শিরোনাম

ভারতে হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাটছাট, পেছানো হচ্ছে বিয়ের অনুষ্ঠান

সিটিজেন ডেস্ক
ভারতে হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাটছাট, পেছানো হচ্ছে বিয়ের অনুষ্ঠান
ভারতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ভোজের আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এতে চাপে পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ভোক্তারাও বিপাকে পড়েছেন।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে গ্যাস সিলেন্ডারের জন্য দোকানগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। এমনকি গ্যাসের অভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও পেছানো হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সীমিত করা হয়েছে বিরিয়ানি ও মিষ্টি তৈরিও।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউ শহরের এক কনে জানান, তিনি ভাবতেও পারেননি তার বিয়ের দিন বাবা-দাদাদের গিয়ে সিলিন্ডারের জন্য লাইন দিতে হবে।

ভারতের দক্ষিণ প্রান্তে তামিলনাডু রাজ্যের ম্যারেজ হল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, মার্চ-এপ্রিল মাসে ওই রাজ্যে প্রায় ২০ হাজার বিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। যার জন্য দুই লাখ গ্যাস সিলিন্ডার দরকার। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে কীভাবে এতসংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার নিশ্চিত করা যাবে, তা নিয়ে চিন্তিত তারা।

শুধু এই দুই শহরে নয়, ভারতজুড়ে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহের সংকটের কারণে বহু দম্পতিকে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পেছাতে হয়েছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গে এই সময় কয়েক সপ্তাহের জন্য বিয়ের মৌসুমে বিরতি থাকে, তবে এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া নতুন মৌসুমে কী হবে, সেই চিন্তায় হবু দম্পতি এবং বিয়ের সঙ্গে যুক্ত পেশাদাররা।

পশ্চিমবঙ্গের এক ক্যাটারিং সংস্থার মালিক জানিয়েছেন, ‘ফাল্গুন মাসে বিয়ের শুভ তিথিগুলো শেষ হয়ে গেছে। বাংলা ক্যালেন্ডারের চৈত্র মাসে সাধারণত বিবাহ অনুষ্ঠান হয় না পশ্চিমবঙ্গে। তবে সিলিন্ডার সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। বৈশাখ মাস পড়লেই বিয়ের মৌসুম আবার শুরু হবে, তখন পরিস্থিতি কেমন হবে তা এখনও জানা নেই।’

ভারতজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে চলেছে। দেশটির বিভিন্ন বাণিজ্যিক খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ক্যাটারিং সংস্থা ও রেস্তোরাঁগুলো আগামী ১০ দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিয়ের বুকিং বাতিলের আশঙ্কা প্রকাশ করছে।

কলকাতার ছোট দোকান ও রেস্তোরাঁগুলো এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা না পেলেও একাধিক দোকান মালিক সিলিন্ডারের ঘাটতির কথা জানিয়েছেন। অনেকেই আগে থেকেই কয়লা মজুদ করতে শুরু করেছেন। শহরের ‘টিফিন এলাকা’ ডেকার্স লেনের খাবারের দোকানগুলো ইতিমধ্যেই কয়লার আগুনে রান্না করছে।

তবে মিষ্টির দোকানগুলোতে প্রভাব চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে কড়াপাকের মিষ্টি তৈরি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। নামি মিষ্টির দোকানগুলো সীমিতসংখ্যক মিষ্টি তৈরি করছে। কিন্তু আগামী সপ্তাহে আদৌ জোগান স্বাভাবিক রাখা যাবে কি না তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন কলকাতার মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। বিখ্যাত মিহিদানা, সন্দেশ তৈরিতে কাটছাঁট শুধু কলকাতা নয়, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়ও একই ছবি দেখা যাচ্ছে।

ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির পাশাপাশি এখানকার খাবার ও মিষ্টির আকর্ষণে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক রাজ্যটিতে ভ্রমণে আসেন। তবে চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে রাজ্যের পর্যটন শিল্পেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে ভারত সরকার বারবার বলছে যে দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জ্বালানির ঘাটতির খবর সামনে আসছে। কলকাতাসহ একাধিক বড় শহরে গ্যাস বিতরণ কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে মানুষকে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সব মহলেই উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহে টান পড়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

/জেএইচ/