ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলা

সিটিজেন ডেস্ক
যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের ২০ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলা
স্যাটেলাইট চিত্রে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার মাত্রা ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তির চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ। ফেব্রুয়ারিতে তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের হামলায় ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সোমবার (১ জুন) বিবিসির স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে।

এ হামলায় থাড ব্যাটারি, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং রাডারসহ শত শত কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। লেবানন ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এর আওতায় ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আক্রমণ চালায়। হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি আড়াল করতে যুক্তরাষ্ট্র স্যাটেলাইট কোম্পানি প্ল্যানেটের ওপর ছবি প্রকাশে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ করলেও, বিকল্প উৎস ও পুরোনো ছবির তুলনামূলক বিশ্লেষণে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন স্থাপনার সংখ্যা ২৮টি পর্যন্ত হতে পারে। এর মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানের ঘাঁটিগুলো উল্লেখযোগ্য। স্যাটেলাইট চিত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে থাকা প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের তিনটি অত্যাধুনিক থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের ক্ষতি শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে প্রায় ৭০ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি (E-3 Sentry) নজরদারি বিমান এবং কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে জ্বালানি বাঙ্কার ও সেনা আবাসন ধ্বংসের প্রমাণ মিলেছে। পেন্টাগনের মে মাসের হিসাব অনুযায়ী, এ সংঘাতে মোট খরচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ বিলিয়ন ডলার। এর বড় অংশই ব্যয় হবে ধ্বংস হওয়া ৪২টি বিমান ও ড্রোনসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে।

যুদ্ধ বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, সংঘাত চলাকালে ইরান তাদের কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। শুরুতে আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করতে তারা বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলেও, পরবর্তীতে সস্তা ড্রোন ব্যবহার করে উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালাতে শুরু করে। MAIAR-এর বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত পরিবর্তনের পরও মার্কিন বাহিনী সময়মতো তাদের বিমানগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়। এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো জাতি বা ভূখণ্ড আর মার্কিন ঘাঁটির ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে না এবং আমেরিকার জন্য এ অঞ্চলে আর কোনো নিরাপদ স্থান অবশিষ্ট নেই।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চরম হুমকির মুখে রয়েছে। দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর আইআরজিসি (IRGC) পুনরায় একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষক ড. কেলি গ্রিকোে বলেছেন, চলমান সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আকাশপ্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং ইন্টারসেপ্টরের মজুত এতটাই কমে গেছে যে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলো ভয়াবহ ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। দ্রুত সরঞ্জাম সরবরাহের কোনো বিকল্প পথ না থাকায়, নতুন করে ইরানি আক্রমণ শুরু হলে তা প্রতিহত করা পেন্টাগনের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

সূত্র: বিবিসি

/এমএকে/